ট্যাবলেট
নাপা 500 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: প্যারাসিটামল
প্রস্তুতকারক: Beximco Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Analgesics & Antipyretics
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 1.20 |
| 1 strip (10 tablets) | ৳ 12.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
নাপা কী?
নাপা ৫০০ মি.গ্রা. বাংলাদেশের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল ব্র্যান্ডগুলোর একটি, যা বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করে। এটি হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা উপশম করে এবং জ্বর কমায়। নির্ধারিত মাত্রায় সেবন করলে এটি সবচেয়ে নিরাপদ ব্যথানাশকগুলোর একটি।
প্যারাসিটামল কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রোস্টাগ্লান্ডিন তৈরিতে বাধা দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমায় এবং ব্যথা সহনক্ষমতা বাড়ায়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- জ্বর (ডেঙ্গু, ভাইরাল জ্বর, টিকা-পরবর্তী জ্বরসহ)
- মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
- দাঁত ও কানের ব্যথা
- মাংসপেশি ও শরীর ব্যথা
- মাসিকের ব্যথা
- অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা
- সর্দি-কাশিজনিত অস্বস্তি
সেবনবিধি ও মাত্রা
প্রাপ্তবয়স্ক: প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পর পর ১–২টি ট্যাবলেট (৫০০–১০০০ মি.গ্রা.)। ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪ গ্রাম (৮টি ট্যাবলেট)।
শিশু (৬–১২ বছর): দিনে ৩–৪ বার আধা থেকে ১টি ট্যাবলেট। ছোট শিশুদের জন্য সিরাপ বা সাসপেনশন ব্যবহার করা ভালো।
দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা বিরতি রাখুন এবং দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা অতিক্রম করবেন না। সঠিক মাত্রার জন্য রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নির্ধারিত মাত্রায় প্যারাসিটামল সাধারণত নিরাপদ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল, তবে হতে পারে:
- বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি
- চর্মে র্যাশ বা অ্যালার্জি (বিরল)
- রক্তের সমস্যা যেমন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (অত্যন্ত বিরল)
- লিভারের ক্ষতি — প্রায় সবসময় অতিরিক্ত মাত্রার কারণে
সতর্কতা
সতর্কতা: সব ওষুধ মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪ গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল সেবন করবেন না — সর্দি-কাশির অনেক কম্বিনেশন ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকে। লিভারের রোগ, কিডনির রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপানের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। ৩ দিনের বেশি জ্বর বা ৫ দিনের বেশি ব্যথা থাকলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্যারাসিটামল যেসব ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে:
- ওয়ারফারিন — নিয়মিত সেবনে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে
- কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল — লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়
- মেটোক্লোপ্রামাইড — প্যারাসিটামল দ্রুত শোষিত হয়
- কোলেস্টাইরামিন — প্যারাসিটামলের শোষণ কমায়
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
প্যারাসিটামলের প্রতি অ্যালার্জি এবং গুরুতর লিভারের অসুখ বা সক্রিয় লিভার রোগ থাকলে সেবন নিষেধ।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
নির্ধারিত মাত্রায় গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে প্যারাসিটামল সাধারণত নিরাপদ (ইউএস এফডিএ ক্যাটাগরি বি)। তবুও গর্ভবতী মায়েদের সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় অল্প সময়ের জন্য সেবন করা উচিত এবং আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সংরক্ষণ
আলো থেকে দূরে, শুকনো স্থানে ৩০° সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
দিনে সর্বোচ্চ কয়টি নাপা ট্যাবলেট খাওয়া যায়?
প্রাপ্তবয়স্করা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮টি নাপা ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট (৪ গ্রাম) খেতে পারেন, প্রতি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা বিরতি রেখে। এর বেশি খেলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
খালি পেটে কি নাপা খাওয়া যায়?
হ্যাঁ, প্যারাসিটামল খাবারের সাথে বা খালি পেটে — দুইভাবেই খাওয়া যায়। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবারের পরে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়।
ডেঙ্গু জ্বরে নাপা খাওয়া কি নিরাপদ?
ডেঙ্গুতে জ্বর কমাতে প্যারাসিটামলই সুপারিশকৃত ওষুধ। ডেঙ্গুতে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: