জেনেরিক
ক্লোবাজাম
বাংলাদেশে ক্লোবাজাম জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
32টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Ablazam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Ablation Pharmaceuticals Ltd.
Anlax 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Sharif Pharmaceuticals Ltd.
Anxitas 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Kumudini Pharma Ltd.
Calm 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Biopharma Ltd.
Clob 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Opsonin Pharma Limited
Clobam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Clobazam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
KDH Laboratories Ltd.
Clobazin 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Ziska Pharmaceuticals Ltd.
Clobid 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Medimet Pharmaceuticals Ltd.
Clozam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Navana Pharmaceuticals Ltd.
Colax 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Pharmadesh Laboratories Ltd.
Cosium 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
The ACME Laboratories Ltd.
Cozam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Jalalabad Pharmaceuticals Ltd.
Danium 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Doctor's Chemicals Works Ltd.
Detens 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Orion Pharma Ltd.
Ebazam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Edruc Ltd.
Ficlozam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Synovia Pharma PLC.
Frisium 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Synovia Pharma PLC.
I-Zam 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Indo-Bangla Pharmaceuticals Ltd.
Keolax 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Nebium 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Globe Pharmaceuticals Ltd.
Noanxit 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Rephco Pharmaceuticals Ltd.
Noet 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Premier Pharmaceuticals Ltd.
Prezium 10 mg Tablet
ক্লোবাজাম
Nipa Pharmaceuticals Ltd.
ক্লোবাজাম কী?
ক্লোবাজাম বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Benzodiazepine Anticonvulsant / Anxiolytic ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
ক্লোবাজাম কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
চিকিৎসকেরা যেসব ক্ষেত্রে ক্লোবাজাম দেন:
- মৃগীরোগে সহায়ক চিকিৎসা: অন্য খিঁচুনির ওষুধে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ না এলে তার সঙ্গে যোগ করা হয় — প্রাপ্তবয়স্ক ও বিশেষজ্ঞের নির্ধারিত বয়সের শিশুদের; লেনক্স-গ্যাস্টো সিনড্রোমেও
- মাসিক-সংশ্লিষ্ট (ক্যাটামেনিয়াল) খিঁচুনি — বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কখনো মাসিকের সময়টুকুতে বিরতিভিত্তিক ব্যবহার
- তীব্র দুশ্চিন্তা — কেবল স্বল্পমেয়াদে, যখন চিকিৎসক বেনজোডায়াজেপিন প্রয়োজন মনে করেন
ক্লোবাজাম শুধুই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ; মৃগীরোগে এটি নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে চলা উচিত। নিজে থেকে শুরু, বন্ধ বা মাত্রা বদলানোর ওষুধ এটি নয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ক্লোবাজাম সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ; নিচের মাত্রা কেবল সাধারণ তথ্য — চিকিৎসক প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা করে ঠিক করবেন:
- মৃগীরোগ (প্রাপ্তবয়স্ক): প্রায়ই দিনে ৫–১০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু, ধীরে বাড়িয়ে সাধারণত দিনে ১০–৩০ মি.গ্রা.; কখনো ভাগ করে, বড় অংশ রাতে।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী কম মাত্রা, বিশেষজ্ঞ ঠিক করবেন।
- বয়স্ক ও লিভার/কিডনি দুর্বলতা: কম মাত্রা, ধীর বৃদ্ধি।
- দুশ্চিন্তা: সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময় — মাত্রা কমানোর সময়সহ সাধারণত ২–৪ সপ্তাহের বেশি নয়।
ক্লোবাজাম কখনোই হঠাৎ বন্ধ করবেন না। মৃগীরোগে হঠাৎ ছাড়লে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে — এমনকি একটানা খিঁচুনি (স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস) পর্যন্ত; নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ ছাড়লে দুশ্চিন্তা, কাঁপুনি ও অনিদ্রাও হয়। যেকোনো কমানো হতে হবে ধীরে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। মদ এড়িয়ে চলুন এবং গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ক্লোবাজাম-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ঝিমুনি — বিশেষত শুরুতে ও মাত্রা বাড়ানোর পর
- মাথা ঘোরা, হাঁটায় টলমল ভাব, ভারসাম্যের অসুবিধা
- প্রতিক্রিয়া ধীর হওয়া, মনোযোগে অসুবিধা
- লালা ঝরা বা মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য
- খিটখিটে মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তন, বিশেষত শিশুদের
- সহনশীলতা — কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক মাসে ওষুধের কাজ কমে আসতে পারে
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি হয়: ফোসকা বা চামড়া ওঠাসহ তীব্র র্যাশ (ক্লোবাজামে বিরল কিন্তু গুরুতর চর্ম-প্রতিক্রিয়ার তথ্য আছে), শ্বাসকষ্ট বা খুব অগভীর শ্বাস (বিশেষত ওপিওয়েড বা মদের সঙ্গে মিশলে), খিঁচুনি বেড়ে যাওয়া, তীব্র বিভ্রান্তি, কিংবা আসক্তির লক্ষণ — ওষুধের প্রতি টান বা নিজে মাত্রা বাড়ানো।
সতর্কতা
ক্লোবাজাম ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- আসক্তির সতর্কবার্তা: বাংলাদেশে বেনজোডায়াজেপিনই সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত ওষুধ। মৃগীরোগে দীর্ঘ ব্যবহারের চিকিৎসাগত যুক্তি থাকলেও ক্লোবাজাম কেবল নির্ধারিত মাত্রায় খান, নিজে কখনো বাড়াবেন না, কাউকে দেবেন না।
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না — খিঁচুনি ফিরে আসা ও উইথড্রয়ালের ঝুঁকি; যেকোনো পরিবর্তন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে করতে হবে।
- মদ নিষেধ — ঝিমুনি গভীর করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বিপজ্জনকভাবে কমাতে পারে।
- গাড়ি চালানোয় সতর্কতা: নিজের সজাগতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না — মনে রাখবেন, মৃগীরোগ নিজেই গাড়ি চালানোয় বিধিনিষেধ আনে।
- শ্বাসকষ্ট, লিভার-কিডনির রোগ, বিষণ্নতা, পেশি দুর্বলতা বা নেশার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- তীব্র র্যাশ হলে সঙ্গে সঙ্গে জানান; উপকার, মাত্রা ও মেয়াদ পুনর্মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত ফলো-আপে যান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। ক্লোবাজাম-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- মদ — ঝিমুনি ও রক্তে ক্লোবাজামের মাত্রা অনেক বাড়ায়; সম্পূর্ণ নিষেধ।
- ওপিওয়েড ব্যথানাশক (ট্রামাডল, মরফিন, কোডেইন) — একসঙ্গে খেলে শ্বাস-প্রশ্বাস মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।
- অন্যান্য খিঁচুনির ওষুধ — ভ্যালপ্রোয়েট, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন, স্টিরিপেন্টল ও ক্যানাবিডিয়লের সঙ্গে ওষুধের মাত্রা বদলাতে পারে; বিশেষজ্ঞ সেই অনুযায়ী ডোজ ঠিক করেন।
- শক্তিশালী CYP2C19 ইনহিবিটর (যেমন ফ্লুকোনাজল, ফ্লুভক্সামিন, ওমিপ্রাজল) — ক্লোবাজামের সক্রিয় উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে ঝিমুনি গভীর করতে পারে।
- অন্যান্য ঘুম-আনা ওষুধ — ঘুমের বড়ি, ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক ও কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টে ঝিমুনি বাড়ে।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের ক্ষেত্রে ক্লোবাজাম ব্যবহার করা যাবে না:
- ক্লোবাজাম বা অন্য বেনজোডায়াজেপিনে অ্যালার্জি
- গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের অকার্যকারিতা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া
- মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস
- গুরুতর লিভারের রোগ
- মদ বা মাদকে আসক্তির ইতিহাস — তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা কর্মসূচির মধ্যে না হলে
- দুশ্চিন্তার চিকিৎসায় গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এবং খুব ছোট শিশুদের ব্যবহার করা হয় না
বয়স্ক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা বিষণ্নতার রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের বিবেচনা জরুরি।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: বিশেষজ্ঞ অপরিহার্য মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় ক্লোবাজাম ব্যবহার করা হয় — যেমন ওষুধ বন্ধ করলে খিঁচুনি অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার ঝুঁকি থাকলে; অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি নিজেই মা ও শিশুর জন্য বিপজ্জনক। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে বেনজোডায়াজেপিন খেলে নবজাতক নিস্তেজ, ঘুমঘুম ও দুধ টানতে ধীর হতে পারে; নিয়মিত খেলে শিশুর উইথড্রয়াল উপসর্গও হতে পারে। গর্ভধারণ টের পেয়ে হঠাৎ বন্ধ করবেন না; সেদিনই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করুন।
স্তন্যদান: ক্লোবাজাম মায়ের দুধে যায় এবং শিশুকে ঝিমিয়ে দিতে পারে। চিকিৎসা চলাকালীন স্তন্যদান সাধারণত নিরুৎসাহিত; চিকিৎসকের পরামর্শে করালে শিশুর ঘুম ও দুধ খাওয়ার দিকে নিবিড় নজর রাখতে হবে।
সংরক্ষণ
ক্লোবাজাম ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। অপব্যবহারের ঝুঁকিযুক্ত বেনজোডায়াজেপিন হিসেবে এটি নিরাপদে, শিশু এবং যাঁর জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়নি এমন সবার নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ট্যাবলেট ঘরে জমিয়ে না রেখে বা কাউকে না দিয়ে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
ক্লোবাজাম নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
মৃগীরোগের জন্য খেলেও কি ক্লোবাজাম-এ আসক্তি হতে পারে?
ক্লোবাজাম একটি বেনজোডায়াজেপিন, তাই দীর্ঘ ব্যবহারে — মৃগীরোগের চিকিৎসাতেও — নির্ভরশীলতা সম্ভব। পার্থক্য হলো, মৃগীরোগে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের উপকার সাধারণত এই ঝুঁকির চেয়ে বেশি, এবং বিশেষজ্ঞ ফলো-আপে সহনশীলতা ও নির্ভরশীলতার দিকে নজর রাখেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে: ঠিক নির্ধারিত মাত্রায় খান, নিজে কখনো বাড়াবেন না, ঘুম বা মানসিক চাপ কমাতে ব্যবহার করবেন না, কাউকে দেবেন না। ওষুধের কাজ কমছে মনে হলে বা টান অনুভব করলে নিজে মাত্রা না বাড়িয়ে নিউরোলজিস্টকে জানান।
ক্লোবাজাম-এর একটি ডোজ ভুলে গেলে কী করব?
মনে পড়ামাত্র ভুলে যাওয়া ডোজ খেয়ে নিন — তবে পরের ডোজের সময় কাছাকাছি হলে সেটি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে যান। কখনোই পুষিয়ে নিতে দ্বিগুণ ডোজ খাবেন না। মৃগীরোগে বারবার ডোজ বাদ পড়া ঝুঁকিপূর্ণ — রক্তে ওষুধ কমে গেলে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে; তাই অ্যালার্ম বা ওষুধের বাক্স ব্যবহার করুন। কয়েকটি ডোজ বাদ পড়লে, কিংবা বমি বা অসুস্থতার কারণে ওষুধ খেতে না পারলে, নিজে থেকে পুরো মাত্রায় আবার শুরু না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ক্লোবাজাম কেন কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না?
দুটি কারণে। প্রথমত, মৃগীরোগে হঠাৎ ওষুধ ছাড়লে খিঁচুনির সুরক্ষা দ্রুত উঠে যায় এবং খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে — কখনো একটানা, প্রাণঘাতী স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস পর্যন্ত। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত বেনজোডায়াজেপিন খাওয়ার পর মস্তিষ্ক এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়; হঠাৎ বন্ধে উইথড্রয়াল হয় — তীব্র দুশ্চিন্তা, কাঁপুনি, ঘাম, অনিদ্রা, কখনো বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি, এমনকি যাঁদের মৃগীরোগ নেই তাঁদেরও। নিরাপদ উপায় সব সময় চিকিৎসকের পরিকল্পনায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে কমানো — ওষুধ আর কাজ করছে না মনে হলেও এ নিয়ম প্রযোজ্য।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।