ChamberBD Logo ChamberBD
Illustration of a healthy heart with a lipid profile report and vegetables

উচ্চ কোলেস্টেরল: খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও লিপিড প্রোফাইল রিপোর্টের মানে

উচ্চ কোলেস্টেরলে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না, আর এটাই একে বিপজ্জনক করে তোলে। বাংলাদেশজুড়ে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বেশি ভাজাপোড়া ও ফাস্ট ফুড এবং কম শারীরিক পরিশ্রম কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা নীরবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ভালো খবর হলো, সঠিক খাদ্য, জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ কোলেস্টেরল সবচেয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকিগুলোর একটি। অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মতো নয়—অভ্যাস বদলালে কয়েক মাসের মধ্যেই আপনি প্রায়ই সত্যিকারের উন্নতি দেখতে পাবেন।

এলডিএল, এইচডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড মানে কী?

কোলেস্টেরল একধরনের চর্বি, যা শরীরের অল্প পরিমাণে দরকার, তবে এর ভারসাম্যই আসল কথা। এলডিএল (LDL) কে প্রায়ই "খারাপ" কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি ধমনির দেয়ালে জমে; আর এইচডিএল (HDL) হলো "ভালো" ধরন, যা বাড়তি কোলেস্টেরল সরাতে সাহায্য করে। ট্রাইগ্লিসারাইড হলো আরেক ধরনের রক্তের চর্বি, যা মিষ্টি খাবার, ভাজাপোড়া ও বাড়তি ওজনে বেড়ে যায়। সুস্থ প্রোফাইল মানে কম এলডিএল, বেশি এইচডিএল আর নিয়ন্ত্রিত ট্রাইগ্লিসারাইড।

উচ্চ কোলেস্টেরল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বছরের পর বছর বাড়তি এলডিএল কোলেস্টেরল ধমনির ভেতরে শক্ত আস্তরণ বা প্লাক তৈরি করে, ধমনি সরু করে দেয় এবং রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। কোনো প্লাক ফেটে গেলে তা ধমনি সম্পূর্ণ বন্ধ করে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এ কারণেই কোলেস্টেরলের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক-সংকেতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যা সবার চেনা উচিত। আগেভাগে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ হৃদয় ও মস্তিষ্ক রক্ষার অন্যতম সেরা উপায়।

কখন লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করাবেন?

লিপিড প্রোফাইল একটি সহজ রক্ত পরীক্ষা, যা মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল, এইচডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড মাপে। সঠিক ফলাফলের জন্য সাধারণত ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা খালি পেটে থেকে এটি করা হয়। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত, আর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে কম বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে আরও আগেই। কত ঘন ঘন আবার পরীক্ষা করবেন, তা ডাক্তার বলে দেবেন। ফলাফল স্বাভাবিক হলে কয়েক বছর পর পর পরীক্ষা করালেই সাধারণত যথেষ্ট, তবে অস্বাভাবিক হলে আরও ঘন ঘন ফলোআপ লাগতে পারে।

বাঙালিরা খাদ্য ও জীবনযাপনে কীভাবে কোলেস্টেরল কমাবেন?

দৈনন্দিন অভ্যাস বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বাঙালি রান্নাঘর ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই কিছু সহজ পরিবর্তন এখানে দেওয়া হলো।

  • ঘি, ডালডা, মাখন এবং সিঙ্গাড়া-পুরির মতো ভাজাপোড়া কমিয়ে দিন।
  • লাল মাংস ও কলিজা-মগজ কমিয়ে বরং মাছ, চামড়া ছাড়া মুরগি ও ডাল বেছে নিন।
  • রান্নার তেল পরিমিত ব্যবহার করুন এবং একই তেল বারবার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিন বেশি করে শাকসবজি, ওটস, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন অন্তত ৩০ মিনিট জোরে হাঁটুন এবং সুস্থ ওজনের দিকে এগোন।
  • ধূমপান ছাড়ুন—এটি ভালো এইচডিএল কোলেস্টেরল কমায় ও ধমনির ক্ষতি করে।

স্ট্যাটিন ওষুধকে কি ভয় পাওয়া উচিত?

স্ট্যাটিন হলো এমন ওষুধ যা এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট না হলে বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি হলে দেওয়া হয়। অনেকে একে ভয় পান বা মাত্রা ভালো হলেই নিজে থেকে বন্ধ করে দেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। তত্ত্বাবধানে স্ট্যাটিন সাধারণত নিরাপদ, আর শুরু, পরিবর্তন বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ডাক্তারের। নির্ধারিত ওষুধ আমাদের মেডিসিন ডিরেক্টরিতে দেখে নিতে পারেন, তবে কখনও নিজে ডোজ বদলাবেন না। চুপচাপ বন্ধ করে না দিয়ে পেশিতে ব্যথা বা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ হলে ডাক্তারকে জানান।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

লিপিড প্রোফাইল অস্বাভাবিক হলে, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে সামগ্রিক ঝুঁকি যাচাই করতে ডাক্তার দেখান। বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, হাত বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, কিংবা হঠাৎ দুর্বলতা ও কথা জড়িয়ে যাওয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন—এগুলো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক খুঁজে নিতে পারেন।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?