ChamberBD Logo ChamberBD
Illustration of healthy teeth, toothbrush and dental care protecting against cavities

দাঁতের যত্ন: ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ ও মুখে দুর্গন্ধ প্রতিরোধ

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ দাঁতের কথা ভাবেন তখনই, যখন ব্যথা শুরু হয় — ততদিনে ছোট ও সস্তা চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায় কষ্টের আর ব্যয়বহুল। দিনে কয়েকবার চিনি দেওয়া দুধ-চা, বিস্কুট, পান-সুপারি আর রাতে ব্রাশ না করার অভ্যাস বছরের পর বছর নীরবে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে চলে। আশার কথা হলো, প্রতিদিন কয়েক মিনিটের সঠিক যত্নেই বেশিরভাগ ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ আর মুখের দুর্গন্ধ ঠেকানো যায়।

দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম কী?

নরম ব্রাশ আর ফ্লোরাইড (fluoride) টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দুইবার, পুরো দুই মিনিট ব্রাশ করুন। রাতের ব্রাশটাই সবচেয়ে জরুরি — ঘুমের সময় লালা কমে যায়, ফলে দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাবারে ব্যাকটেরিয়া নির্বিঘ্নে কাজ চালায়। জোরে সামনে-পেছনে ঘষবেন না; মাড়ির ধার ঘেঁষে আলতো গোল গোল করে ব্রাশ করুন, নইলে এনামেল ও মাড়ি ক্ষয়ে যায়।

  • প্রতি ৩ মাসে ব্রাশ বদলান; ব্রিসল ছড়িয়ে গেলে আরও আগে।
  • ব্রাশের পরপরই অনেক পানি দিয়ে কুলি করবেন না — ফেনাটুকু থুতু দিয়ে ফেলে দিন, যাতে ফ্লোরাইড কাজ করতে পারে।
  • জিভ আলতো করে পরিষ্কার করুন; দুর্গন্ধ তৈরির ব্যাকটেরিয়া জিভেই জমে।

ক্যাভিটি আসলে কেন হয়?

দাঁতের ক্ষয় কতটা চিনি খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে কতবার খাচ্ছেন তার ওপর। প্রতি কাপ মিষ্টি চা, বিস্কুট বা কোল্ড ড্রিংক মুখের ব্যাকটেরিয়াকে নতুন করে চিনি জোগায়, আর প্রতিবার প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এনামেল-ক্ষয়কারী অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই দিনে ছয়বার অল্প অল্প মিষ্টি খাওয়া, খাবারের সঙ্গে একবার মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে দাঁতের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সতর্কতা: পান, সুপারি, জর্দা ও গুল দাঁতে দাগ ফেলে, দাঁত ক্ষয় করে, মাড়ি নষ্ট করে এবং সবচেয়ে বড় কথা — মুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। মুখে সাদা বা লাল ছোপ, কিংবা দুই সপ্তাহেও না শুকানো ঘা দেখলে দেরি না করে পরীক্ষা করান।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া স্বাভাবিক নয়

ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে সেটি মাড়ির রোগ (gingivitis) — 'বেশি জোরে ব্রাশ করেছি' ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। মাড়ির ধারে জমা প্লাক মাড়িতে প্রদাহ তৈরি করে; চিকিৎসা না করালে তা পেরিওডন্টাইটিসে (periodontitis) গড়াতে পারে — দাঁত ধরে রাখা হাড় ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত নড়ে যায়। ফোলা বা গাঢ় লাল মাড়ি, দাঁত থেকে মাড়ি সরে যাওয়া আর লেগে থাকা দুর্গন্ধও এই রোগের লক্ষণ। ডায়াবেটিস থাকলে মাড়ির রোগ আগে ও বেশি মাত্রায় হয়, আবার মাড়ির সংক্রমণ রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে — ডায়াবেটিস থাকলে আমাদের ডায়াবেটিস খাদ্যতালিকা লেখাটি পড়ুন এবং মাড়ির যত্নে দ্বিগুণ মনোযোগ দিন।

মুখে দুর্গন্ধ: মিন্ট নয়, কারণ খুঁজুন

লেগে থাকা মুখের দুর্গন্ধের উৎস সাধারণত মুখের ভেতরেই: দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার, মাড়ির রোগ, জিভে জমা ময়লা, শুকনো মুখ বা ধূমপান। দিনে একবার ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন — সাধারণ ব্রাশ ওই জায়গায় পৌঁছাতেই পারে না। ভালোভাবে পরিষ্কারের পরও দুর্গন্ধ না কমলে ডেন্টিস্টকে দিয়ে লুকানো ক্যাভিটি বা মাড়ির পকেট আছে কি না দেখান; কখনো কখনো সাইনাস, পাকস্থলী বা অন্য সমস্যাও দায়ী হতে পারে।

শিশুর দাঁতের যত্ন প্রথম দাঁত থেকেই

  • দুধ বা মিষ্টি কিছু ভরা ফিডার মুখে দিয়ে শিশুকে ঘুম পাড়াবেন না — এতে 'বটল ক্যারিজ' হয়ে সামনের দাঁতগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই চালের দানার সমান ফ্লোরাইড পেস্ট দিয়ে ব্রাশ শুরু করুন।
  • দুধদাঁতও গুরুত্বপূর্ণ — এগুলো স্থায়ী দাঁতের জায়গা ধরে রাখে; তাই দুধদাঁতের ক্যাভিটিরও চিকিৎসা করান।
  • প্রথম জন্মদিনের আশপাশে শিশুকে একবার ডেন্টিস্ট দেখান, আর চেক-আপকে ভয়ের ঘটনা নয়, অভ্যাস বানান।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

কোনো ব্যথা না থাকলেও প্রতি ৬-১২ মাসে একবার ডেন্টিস্টের কাছে চেক-আপ ও স্কেলিং করান — দাঁতের বেশিরভাগ সমস্যা যখন সহজে সারানো যায়, তখন কোনো কষ্টই টের পাওয়া যায় না। আর নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখলে দেরি করবেন না:

  • দাঁতে ব্যথা, ঠান্ডা-গরমে শিরশির বা চিবোতে গেলে ব্যথা
  • নিয়মিত মাড়ি থেকে রক্ত, বা দাঁত-মাড়ির ফাঁকে পুঁজ
  • প্রাপ্তবয়স্ক দাঁত নড়ে যাওয়া
  • দুই সপ্তাহেও না শুকানো মুখের ঘা, বা সাদা/লাল ছোপ
  • জ্বরসহ মুখ বা চোয়াল ফুলে যাওয়া — এটি মারাত্মক সংক্রমণে গড়াতে পারে

ছোট সমস্যা বড় হওয়ার আগেই ChamberBD-তে রেজিস্টার্ড ডেন্টিস্ট বা ওরাল সার্জন খুঁজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?