জেনেরিক
মেবেনডাজল
বাংলাদেশে মেবেনডাজল জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
68টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Aldamox 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Albert David (BD) Limited
Aldamox 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Albert David (BD) Limited
Anelmine 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Novo Healthcare and Pharma Ltd.
Bendex 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
G. A. Company Ltd.
Bendex 500 mg Tablet
মেবেনডাজল
G. A. Company Ltd.
Bendex 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
G. A. Company Ltd.
Cremox 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Crystal Pharmaceuticals Ltd.
D Mebendazole 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Dolphin Pharmaceuticals Ltd.
Duraben 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Techno Drugs Ltd., Satipara, Narshingdi
Ebenda 750 mg Bolus
মেবেনডাজল
Ethical Drug Ltd.
Edenda 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Ethical Drug Ltd.
Ermox 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur
Ermox 500 mg Tablet
মেবেনডাজল
Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur
Ermox 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
G Mebendazole 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Gonoshasthaya Pharmaceuticals Ltd.
G Mebendazole 500 mg Tablet
মেবেনডাজল
Gonoshasthaya Pharmaceuticals Ltd.
Helben 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Ad-din Pharmaceuticals Ltd.
Helmin 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Silco Pharmaceuticlas Ltd.
Helmox 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Rephco Pharmaceuticals Ltd.
Helmox 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
Rephco Pharmaceuticals Ltd.
Jpzol 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Jams Pharmaceuticals Ltd.
Mabendol 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
Globex Pharmaceuticals Ltd.
Madazole 100 mg Tablet
মেবেনডাজল
KDH Laboratories Ltd.
Madazole 100 mg/5 ml Suspension
মেবেনডাজল
KDH Laboratories Ltd.
মেবেনডাজল কী?
মেবেনডাজল বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Anthelmintic (anti-worm medicine) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
মেবেনডাজল কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
মেবেনডাজল যেসব কৃমির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:
- গোলকৃমি (অ্যাসকারিস) — অন্ত্রের সবচেয়ে প্রচলিত বড় কৃমি
- সুতাকৃমি (এন্টারোবিয়াস) — বিশেষত শিশুদের রাতে মলদ্বারে চুলকানির কারণ
- বক্রকৃমি/হুকওয়ার্ম — আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তশূন্যতার একটি বড় কারণ
- চাবুককৃমি (ট্রাইকিউরিস) — পেটের উপসর্গ ও কখনো ডায়রিয়া ঘটায়
- মিশ্র কৃমি সংক্রমণ — একাধিক ধরনের কৃমি একসঙ্গে থাকলে
স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত কৃমিনাশক হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য: অধিকাংশ কৃমিতে মেবেনডাজল-এর স্বাভাবিক মাত্রা দিনে দুইবার ১০০ মি.গ্রা. করে ৩ দিন, অথবা পরামর্শ অনুযায়ী একবারে ৫০০ মি.গ্রা.। সুতাকৃমির ক্ষেত্রে প্রায়ই একবার ১০০ মি.গ্রা. দেওয়া হয় এবং নতুন ফোটা কৃমি মারতে ২ সপ্তাহ পর আবার খেতে হয়।
- মেবেনডাজল খাবারসহ বা খালি পেটে খাওয়া যায়; ট্যাবলেট চিবিয়ে বা গিলে খাওয়া যায়।
- সুতাকৃমি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহজে ছড়ায়, তাই পুরো পরিবার একসঙ্গে ওষুধ খান।
- বাংলাদেশে স্কুলগামী শিশুদের প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়ানোর পরামর্শ প্রচলিত।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের কাছে যান — আবার কোর্স লাগতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শরীরে খুব কম শোষিত হয় বলে মেবেনডাজল সাধারণত খুব ভালো সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- হালকা পেটব্যথা বা অস্বস্তি — বিশেষত অনেক কৃমি বের হওয়ার সময়
- বমিভাব, পেট ফাঁপা বা সাময়িক পাতলা পায়খানা
- মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা (কম দেখা যায়)
- বিরল ক্ষেত্রে: ত্বকে র্যাশ বা অন্য অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
- খুব বিরল, দীর্ঘ ও বেশি মাত্রায়: লিভার এনজাইম পরিবর্তন বা রক্তকণিকা কমে যাওয়া
চিকিৎসার পর পায়খানার সঙ্গে কৃমি বের হওয়া স্বাভাবিক — এর মানে ওষুধ কাজ করছে। সারা শরীরে র্যাশ, গলাব্যথাসহ জ্বর বা চোখ হলুদ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- কৃমি পরিবারের একজন থেকে আরেকজনে সহজে ছড়ায়, তাই পুরো পরিবার একসঙ্গে ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল মেলে।
- পুনঃসংক্রমণ ঠেকান: খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, শাকসবজি ভালোভাবে ধোয়া, নিরাপদ পানি পান এবং বাইরে স্যান্ডেল পরা।
- সুতাকৃমির চিকিৎসার সময় বিছানার চাদর ও অন্তর্বাস গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
- দীর্ঘ ব্যবহারের আগে লিভারের রোগ বা রক্তের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
- হুকওয়ার্মের সঙ্গে রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসক আয়রনও দিতে পারেন — সেই কোর্সও সম্পূর্ণ করুন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব কম শোষিত হয় বলে মেবেনডাজল-এর উল্লেখযোগ্য ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া কম। যা জানা দরকার:
- সিমেটিডিন — রক্তে মেবেনডাজলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন (মৃগীর ওষুধ) — এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- মেট্রোনিডাজল — একসঙ্গে ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে; এটি খেলে চিকিৎসককে জানান।
- ভেষজসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
প্রতিনির্দেশনা
- মেবেনডাজল বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
- চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে না
- গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে — চিকিৎসক অত্যাবশ্যক মনে না করলে এড়িয়ে চলুন
- উল্লেখযোগ্য লিভারের রোগে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুন
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মেবেনডাজল এড়িয়ে চলুন; প্রাণী-গবেষণায় বেশি মাত্রায় ঝুঁকি দেখা গেছে, তাই কৃমির ওষুধ সাধারণত প্রথম তিন মাস পার হওয়ার পর দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় কৃমি ও রক্তশূন্যতা প্রচলিত, সেখানে দ্বিতীয়-তৃতীয় ত্রৈমাসিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কৃমিনাশক অনুমোদন করে — তবে কেবল চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে। বুকের দুধে মেবেনডাজল খুব সামান্যই যায় এবং স্তন্যদানকালে এটি সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়; তবু খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
মেবেনডাজল ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।
মেবেনডাজল নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
পুরো পরিবারের একসঙ্গে মেবেনডাজল খাওয়া উচিত কেন?
কৃমির ডিম — বিশেষত সুতাকৃমির — হাত, বিছানা, কাপড় ও ভাগ করা খাবারের মাধ্যমে পরিবারের মধ্যে খুব সহজে ছড়ায়। শুধু একজনের চিকিৎসা করালে বাকিদের থেকে সে আবার আক্রান্ত হয়। পরিবারের সবাই একসঙ্গে মেবেনডাজল খেলে এবং হাত ধোয়া ও চাদর-কাপড় ধোয়ার অভ্যাস রাখলে এই চক্র ভাঙে — সংক্রমণ আর একজন থেকে আরেকজনে ঘুরতে পারে না।
শিশুদের কতদিন পরপর মেবেনডাজল খাওয়ানো উচিত?
মাটিবাহিত কৃমি প্রচলিত বলে বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত কৃমিনাশক — সাধারণত প্রতি ৬ মাস অন্তর — খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং স্কুল ও স্বাস্থ্য কর্মসূচিতেও তা চালু আছে। দুই ডোজের মাঝে প্রতিরোধই আসল: সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, নিরাপদ পানি, ধোয়া শাকসবজি ও বাইরে স্যান্ডেল পরা। আপনার শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক নিয়ম ও মাত্রা চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন।
মেবেনডাজল খাওয়ার পর পায়খানার সঙ্গে কৃমি দেখলাম — এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ — এটাই প্রত্যাশিত এবং ওষুধ কাজ করার লক্ষণ। মেবেনডাজল কৃমিকে অবশ করে মেরে ফেলে, যা পরের কয়েক দিনে পায়খানার সঙ্গে বেরিয়ে যায়; বড় গোলকৃমি চোখেও পড়তে পারে। ভয়ের কিছু নেই। কোর্স শেষেও বারবার কৃমি দেখলে, কিংবা মলদ্বারে চুলকানি বা পেটব্যথার মতো উপসর্গ থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — আবার ডোজ লাগতে পারে।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।