See in English

ট্যাবলেট

Jpzol 100 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: মেবেনডাজল

প্রস্তুতকারক: Jams Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Anthelmintic (anti-worm medicine)

Jpzol এর কাজ কি?

Jpzol (ট্যাবলেট)-এর উপাদান মেবেনডাজল 100 mg, প্রস্তুতকারক Jams Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Anthelmintic (anti-worm medicine)।

Jpzol কী?

জেপজল ১০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটে মেবেনডাজল আছে, যা জ্যামস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি কৃমিনাশক ওষুধ। এটি চিকিৎসকের পরামর্শে পিনওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্মের মতো অন্ত্রের কৃমি সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।

Jpzol 100 mg tablet হলো Jams Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Mebendazole — কৃমিনাশক একটি ওষুধ, যা বহু ধরনের কৃমিতে কাজ করে। বাংলাদেশে প্রচলিত অন্ত্রের কৃমি সংক্রমণ — গোলকৃমি, সুতাকৃমি, বক্রকৃমি (হুকওয়ার্ম) ও চাবুককৃমির চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। মাটি, অপরিষ্কার হাত এবং দূষিত খাবার-পানির মাধ্যমে কৃমি সহজে ছড়ায়; শিশুদের ক্ষেত্রে এতে ক্ষুধামন্দা, পেটব্যথা, রক্তশূন্যতা ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

Mebendazole কৃমির গ্লুকোজ (চিনি) শোষণের ক্ষমতা বন্ধ করে দেয় — যা তাদের শক্তির প্রধান উৎস। শক্তি না পেয়ে কৃমি অবশ হয়ে মারা যায় এবং কয়েক দিনের মধ্যে পায়খানার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যায়। ওষুধটি মূলত অন্ত্রের ভেতরেই কাজ করে এবং শরীরে খুব সামান্যই শোষিত হয়, তাই Jpzol সাধারণত ভালো সহনীয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Jpzol যেসব কৃমির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:

  • গোলকৃমি (অ্যাসকারিস) — অন্ত্রের সবচেয়ে প্রচলিত বড় কৃমি
  • সুতাকৃমি (এন্টারোবিয়াস) — বিশেষত শিশুদের রাতে মলদ্বারে চুলকানির কারণ
  • বক্রকৃমি/হুকওয়ার্ম — আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তশূন্যতার একটি বড় কারণ
  • চাবুককৃমি (ট্রাইকিউরিস) — পেটের উপসর্গ ও কখনো ডায়রিয়া ঘটায়
  • মিশ্র কৃমি সংক্রমণ — একাধিক ধরনের কৃমি একসঙ্গে থাকলে

স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত কৃমিনাশক হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Jpzol 100 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

শরীরে খুব কম শোষিত হয় বলে Jpzol সাধারণত খুব ভালো সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • হালকা পেটব্যথা বা অস্বস্তি — বিশেষত অনেক কৃমি বের হওয়ার সময়
  • বমিভাব, পেট ফাঁপা বা সাময়িক পাতলা পায়খানা
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা (কম দেখা যায়)
  • বিরল ক্ষেত্রে: ত্বকে র‍্যাশ বা অন্য অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
  • খুব বিরল, দীর্ঘ ও বেশি মাত্রায়: লিভার এনজাইম পরিবর্তন বা রক্তকণিকা কমে যাওয়া

চিকিৎসার পর পায়খানার সঙ্গে কৃমি বের হওয়া স্বাভাবিক — এর মানে ওষুধ কাজ করছে। সারা শরীরে র‍্যাশ, গলাব্যথাসহ জ্বর বা চোখ হলুদ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

  • কৃমি পরিবারের একজন থেকে আরেকজনে সহজে ছড়ায়, তাই পুরো পরিবার একসঙ্গে ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল মেলে।
  • পুনঃসংক্রমণ ঠেকান: খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, শাকসবজি ভালোভাবে ধোয়া, নিরাপদ পানি পান এবং বাইরে স্যান্ডেল পরা।
  • সুতাকৃমির চিকিৎসার সময় বিছানার চাদর ও অন্তর্বাস গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
  • দীর্ঘ ব্যবহারের আগে লিভারের রোগ বা রক্তের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • হুকওয়ার্মের সঙ্গে রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসক আয়রনও দিতে পারেন — সেই কোর্সও সম্পূর্ণ করুন।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

খুব কম শোষিত হয় বলে Mebendazole-এর উল্লেখযোগ্য ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া কম। যা জানা দরকার:

  • সিমেটিডিন — রক্তে মেবেনডাজলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন (মৃগীর ওষুধ) — এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
  • মেট্রোনিডাজল — একসঙ্গে ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে; এটি খেলে চিকিৎসককে জানান।
  • ভেষজসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • Mebendazole বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
  • চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে না
  • গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে — চিকিৎসক অত্যাবশ্যক মনে না করলে এড়িয়ে চলুন
  • উল্লেখযোগ্য লিভারের রোগে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুন

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে Jpzol এড়িয়ে চলুন; প্রাণী-গবেষণায় বেশি মাত্রায় ঝুঁকি দেখা গেছে, তাই কৃমির ওষুধ সাধারণত প্রথম তিন মাস পার হওয়ার পর দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় কৃমি ও রক্তশূন্যতা প্রচলিত, সেখানে দ্বিতীয়-তৃতীয় ত্রৈমাসিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কৃমিনাশক অনুমোদন করে — তবে কেবল চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে। বুকের দুধে মেবেনডাজল খুব সামান্যই যায় এবং স্তন্যদানকালে এটি সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়; তবু খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সংরক্ষণ

Jpzol ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পুরো পরিবারের একসঙ্গে Jpzol খাওয়া উচিত কেন?

কৃমির ডিম — বিশেষত সুতাকৃমির — হাত, বিছানা, কাপড় ও ভাগ করা খাবারের মাধ্যমে পরিবারের মধ্যে খুব সহজে ছড়ায়। শুধু একজনের চিকিৎসা করালে বাকিদের থেকে সে আবার আক্রান্ত হয়। পরিবারের সবাই একসঙ্গে Jpzol খেলে এবং হাত ধোয়া ও চাদর-কাপড় ধোয়ার অভ্যাস রাখলে এই চক্র ভাঙে — সংক্রমণ আর একজন থেকে আরেকজনে ঘুরতে পারে না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →