ChamberBD Logo ChamberBD

ডায়াবেটিস · Diabetes

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা, যেখানে শরীর যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারায় বা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় রক্তে সুগার (গ্লুকোজ) বেশি থাকে। সঠিক যত্ন—খাবার, ব্যায়াম, পর্যবেক্ষণ ও ওষুধে—বেশিরভাগ মানুষ সুস্থ জীবনযাপন করে জটিলতা এড়াতে পারেন।

ডায়াবেটিস কী?

ইনসুলিন একটি হরমোন যা রক্ত থেকে গ্লুকোজকে কোষে নিয়ে গিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করে। ডায়াবেটিসে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে শরীর প্রায় কোনো ইনসুলিন তৈরি করে না; সবচেয়ে সাধারণ টাইপ ২-তে শরীর ইনসুলিনের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়।

লক্ষণ

রক্তে সুগার বেশি হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ধীরে ধীরে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

  • খুব পিপাসা পাওয়া এবং বারবার—বিশেষত রাতে—প্রস্রাব হওয়া
  • ক্লান্তি ও কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া
  • ঝাপসা দৃষ্টি এবং কাটা বা ক্ষত দেরিতে শুকানো
  • ত্বক বা মূত্রনালির ঘনঘন সংক্রমণ

কারণ ও ঝুঁকির বিষয়

টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন অবস্থা এবং জীবনযাত্রার কারণে হয় না। টাইপ ২ বেশি ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর খাবার, বাড়তি বয়স ও পারিবারিক ইতিহাসের সাথে জড়িত। বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়দের কম বয়স ও কম ওজনেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।

রোগ নির্ণয়

ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ, HbA1c (প্রায় ৩ মাসের গড় সুগার), ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট বা র‍্যান্ডম গ্লুকোজ পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসক রোগ নিশ্চিত করেন এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মতো সম্পর্কিত সমস্যাও দেখেন।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

ব্যবস্থাপনার ভিত্তি সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ। টাইপ ২-তে ট্যাবলেট বা ইনসুলিন লাগতে পারে, আর টাইপ ১-এ সবসময় ইনসুলিন লাগে। চিকিৎসক আপনার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পর্যবেক্ষণ ঠিক করেন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ওষুধ শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

প্রতিরোধ ও জটিলতা

সুস্থ ওজন রাখা, ভালো খাবার ও সক্রিয় থাকার মাধ্যমে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রায়ই দেরি করানো বা প্রতিরোধ করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস সময়ের সাথে চোখ, কিডনি, স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড ও পা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই জটিলতা ঠেকাতে নিয়মিত পরীক্ষা ও ভালো সুগার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

অতিরিক্ত পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, ক্লান্তি বা কারণ ছাড়া ওজন কমার মতো লক্ষণ থাকলে, কিংবা ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক দেখান। খুব বেশি সুগার, বিভ্রান্তি, বমি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন—এটি ডায়াবেটিসের জরুরি অবস্থা হতে পারে।

ডায়াবেটিস চিকিৎসা করেন এমন ডাক্তার

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস এর জন্য যাচাইকৃত বিশেষজ্ঞ খুঁজুন ও বুক করুন:

প্রচলিত ওষুধ

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ডায়াবেটিস কি পুরোপুরি সারে?

স্থায়ী নিরাময় নেই, তবে ওজন কমানো ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রায়ই ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও কখনো রেমিশনে নেওয়া যায়। টাইপ ১-এ সবসময় ইনসুলিন লাগে। নিয়মিত যত্ন জটিলতা প্রতিরোধ করে।

চিনি খেলে কি ডায়াবেটিস হয়?

শুধু চিনি সরাসরি ডায়াবেটিসের কারণ নয়, তবে বেশি চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ওজন বাড়ায়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সামগ্রিক খাবার, ওজন ও পরিশ্রমই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে সুগার কত হলে ডায়াবেটিস?

নির্দিষ্ট পরীক্ষার মান (যেমন ফাস্টিং গ্লুকোজ বা HbA1c) দিয়ে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়, তবে সঠিক মান ও আপনার জন্য তার অর্থ চিকিৎসকের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

ডায়াবেটিসের জন্য কোন ডাক্তার?

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডায়াবেটিস, বিশেষত জটিল বা টাইপ ১ ক্ষেত্রে দেখেন। সাধারণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস একজন সাধারণ চিকিৎসকও নির্ণয় ও পরিচালনা করে প্রয়োজনে রেফার করতে পারেন।