জেনেরিক
লোসার্টান পটাশিয়াম
বাংলাদেশে লোসার্টান পটাশিয়াম জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
125টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Acusan 50 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Concord Pharmaceuticals Ltd.
Angilock 100 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Angilock 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Square Formulations Ltd.
Angilock 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur
Anin 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Delta Pharma Limited
Anin 100 100 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Delta Pharma Limited
Araten 100 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Araten 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Araten 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Arbilon 50 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Novatek Pharmaceuticals Ltd.
Belsatan 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Belsen Pharmaceuticals Ltd.
Cardisan 100 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Beacon Pharmaceuticals PLC
Cardisan 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Beacon Pharmaceuticals PLC
Cardisan 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Beacon Pharmaceuticals PLC
Cardoloc 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Avarox Pharmaceuticals Ltd.
Cardon 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Eskayef Pharmaceuticals Ltd. Mirpur.
Cardon 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
CARDON 25 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Eskayef Pharmaceuticals Ltd. Chandana, Gazipur
Cozar 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Cosmic Pharma Ltd.
Cozaril 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Hallmark Pharmaceuticals Ltd.
Cozaril 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Hallmark Pharmaceuticals Ltd.
Etan 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Edruc Ltd.
G-Losartan 25 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Gonoshasthaya Pharmaceuticals Ltd.
G-Losartan 50 mg 50 mg Tablet
লোসার্টান পটাশিয়াম
Gonoshasthaya Pharmaceuticals Ltd.
লোসার্টান পটাশিয়াম কী?
লোসার্টান পটাশিয়াম বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Angiotensin II receptor blocker (ARB) — antihypertensive ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
লোসার্টান পটাশিয়াম কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
লোসার্টান পটাশিয়াম যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:
- উচ্চ রক্তচাপ — এককভাবে বা ডাইউরেটিক, অ্যামলোডিপিন বা অন্য ওষুধের সঙ্গে।
- ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ (নেফ্রোপ্যাথি) — প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির ক্ষতি ধীর করতে।
- হার্ট ফেইলিউর — নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষত এসিই ইনহিবিটরে কাশি হলে।
- স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস — হৃদপিণ্ডের পেশি মোটা হয়ে যাওয়া (লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি) উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের।
আপনার কিডনির কার্যক্ষমতা, পটাশিয়ামের মাত্রা ও অন্যান্য ওষুধ বিবেচনা করে চিকিৎসক লোসার্টান বেছে নেবেন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
লোসার্টান পটাশিয়াম-এর মাত্রা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। উচ্চ রক্তচাপে সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে একবার ৫০ মি.গ্রা.; সাড়া দেখে দৈনিক ২৫–১০০ মি.গ্রা.-এর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। শরীরে পানির ঘাটতি বা লিভারের সমস্যায় কম মাত্রায় শুরু হয়। ডায়াবেটিসে কিডনি সুরক্ষা ও হার্ট ফেইলিউরে চিকিৎসক ধাপে ধাপে ডোজ বাড়ান।
- প্রতিদিন একই সময়ে একবার খান — খাবারসহ বা খালি পেটে।
- নিয়মিত খেলে পূর্ণ প্রভাব আসে ৩–৬ সপ্তাহে।
- ডোজ মিস হলে পরেরটি কাছাকাছি থাকলে বাদ দিন — কখনো ডাবল নয়।
- রিডিং স্বাভাবিক হলেও নিজে থেকে লোসার্টান পটাশিয়াম বন্ধ করবেন না — চাপ স্বাভাবিক মানে ওষুধ কাজ করছে; বন্ধ করলে তা নীরবে আবার বাড়বে।
- নিরাপদ চিকিৎসার অংশ হিসেবে মাঝে মাঝে কিডনি ও পটাশিয়ামের রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লোসার্টান পটাশিয়াম সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা — বিশেষত প্রথম ডোজের পর, গরমে বা পানিশূন্যতায়; ধীরে উঠুন।
- পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া (হাইপারক্যালেমিয়া) — পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে; রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে।
- ক্লান্তি, মাথাব্যথা।
- কিডনি পরীক্ষার মানে পরিবর্তন — সাধারণত সামান্য; চিকিৎসক নজরে রাখেন।
- রক্তচাপ কমে যাওয়া — অজ্ঞান হওয়া বিরল, তবে পানিশূন্যতা বা ডাইউরেটিকের সঙ্গে সম্ভব।
- বিরল: র্যাশ, পেশিতে খিঁচ, বা অ্যানজিওইডিমা (ঠোঁট, জিভ বা মুখ হঠাৎ ফুলে যাওয়া) — এমন হলে ওষুধ বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
এসিই ইনহিবিটরের তুলনায় শুকনো কাশি এতে অনেক কম হয়।
সতর্কতা
লোসার্টান পটাশিয়াম ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো মানুন:
- গর্ভধারণ বাদ দেওয়া ও প্রতিরোধ জরুরি — এআরবি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে; নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন এবং গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান।
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ এবং চিকিৎসকের তদারকি ছাড়া পটাশিয়াম-রক্ষাকারী ডাইউরেটিক এড়িয়ে চলুন।
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন কিডনি রোগ, রেনাল আর্টারি স্টেনোসিস, লিভারের রোগ বা পানিশূন্যতার (বমি, ডায়রিয়া) কথা চিকিৎসককে জানান।
- তীব্র অসুস্থতায় শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে ট্যাবলেট সাময়িক বন্ধ রাখবেন কি না জিজ্ঞেস করুন।
- নির্ধারিত কিডনি ও পটাশিয়াম পরীক্ষাগুলো সময়মতো করান।
- লবণ কমান, ওজন ঠিক রাখুন, নিয়মিত হাঁটুন ও তামাক বর্জন করুন — জীবনযাত্রা এখনো অপরিহার্য।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লোসার্টান পটাশিয়াম-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, বিকল্প লবণ, স্পাইরোনোল্যাকটন, অ্যামিলোরাইড — পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
- এআরবির সঙ্গে এসিই ইনহিবিটর বা অ্যালিস্কিরেন — ডাবল ব্লকেড সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় (কিডনির ক্ষতি, হাইপারক্যালেমিয়া, নিম্নচাপ)।
- NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ইত্যাদি) — রক্তচাপ কমানোর কাজ দুর্বল করে এবং পানিশূন্যতায় কিডনির ওপর চাপ ফেলে।
- লিথিয়াম — মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া হতে পারে; নজরদারি দরকার।
- ডাইউরেটিক ও অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ — মিলিতভাবে চাপ বেশি কমে; চিকিৎসক ডোজের ভারসাম্য রাখবেন।
- রিফাম্পিসিন ও ফ্লুকোনাজল — লোসার্টানের সক্রিয় রূপে রূপান্তর বদলে দিতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের ক্ষেত্রে লোসার্টান পটাশিয়াম ব্যবহার করা যাবে না:
- গর্ভাবস্থা — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে; এআরবি গর্ভের শিশুর কিডনি বিকল, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে ওষুধ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- লোসার্টান বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি।
- লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা।
- ডায়াবেটিস বা উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতায় অ্যালিস্কিরেনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার।
- আগে এআরবিজনিত অ্যানজিওইডিমা হয়ে থাকলে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় লোসার্টান পটাশিয়াম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এআরবি খেলে গর্ভের শিশুর কিডনি নষ্ট হতে পারে, অ্যামনিওটিক পানি কমে যেতে পারে, মাথার খুলির গঠন ব্যাহত হতে পারে — এমনকি শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা চিকিৎসা চলাকালীন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন। গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা মাসিক বন্ধ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান — মিথাইলডোপা বা ল্যাবেটালোলের মতো গর্ভ-নিরাপদ ওষুধে বদলে দেওয়া হবে; রক্তচাপ চিকিৎসাহীন রাখবেন না।
স্তন্যদান: বুকের দুধে লোসার্টান কতটা যায় জানা নেই, তাই স্তন্যদানকালে — বিশেষত নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে — এটি সুপারিশ করা হয় না। এ সময়ের জন্য চিকিৎসক নিরাপদ বিকল্প বেছে দেবেন।
সংরক্ষণ
লোসার্টান পটাশিয়াম ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মোড়কে লেখা মেয়াদ পেরোলে খাবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাড়তি ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
লোসার্টান পটাশিয়াম নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো বোধ করলে আর প্রেশার স্বাভাবিক থাকলে কি লোসার্টান পটাশিয়াম বন্ধ করতে পারি?
না — নিজে থেকে কখনোই লোসার্টান পটাশিয়াম বন্ধ করবেন না। উচ্চ রক্তচাপ নীরব রোগ: আপনি কিছুই টের পান না, অথচ এটি চুপচাপ হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের ক্ষতি করে। আপনার রিডিং স্বাভাবিক আছে কারণ ট্যাবলেটটি চাপ-বাড়ানো হরমোন আটকে রাখছে — বন্ধ করলে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে চাপ ফিরে আসবে, প্রায়ই কোনো সতর্ক উপসর্গ ছাড়াই, যতক্ষণ না স্ট্রোক বা হার্টের সমস্যা ঘটে। এই চিকিৎসা সাধারণত আজীবনের। বাসার রিডিং বেশি কম থাকলে রেকর্ডটি চিকিৎসককে দেখান — তিনি নিরাপদে ডোজ কমাতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় লোসার্টান পটাশিয়াম কি নিরাপদ?
না। লোসার্টান পটাশিয়াম এবং সব এআরবি ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিষিদ্ধ। বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এগুলো গর্ভের শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে পারে, শিশুর চারপাশের অ্যামনিওটিক পানি কমিয়ে দিতে পারে, মাথার খুলির গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে — গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুও ঘটাতে পারে। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই চিকিৎসককে জানান, যেন রক্তচাপের ওষুধ গর্ভ-নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেওয়া যায়। আর ওষুধ চলাকালীন গর্ভধারণ জানতে পারলে সেদিনই ট্যাবলেট বন্ধ করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন — তবে রক্তচাপ চিকিৎসাহীন ফেলে রাখবেন না।
লোসার্টান পটাশিয়াম খাওয়ার সময় চিকিৎসক কেন রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন?
যেকোনো এআরবি চলাকালীন দুটি সহজ রক্তমান নজরে রাখতে হয়: কিডনির কার্যক্ষমতা (ক্রিয়েটিনিন/ইজিএফআর) ও পটাশিয়াম। লোসার্টান পটাশিয়াম কিডনির ছাঁকনির ভেতরের চাপ বদলে দেয় — সাধারণত সুরক্ষামূলকভাবে — কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে (পানিশূন্যতা, কিডনির ধমনি সরু থাকা, NSAID ব্যথানাশক) কিডনির মান নড়চড় করতে পারে; আবার ওষুধটি পটাশিয়ামও বাড়াতে পারে, যা অতিরিক্ত হলে হৃদস্পন্দনের ছন্দ নষ্ট করে। শুরুর আগে একবার, শুরু বা ডোজ বদলের কয়েক সপ্তাহ পরে এবং এরপর মাঝে মাঝে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক যেকোনো পরিবর্তন আগেভাগে ধরে চিকিৎসা সমন্বয় করতে পারেন। এগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা-পরীক্ষা মাত্র — কিছু খারাপ হয়েছে এমন নয়।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।