See in English
Angilock 50 mg Tablet — Losartan Potassium

ট্যাবলেট

Angilock 50 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: লোসার্টান পটাশিয়াম

প্রস্তুতকারক: Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur

থেরাপিউটিক ক্লাস: Angiotensin II receptor blocker (ARB) — antihypertensive

Angilock এর কাজ কি?

Angilock (ট্যাবলেট)-এর উপাদান লোসার্টান পটাশিয়াম 50 mg, প্রস্তুতকারক Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur। থেরাপিউটিক ক্লাস: Angiotensin II receptor blocker (ARB) — antihypertensive।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 10.00
Strip of 10 ৳ 100.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Angilock কী?

Angilock 50 mg ট্যাবলেটে losartan potassium থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত angiotensin II receptor blocker। এটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য দেওয়া হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কিডনি সুরক্ষা বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হতে পারে।

Angilock 50 mg tablet হলো Square Pharmaceuticals PLC, Gazipur-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Losartan Potassium। এটি অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (এআরবি) পরিবারের সদস্য — উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনি সুরক্ষায় এবং নির্বাচিত হার্ট ফেইলিউর রোগীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত। এসিই ইনহিবিটরের মতো শুকনো কাশি এতে প্রায় হয় না বলে এটি জনপ্রিয় বিকল্প।

লোসার্টান কাজ করে অ্যানজিওটেনসিন-২ নামের প্রাকৃতিক হরমোনকে আটকে দিয়ে — এই হরমোনটি রক্তনালি সংকুচিত করে রক্তচাপ বাড়ায়। হরমোনের রিসেপ্টর বন্ধ থাকলে রক্তনালি শিথিল ও প্রশস্ত থাকে, ফলে রক্তচাপ কমে এবং হৃদপিণ্ডকে কম বাধার বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। একই প্রক্রিয়ায় কিডনির ছাঁকনিগুলোর ভেতরের চাপও কমে — প্রোটিন বের হয়ে যাওয়া ধীর হয় এবং বছরের পর বছর কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা পায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ মূল্যবান।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Angilock যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • উচ্চ রক্তচাপ — এককভাবে বা ডাইউরেটিক, অ্যামলোডিপিন বা অন্য ওষুধের সঙ্গে।
  • ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ (নেফ্রোপ্যাথি) — প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির ক্ষতি ধীর করতে।
  • হার্ট ফেইলিউর — নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষত এসিই ইনহিবিটরে কাশি হলে।
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস — হৃদপিণ্ডের পেশি মোটা হয়ে যাওয়া (লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি) উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের।

আপনার কিডনির কার্যক্ষমতা, পটাশিয়ামের মাত্রা ও অন্যান্য ওষুধ বিবেচনা করে চিকিৎসক লোসার্টান বেছে নেবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Angilock 50 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Angilock সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা — বিশেষত প্রথম ডোজের পর, গরমে বা পানিশূন্যতায়; ধীরে উঠুন।
  • পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া (হাইপারক্যালেমিয়া) — পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে; রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে।
  • ক্লান্তি, মাথাব্যথা।
  • কিডনি পরীক্ষার মানে পরিবর্তন — সাধারণত সামান্য; চিকিৎসক নজরে রাখেন।
  • রক্তচাপ কমে যাওয়া — অজ্ঞান হওয়া বিরল, তবে পানিশূন্যতা বা ডাইউরেটিকের সঙ্গে সম্ভব।
  • বিরল: র‍্যাশ, পেশিতে খিঁচ, বা অ্যানজিওইডিমা (ঠোঁট, জিভ বা মুখ হঠাৎ ফুলে যাওয়া) — এমন হলে ওষুধ বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

এসিই ইনহিবিটরের তুলনায় শুকনো কাশি এতে অনেক কম হয়।

সতর্কতা

Angilock ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো মানুন:

  • গর্ভধারণ বাদ দেওয়া ও প্রতিরোধ জরুরি — এআরবি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে; নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন এবং গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান।
  • পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ এবং চিকিৎসকের তদারকি ছাড়া পটাশিয়াম-রক্ষাকারী ডাইউরেটিক এড়িয়ে চলুন।
  • চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন কিডনি রোগ, রেনাল আর্টারি স্টেনোসিস, লিভারের রোগ বা পানিশূন্যতার (বমি, ডায়রিয়া) কথা চিকিৎসককে জানান।
  • তীব্র অসুস্থতায় শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে ট্যাবলেট সাময়িক বন্ধ রাখবেন কি না জিজ্ঞেস করুন।
  • নির্ধারিত কিডনি ও পটাশিয়াম পরীক্ষাগুলো সময়মতো করান।
  • লবণ কমান, ওজন ঠিক রাখুন, নিয়মিত হাঁটুন ও তামাক বর্জন করুন — জীবনযাত্রা এখনো অপরিহার্য।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Angilock-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‍্যাকশন:

  • পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, বিকল্প লবণ, স্পাইরোনোল্যাকটন, অ্যামিলোরাইড — পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
  • এআরবির সঙ্গে এসিই ইনহিবিটর বা অ্যালিস্কিরেন — ডাবল ব্লকেড সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় (কিডনির ক্ষতি, হাইপারক্যালেমিয়া, নিম্নচাপ)।
  • NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ইত্যাদি) — রক্তচাপ কমানোর কাজ দুর্বল করে এবং পানিশূন্যতায় কিডনির ওপর চাপ ফেলে।
  • লিথিয়াম — মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া হতে পারে; নজরদারি দরকার।
  • ডাইউরেটিক ও অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ — মিলিতভাবে চাপ বেশি কমে; চিকিৎসক ডোজের ভারসাম্য রাখবেন।
  • রিফাম্পিসিন ও ফ্লুকোনাজল — লোসার্টানের সক্রিয় রূপে রূপান্তর বদলে দিতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Angilock ব্যবহার করা যাবে না:

  • গর্ভাবস্থা — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে; এআরবি গর্ভের শিশুর কিডনি বিকল, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে ওষুধ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • লোসার্টান বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি।
  • লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা।
  • ডায়াবেটিস বা উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতায় অ্যালিস্কিরেনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার।
  • আগে এআরবিজনিত অ্যানজিওইডিমা হয়ে থাকলে।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Angilock সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এআরবি খেলে গর্ভের শিশুর কিডনি নষ্ট হতে পারে, অ্যামনিওটিক পানি কমে যেতে পারে, মাথার খুলির গঠন ব্যাহত হতে পারে — এমনকি শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা চিকিৎসা চলাকালীন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন। গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা মাসিক বন্ধ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান — মিথাইলডোপা বা ল্যাবেটালোলের মতো গর্ভ-নিরাপদ ওষুধে বদলে দেওয়া হবে; রক্তচাপ চিকিৎসাহীন রাখবেন না।

স্তন্যদান: বুকের দুধে লোসার্টান কতটা যায় জানা নেই, তাই স্তন্যদানকালে — বিশেষত নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে — এটি সুপারিশ করা হয় না। এ সময়ের জন্য চিকিৎসক নিরাপদ বিকল্প বেছে দেবেন।

সংরক্ষণ

Angilock ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মোড়কে লেখা মেয়াদ পেরোলে খাবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাড়তি ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

গর্ভাবস্থায় Angilock কি নিরাপদ?

না। Angilock এবং সব এআরবি ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিষিদ্ধ। বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এগুলো গর্ভের শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে পারে, শিশুর চারপাশের অ্যামনিওটিক পানি কমিয়ে দিতে পারে, মাথার খুলির গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে — গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুও ঘটাতে পারে। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই চিকিৎসককে জানান, যেন রক্তচাপের ওষুধ গর্ভ-নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেওয়া যায়। আর ওষুধ চলাকালীন গর্ভধারণ জানতে পারলে সেদিনই ট্যাবলেট বন্ধ করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন — তবে রক্তচাপ চিকিৎসাহীন ফেলে রাখবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →