বেল’স পালসি (মুখের অস্থায়ী পক্ষাঘাত) · Bell's palsy
বেল’স পালসি হলো মুখের স্নায়ুর প্রদাহজনিত কারণে হঠাৎ মুখের এক পাশ দুর্বল বা ঝুলে পড়ার একটি সাধারণত অস্থায়ী অবস্থা। বেশিরভাগ মানুষ ভালোভাবে সুস্থ হন, এবং প্রথম ৩ দিনের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে ফল ভালো হয়।
বেল’স পালসি কী?
মুখের এক পাশের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু—প্রায়ই ভাইরাস সংক্রমণের পর—ফুলে গেলে বেল’স পালসি হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই-এক দিনের মধ্যে ওই পাশের পেশি দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়। এটি একসাথে এক পাশকেই আক্রান্ত করে এবং স্ট্রোক নয়, যদিও লক্ষণ দেখে ভয় লাগতে পারে।
লক্ষণ
লক্ষণ সাধারণত দ্রুত মুখের এক পাশে দেখা দেয় এবং এর মধ্যে থাকতে পারে:
- মুখ বা চোখের পাতা এক পাশে ঝুলে পড়া
- এক চোখ বন্ধ করতে, হাসতে বা মুখভঙ্গি করতে অসুবিধা
- মুখ দিয়ে লালা পড়া, চোখ শুকনো বা পানি পড়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- স্বাদ কমে যাওয়া এবং কখনো কানের পাশে বা চোয়ালে ব্যথা
কারণ ও ঝুঁকির বিষয়
সঠিক কারণ সবসময় স্পষ্ট নয়, তবে এটি প্রায়ই মুখের স্নায়ুতে প্রদাহ ঘটানো ভাইরাস সংক্রমণের সাথে জড়িত। গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস এবং সম্প্রতি সর্দি-জ্বরের মতো ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকি বেশি। এটি যে কারো হতে পারে, তবে প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি হয়।
রোগ নির্ণয়
চিকিৎসক সাধারণত মুখের দুর্বলতার ধরন দেখে এবং স্ট্রোক, কানের সংক্রমণ বা হারপিসের মতো অন্য কারণ বাদ দিয়ে বেল’স পালসি নির্ণয় করেন। ছবি অস্বাভাবিক হলে কখনো রক্ত পরীক্ষা বা ইমেজিং করা হয়।
চিকিৎসা
চিকিৎসকরা প্রায়ই—আদর্শভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করে—অল্প সময়ের জন্য স্টেরয়েড, কখনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেন। চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় চোখের ড্রপ, মলম ও রাতে চোখ সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মুখের ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি সুস্থ হতে সাহায্য করতে পারে।
সুস্থতা ও পূর্বাভাস
বেশিরভাগ মানুষ ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি শুরু করে এবং ৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়। অল্প কিছু মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা থাকতে পারে। আক্রান্ত চোখ সুরক্ষা ও চিকিৎসকের ফলোআপ ভালো সুস্থতায় সহায়ক।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
হঠাৎ মুখ দুর্বল হলে স্ট্রোক বাদ দিতে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন। একই দিনে সাহায্য নিন, কারণ বেল’স পালসির চিকিৎসা তাড়াতাড়ি শুরু করলে বেশি কার্যকর হয়। ৩ সপ্তাহেও উন্নতি না হলে বা চোখে ব্যথা হলে আবার চিকিৎসকের কাছে যান।
বেল’স পালসি (মুখের অস্থায়ী পক্ষাঘাত) চিকিৎসা করেন এমন ডাক্তার
বাংলাদেশে বেল’স পালসি (মুখের অস্থায়ী পক্ষাঘাত) এর জন্য যাচাইকৃত বিশেষজ্ঞ খুঁজুন ও বুক করুন:
প্রচলিত ওষুধ
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বেল’স পালসি কি স্ট্রোকের মতো?
না, তবে লক্ষণ একই রকম দেখাতে পারে। স্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা, তাই হঠাৎ মুখ দুর্বল হলে—বিশেষত হাত দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে গেলে—নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
আমার মুখ কি আবার স্বাভাবিক হবে?
বেশিরভাগ মানুষ কয়েক মাসের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হন, বিশেষত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে। অল্প কিছু মানুষের কিছুটা দুর্বলতা থেকে যেতে পারে, তাই ফলোআপ ও চোখের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ।
চোখ সুরক্ষা করা কেন দরকার?
চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ না হলে চোখ শুকিয়ে ক্ষতি হতে পারে। লুব্রিকেটিং ড্রপ, রাতে মলম এবং কখনো চোখ টেপ দিয়ে বন্ধ রাখা স্নায়ু সারার সময় দৃষ্টি রক্ষা করে।
বেল’স পালসি কি আবার হতে পারে?
বেশিরভাগ মানুষের একবারই হয়। আবার হওয়া অস্বাভাবিক, তবে মুখ দুর্বলতা ফিরে এলে আবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।