জেনেরিক
গ্যাবাপেন্টিন
বাংলাদেশে গ্যাবাপেন্টিন জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
34টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Epipen 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Gaba 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Renata PLC
Gaba 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Renata PLC
Gaba-100 100 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Renata PLC
Gabahil 100 100 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Goodman Pharmaceuticals Ltd
Gabahil 300 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Goodman Pharmaceuticals Ltd
Gabamax 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Beacon Pharmaceuticals PLC
Gabantin 300 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.
Gabapen 100 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Gabapen 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Gabapen 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Gabapen 5 gm/100 ml Syrup
গ্যাবাপেন্টিন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Gabapentin 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Albion Laboratories Ltd.
Gabapentin 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Albion Laboratories Ltd.
Gabastar 100 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Gabastar 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Gabastar 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Gabastar 5 gm/100 ml Syrup
গ্যাবাপেন্টিন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Gabatin 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Gabatin 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Gaboton 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Nevian Lifescience PLC
Gaboton 600 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Nevian Lifescience PLC
Gpentin 100 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Opsonin Pharma Limited
Gpentin 300 mg Tablet
গ্যাবাপেন্টিন
Opsonin Pharma Limited
গ্যাবাপেন্টিন কী?
গ্যাবাপেন্টিন বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Anticonvulsant / Neuropathic Pain Agent (Gabapentinoid) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
গ্যাবাপেন্টিন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
চিকিৎসকেরা যেসব ক্ষেত্রে গ্যাবাপেন্টিন দেন:
- নিউরোপ্যাথিক ব্যথা — জ্বালাপোড়া, শিরশির বা বিদ্যুৎ-ঝটকার মতো ব্যথা: ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুরোগ, হারপিস জোস্টারের পরের ব্যথা, স্নায়ুর আঘাত বা চাপজনিত ব্যথা
- মৃগীরোগ — বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ফোকাল (আংশিক) খিঁচুনিতে সহায়ক ওষুধ হিসেবে
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কখনো রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম বা কিছু দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায়
গ্যাবাপেন্টিন শুধুই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ। সাধারণ হাড়-মাংসপেশির ব্যথায় এটি কাজ করে না; সাধারণ ব্যথানাশক বা ঘুমের ওষুধ হিসেবে যখন-তখন খাওয়া উচিত নয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
গ্যাবাপেন্টিন সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ; মাত্রা চিকিৎসকই ঠিক ও সমন্বয় করবেন। সাধারণ তথ্য:
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত কম মাত্রায় শুরু — যেমন প্রথম দিন রাতে ৩০০ মি.গ্রা., দ্বিতীয় দিন ৩০০ মি.গ্রা. করে দুবার, তৃতীয় দিন ৩০০ মি.গ্রা. করে তিনবার — পরে প্রয়োজনমতো ধীরে বাড়িয়ে দিনে সাধারণত ৯০০–৩৬০০ মি.গ্রা. তিন ভাগে।
- কিডনি রোগে: মাত্রা কমাতে হয় — গ্যাবাপেন্টিন কিডনি দিয়ে বের হয়।
- ডোজগুলো সমান ব্যবধানে খান; মৃগীরোগে দুই ডোজের মাঝে ১২ ঘণ্টার বেশি ফাঁক রাখবেন না।
গ্যাবাপেন্টিন কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — হঠাৎ ছাড়লে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, বমি ভাব, ব্যথা বেড়ে যাওয়া এবং মৃগীরোগে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে। মদ এড়িয়ে চলুন; কতটা ঝিমুনি হয় না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গ্যাবাপেন্টিন-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — বিশেষত প্রথম সপ্তাহগুলোতে বা মাত্রা বাড়ানোর পর:
- মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি — সবচেয়ে বেশি হয়; শরীর অভ্যস্ত হলে সাধারণত কমে যায়
- টলমল ভাব, ভারসাম্যের অসুবিধা
- ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা বা দুটো দেখা
- পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
- ওজন ও ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
- মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বমি ভাব
জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিন যদি হয়: জ্বর ও গ্রন্থি ফোলাসহ র্যাশ (বিরল গুরুতর প্রতিক্রিয়া), অস্বাভাবিক মেজাজ পরিবর্তন বা নিজেকে আঘাতের চিন্তা, পড়ে যাওয়ার মতো তীব্র মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট (বিশেষত বয়স্ক, ফুসফুসের রোগী, কিংবা ওপিওয়েড বা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে খেলে)।
সতর্কতা
গ্যাবাপেন্টিন ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:
- কেবল প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না — চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে কমান।
- মদ এড়িয়ে চলুন — মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- গাড়ি চালানোয় সতর্কতা: ওষুধটি আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্র চালাবেন না — বিশেষত প্রথম সপ্তাহগুলোতে ও প্রতিবার মাত্রা বাড়ানোর পর।
- ওপিওয়েড (ট্রামাডল, মরফিন) বা অন্য ঘুম-আনা ওষুধের সঙ্গে খেলে শ্বাস-প্রশ্বাস বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি — কেবল নিবিড় চিকিৎসা-তত্ত্বাবধানে।
- কিডনির রোগ, শ্বাসকষ্ট, বিষণ্নতা, মুড ডিসঅর্ডার বা নেশার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান — গ্যাবাপেন্টিনের কিছুটা অপব্যবহারের প্রবণতা আছে, তাই এসব ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- বয়স্কদের মাথা ঘোরা, টলমল ভাব ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। গ্যাবাপেন্টিন-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- ওপিওয়েড ব্যথানাশক (ট্রামাডল, মরফিন, কোডেইন) — ঝিমুনি বাড়ে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস গুরুতরভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি; মরফিন রক্তে গ্যাবাপেন্টিনের মাত্রাও বাড়াতে পারে।
- মদ, ঘুমের ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন ও ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন — ঝিমুনি ও টলমল ভাব বাড়ায়।
- অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড — গ্যাবাপেন্টিনের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
- প্রিগাবালিন বা অন্য ঘুম-আনা স্নায়ুব্যথার ওষুধ — কেবল বিশেষজ্ঞের পরামর্শে একসঙ্গে ব্যবহার।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের ক্ষেত্রে গ্যাবাপেন্টিন ব্যবহার করা যাবে না:
- গ্যাবাপেন্টিন বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
বিশেষ সতর্কতা — এবং কেবল নিবিড় চিকিৎসা-তত্ত্বাবধানে — দরকার: উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতায় (মাত্রা কমাতে হবে), গুরুতর শ্বাসকষ্টে, মাদক বা মদের অপব্যবহারের ইতিহাসে, আত্মহানিকর চিন্তাসহ বিষণ্নতায় এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞের নির্ধারিত নির্দিষ্ট খিঁচুনি ছাড়া শিশুদের জন্য এটি প্রথম সারির ওষুধ নয়।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় গ্যাবাপেন্টিন-এর নিরাপত্তা-তথ্য সীমিত। উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্ট বেশি হলে তবেই চিকিৎসক গ্যাবাপেন্টিন দেবেন। মৃগীরোগের জন্য খেলে গর্ভধারণ টের পেয়ে হঠাৎ বন্ধ করবেন না — অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিও বিপজ্জনক; দ্রুত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করুন এবং পরামর্শমতো ফলিক অ্যাসিড শুরু করুন।
স্তন্যদান: মায়ের দুধে গ্যাবাপেন্টিন অল্প পরিমাণে যায়। চিকিৎসকের সম্মতিতে স্তন্যদান সম্ভব হতে পারে; শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম বা দুধ টানতে অনীহার দিকে খেয়াল রাখুন এবং সমস্যা মনে হলে চিকিৎসককে জানান।
সংরক্ষণ
গ্যাবাপেন্টিন ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
গ্যাবাপেন্টিন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
গ্যাবাপেন্টিন কি ব্যথানাশক? মাথাব্যথা বা কোমরব্যথায় কাজ করবে?
গ্যাবাপেন্টিন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক নয়। এটি কাজ করে স্নায়ুব্যথায় — ক্ষতিগ্রস্ত বা উত্তেজিত স্নায়ুর কারণে জ্বালাপোড়া, শিরশির, বিদ্যুৎ-ঝটকা বা ঝিনঝিন ধরনের ব্যথায়, যেমন ডায়াবেটিসজনিত নিউরোপ্যাথি বা জলবসন্ত-পরবর্তী ব্যথা। সাধারণ মাথাব্যথা, মাসিকের ব্যথা বা সাধারণ পেশির কোমরব্যথায় এটি কাজ করবে না। স্নায়ুব্যথা কমাতে এটি প্রতিদিন নিয়ম করে ১–২ সপ্তাহ বা তার বেশি খেতে হয়; ব্যথা উঠলে একটা ট্যাবলেট খেলে কাজ হয় না।
গ্যাবাপেন্টিন খেলে মাথা ঘোরে কেন, কী করব?
মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি গ্যাবাপেন্টিন-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — বিশেষত প্রথম ১–২ সপ্তাহে এবং প্রতিবার মাত্রা বাড়ানোর পর। এ কারণেই চিকিৎসকেরা কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে বাড়ান। শরীর অভ্যস্ত হলে সাধারণত এটি কেটে যায়। তত দিন গাড়ি-মোটরসাইকেল বা যন্ত্র চালানো এড়িয়ে চলুন, শোয়া-বসা থেকে ধীরে উঠুন এবং মদ একেবারে বাদ দিন। মাথা ঘোরা তীব্র হলে, পড়ে গেলে বা না কমলে চিকিৎসককে জানান — হঠাৎ ওষুধ বন্ধ না করে মাত্রার সময়সূচি ঠিক করাই সমাধান।
ব্যথা সেরে গেলে কি গ্যাবাপেন্টিন বন্ধ করে দিতে পারি?
হঠাৎ বন্ধ করবেন না। আচমকা গ্যাবাপেন্টিন ছাড়লে উইথড্রয়াল উপসর্গ — দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, বমি ভাব, ঘাম — হতে পারে, স্নায়ুব্যথা আবার বেড়ে যেতে পারে, আর মৃগীরোগের জন্য খেলে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে। ওষুধ আর দরকার নেই — আপনি ও চিকিৎসক একমত হলে অন্তত এক সপ্তাহ, প্রায়ই আরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে মাত্রা কমানো হয়। অনেক স্নায়ুব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসের পর মাস চিকিৎসা লাগে, তাই কত দিন খাবেন সে সিদ্ধান্ত সব সময় চিকিৎসকের।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।