জেনেরিক
ল্যাকটুলোজ
বাংলাদেশে ল্যাকটুলোজ জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
66টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Actilac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Healthcare Pharmaceuticals Ltd.
Actulose 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Silva Pharmaceuticals Ltd.
Asilac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Asiatic Laboratories Ltd.
Avolac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Aristopharma Limited
Avolose 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Team Pharmaceuticals Ltd.
Comfort 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
APC Pharma Limited
Conlax 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Conloss 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Everest Pharmaceuticals Ltd.
Constilac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Renata PLC
Contilos 100 ml 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Goodman Pharmaceuticals Ltd
D-Lac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Drug International Ltd.
Dulac Oral Solution 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Chemist Laboratories Ltd.
E-Lax 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Edruc Ltd.
Evolac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Jams Pharmaceuticals Ltd.
Ezelac Oral Solution 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
MST Pharma and Healthcare Ltd.
Ezylax 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Orion Pharma Ltd.
G-Lactulose Solution 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Gonoshasthaya Pharmaceuticals Ltd.
Hemolac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Amulet Pharmaceuticals Ltd.
Hepalac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Supreme Pharmaceuticals Ltd.
Inolac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Isolac 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Concord Pharmaceuticals Ltd.
Laclose 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Opsonin Pharma Limited
Lacos 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Avarox Pharmaceuticals Ltd.
Lactoben Solution 68 % Oral Solution
ল্যাকটুলোজ
Benham Pharmaceuticals Ltd.
ল্যাকটুলোজ কী?
ল্যাকটুলোজ বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Osmotic Laxative ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
ল্যাকটুলোজ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ল্যাকটুলোজ যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য — পায়খানা নরম করে নিয়মিত, স্বস্তিদায়ক অভ্যাস ফেরাতে
- গর্ভাবস্থা, শিশু ও বয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য — মৃদু কার্যকারিতা ও ন্যূনতম শোষণের জন্য পছন্দনীয়
- নরম পায়খানা প্রয়োজন এমন অবস্থায় — যেমন পাইলস, এনাল ফিশার বা পায়ুপথের অস্ত্রোপচারের পরে
- হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি — উন্নত লিভার রোগে রক্তের অ্যামোনিয়া কমাতে চিকিৎসকের নির্ধারিত উচ্চমাত্রায়
কোষ্ঠকাঠিন্য নতুন, তীব্র বা সতর্ক-লক্ষণসহ হলে আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে কারণ নিশ্চিত করুন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ল্যাকটুলোজ সিরাপের সাধারণ মাত্রা:
- কোষ্ঠকাঠিন্যে (প্রাপ্তবয়স্ক): শুরুতে দিনে ১৫-৩০ মি.লি. (একবারে বা ভাগ করে), পরে নরম দৈনিক পায়খানা বজায় রাখে এমন সর্বনিম্ন মাত্রায় সমন্বয় — প্রায়ই ১০-২৫ মি.লি.
- শিশু: ওজন ও বয়স অনুযায়ী, শুধুই চিকিৎসকের নির্দেশমতো
- হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি: দিনে তিন-চারবার ৩০-৪৫ মি.লি.; দিনে ২-৩ বার নরম পায়খানার লক্ষ্যে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করবেন
মিষ্টি স্বাদ ঢাকতে ল্যাকটুলোজ পানি, ফলের রস বা খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়। কাজ হতে ১-২ দিন সময় দিন; অধৈর্য হয়ে মাত্রা বাড়াবেন না। চিকিৎসা চলাকালে প্রচুর পানি পান করুন। মাত্রা ও মেয়াদ — বিশেষত দীর্ঘমেয়াদে — রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ল্যাকটুলোজ-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত মৃদু এবং অন্ত্র অভ্যস্ত হলে প্রায়ই কমে যায়:
- সাধারণ, বিশেষত শুরুতে: পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে মোচড়, পেট ডাকা
- বেশি মাত্রায়: ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি
- দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায়: পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের গোলযোগ (পটাশিয়াম-সোডিয়াম কমে যাওয়া)
ডায়রিয়া হলে বুঝবেন মাত্রা বেশি হয়ে গেছে — মাত্রা কমিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটানা বমি, মাথা ঘোরা ও প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো পানিশূন্যতার লক্ষণ, কিংবা কয়েক দিন ঠিকমতো খাওয়ার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ল্যাকটুলোজ ব্যবহারে সতর্কতা:
- ডায়াবেটিস: কোষ্ঠকাঠিন্যের স্বাভাবিক মাত্রায় শোষণযোগ্য চিনি সামান্যই, তবে এনসেফালোপ্যাথির উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের তদারকি দরকার
- ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা: প্রিপারেশনে স্বল্প পরিমাণ সমজাতীয় চিনি থাকে — তীব্র অসহিষ্ণুতা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন
- স্থায়ী উপকারের জন্য পর্যাপ্ত পানি, আঁশযুক্ত খাবার ও শরীরচর্চার সঙ্গে মিলিয়ে নিন
- বয়স্কদের নতুন কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়খানায় রক্ত, ওজন হ্রাস বা পায়খানার অভ্যাসে ওঠানামা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি ল্যাক্সেটিভের আগে পরীক্ষা জরুরি
- চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য — নিজে নিজে অনির্দিষ্টকাল না চালিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করান
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ল্যাকটুলোজ-এর গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া অল্পই:
- অন্যান্য ল্যাক্সেটিভ: এনসেফালোপ্যাথির চিকিৎসায় একসঙ্গে খেলে পায়খানার যে হিসাব দেখে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন, তা গুলিয়ে যেতে পারে
- অ্যান্টাসিড: লিভার রোগীদের অ্যামোনিয়া-কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৃহদন্ত্রের অম্লতা কমিয়ে দিতে পারে
- অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন নিওমাইসিন, রিফাক্সিমিন): অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বদলে দেয়; লিভার রোগে চিকিৎসকরা বিষয়টি বিবেচনায় রাখেন — কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে একসঙ্গেও দেন
- ডাইইউরেটিক ও কর্টিকোস্টেরয়েড: ল্যাকটুলোজজনিত ডায়রিয়ায় পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়তে পারে — ডিগক্সিন-গ্রহণকারী হৃদরোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
লিভার বা হৃদরোগ থাকলে আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব ক্ষেত্রে ল্যাকটুলোজ ব্যবহার করা যাবে না:
- ল্যাকটুলোজ বা -এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
- গ্যালাকটোসেমিয়া — গ্যালাকটোজ বিপাকের বিরল জন্মগত রোগ
- অন্ত্র বন্ধ (অবস্ট্রাকশন), অন্ত্র ছিদ্র বা ছিদ্রের ঝুঁকি, এবং অন্ত্রের তীব্র প্রদাহজনিত জরুরি অবস্থা
- কারণ-নির্ণয় হয়নি এমন তীব্র পেটব্যথা — আগে কারণ নিশ্চিত করতে হবে
তীব্র ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় এবং শরীরে পানির তারতম্য সহ্য করতে পারেন না এমন রোগীদের সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। সন্দেহ থাকলে শুরুর আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে উপযুক্ততা নিশ্চিত করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: ল্যাকটুলোজ অন্ত্র থেকে খুব সামান্যই শোষিত হয়; আঁশ ও পানিতে কাজ না হলে গর্ভাবস্থার কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি অন্যতম পছন্দের ল্যাক্সেটিভ হিসেবে বিবেচিত। নির্ধারিত মাত্রায় খান এবং গর্ভকালীন চিকিৎসককে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন।
স্তন্যদান: মায়ের রক্তে শোষণ নগণ্য বলে বুকের দুধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পৌঁছায় না — ল্যাকটুলোজ সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবু স্তন্যদানকারী মা সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় খাবেন এবং চিকিৎসার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন; ফ্রিজে রাখবেন না — ঠান্ডায় সিরাপ ঘন বা দানাদার হয়ে যেতে পারে। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। সময়ের সঙ্গে রং সামান্য গাঢ় হতে পারে। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন এবং মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না।
ল্যাকটুলোজ নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোষ্ঠকাঠিন্যে ল্যাকটুলোজ কাজ করতে কত সময় নেয়?
ল্যাকটুলোজ-এ নরম পায়খানা হতে সাধারণত ২৪-৪৮ ঘণ্টা লাগে — কারণ ল্যাকটুলোজকে আগে বৃহদন্ত্রে পৌঁছে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে গাঁজিত হতে হয়, তবেই এটি পানি টেনে আনে। এটাই স্বাভাবিক — প্রথম দিনে তাৎক্ষণিক ফলের আশায় বাড়তি ডোজ খাবেন না; এতে পরে পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়া হয়। প্রতিদিন একই সময়ে নিয়মিত খান, প্রচুর পানি পান করুন — কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণত ছন্দ তৈরি হয়ে যায়।
মাসের পর মাস প্রতিদিন ল্যাকটুলোজ খাওয়া কি নিরাপদ?
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে তুলনামূলক নিরাপদ ল্যাক্সেটিভগুলোর একটি ল্যাকটুলোজ — এটি শোষিত হয় না এবং স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভের মতো অন্ত্রকে "অলস" করে না। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস বা লিভার রোগের অনেক রোগী চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এটি প্রতিদিন খান। মূল শর্ত: চিকিৎসক রোগনির্ণয় নিশ্চিত করবেন, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ঠিক করবেন এবং নিয়মিত ফলোআপ করবেন। ফলোআপ ছাড়া নিজে নিজে অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাবেন না।
কোষ্ঠকাঠিন্য না থাকা সত্ত্বেও লিভারের অসুখে চিকিৎসক কেন ল্যাকটুলোজ দিলেন?
উন্নত পর্যায়ের লিভার রোগে অন্ত্রের অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য টক্সিন রক্তে জমে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে — একে বলে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি, যাতে বিভ্রান্তি, ঝিমুনি বা কাঁপুনি হয়। উচ্চমাত্রার ল্যাকটুলোজ বৃহদন্ত্রকে অম্লীয় করে অ্যামোনিয়াকে পায়খানায় আটকে ফেলে এবং দিনে ২-৩ বার নরম পায়খানার মাধ্যমে বের করে দেয়। এখানে নরম পায়খানাই চিকিৎসার লক্ষ্য, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয় — তাই চিকিৎসক যেভাবে মাত্রা ঠিক করে দেন, ঠিক সেভাবেই খান।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।