See in English

খাওয়ার দ্রবণ

E-Lax 68 % খাওয়ার দ্রবণ

জেনেরিক: ল্যাকটুলোজ

প্রস্তুতকারক: Edruc Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Osmotic Laxative

E-Lax এর কাজ কি?

E-Lax (খাওয়ার দ্রবণ)-এর উপাদান ল্যাকটুলোজ 68 %, প্রস্তুতকারক Edruc Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Osmotic Laxative।

E-Lax কী?

E-Lax 68% Oral Solution-এ আছে lactulose, যা Edruc Ltd. সরবরাহকৃত একটি osmotic laxative। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ব্যবহৃত হয় এবং লিভার রোগে hepatic encephalopathy নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক দিতে পারেন।

E-Lax 68 % oral solution হলো Edruc Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Lactulose — একটি অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ, যা প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু ও বয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্যে বহুল ব্যবহৃত। উচ্চমাত্রায় এটি গুরুতর লিভার রোগের জটিলতা হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়। E-Lax মৃদু ওষুধ, তবে সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে না — স্বস্তিদায়ক পায়খানা হতে সাধারণত ১-২ দিন লাগে।

Lactulose একটি কৃত্রিম চিনি, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম বা শোষিত হয় না। এটি বৃহদন্ত্রে পৌঁছে অসমোসিসের মাধ্যমে অন্ত্রে পানি টেনে আনে এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া একে মৃদু অ্যাসিডে পরিণত করে। এতে পায়খানা নরম হয়, পরিমাণ বাড়ে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলন উদ্দীপিত হয়। লিভার রোগে অম্লীয় পরিবেশ অ্যামোনিয়াকে আটকে ফেলে, ফলে তা পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Lactulose যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য — পায়খানা নরম করে নিয়মিত, স্বস্তিদায়ক অভ্যাস ফেরাতে
  • গর্ভাবস্থা, শিশু ও বয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য — মৃদু কার্যকারিতা ও ন্যূনতম শোষণের জন্য পছন্দনীয়
  • নরম পায়খানা প্রয়োজন এমন অবস্থায় — যেমন পাইলস, এনাল ফিশার বা পায়ুপথের অস্ত্রোপচারের পরে
  • হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি — উন্নত লিভার রোগে রক্তের অ্যামোনিয়া কমাতে চিকিৎসকের নির্ধারিত উচ্চমাত্রায়

কোষ্ঠকাঠিন্য নতুন, তীব্র বা সতর্ক-লক্ষণসহ হলে আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে কারণ নিশ্চিত করুন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর E-Lax 68 % খাওয়ার দ্রবণ-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Lactulose-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত মৃদু এবং অন্ত্র অভ্যস্ত হলে প্রায়ই কমে যায়:

  • সাধারণ, বিশেষত শুরুতে: পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে মোচড়, পেট ডাকা
  • বেশি মাত্রায়: ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি
  • দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায়: পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের গোলযোগ (পটাশিয়াম-সোডিয়াম কমে যাওয়া)

ডায়রিয়া হলে বুঝবেন মাত্রা বেশি হয়ে গেছে — মাত্রা কমিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটানা বমি, মাথা ঘোরা ও প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো পানিশূন্যতার লক্ষণ, কিংবা কয়েক দিন ঠিকমতো খাওয়ার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

Lactulose ব্যবহারে সতর্কতা:

  • ডায়াবেটিস: কোষ্ঠকাঠিন্যের স্বাভাবিক মাত্রায় শোষণযোগ্য চিনি সামান্যই, তবে এনসেফালোপ্যাথির উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের তদারকি দরকার
  • ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা: প্রিপারেশনে স্বল্প পরিমাণ সমজাতীয় চিনি থাকে — তীব্র অসহিষ্ণুতা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন
  • স্থায়ী উপকারের জন্য পর্যাপ্ত পানি, আঁশযুক্ত খাবার ও শরীরচর্চার সঙ্গে মিলিয়ে নিন
  • বয়স্কদের নতুন কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়খানায় রক্ত, ওজন হ্রাস বা পায়খানার অভ্যাসে ওঠানামা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি ল্যাক্সেটিভের আগে পরীক্ষা জরুরি
  • চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য — নিজে নিজে অনির্দিষ্টকাল না চালিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করান

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Lactulose-এর গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া অল্পই:

  • অন্যান্য ল্যাক্সেটিভ: এনসেফালোপ্যাথির চিকিৎসায় একসঙ্গে খেলে পায়খানার যে হিসাব দেখে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন, তা গুলিয়ে যেতে পারে
  • অ্যান্টাসিড: লিভার রোগীদের অ্যামোনিয়া-কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৃহদন্ত্রের অম্লতা কমিয়ে দিতে পারে
  • অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন নিওমাইসিন, রিফাক্সিমিন): অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বদলে দেয়; লিভার রোগে চিকিৎসকরা বিষয়টি বিবেচনায় রাখেন — কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে একসঙ্গেও দেন
  • ডাইইউরেটিক ও কর্টিকোস্টেরয়েড: ল্যাকটুলোজজনিত ডায়রিয়ায় পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়তে পারে — ডিগক্সিন-গ্রহণকারী হৃদরোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

লিভার বা হৃদরোগ থাকলে আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

যেসব ক্ষেত্রে Lactulose ব্যবহার করা যাবে না:

  • ল্যাকটুলোজ বা oral solution-এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
  • গ্যালাকটোসেমিয়া — গ্যালাকটোজ বিপাকের বিরল জন্মগত রোগ
  • অন্ত্র বন্ধ (অবস্ট্রাকশন), অন্ত্র ছিদ্র বা ছিদ্রের ঝুঁকি, এবং অন্ত্রের তীব্র প্রদাহজনিত জরুরি অবস্থা
  • কারণ-নির্ণয় হয়নি এমন তীব্র পেটব্যথা — আগে কারণ নিশ্চিত করতে হবে

তীব্র ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় এবং শরীরে পানির তারতম্য সহ্য করতে পারেন না এমন রোগীদের সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। সন্দেহ থাকলে শুরুর আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে উপযুক্ততা নিশ্চিত করুন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: ল্যাকটুলোজ অন্ত্র থেকে খুব সামান্যই শোষিত হয়; আঁশ ও পানিতে কাজ না হলে গর্ভাবস্থার কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি অন্যতম পছন্দের ল্যাক্সেটিভ হিসেবে বিবেচিত। নির্ধারিত মাত্রায় খান এবং গর্ভকালীন চিকিৎসককে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন।

স্তন্যদান: মায়ের রক্তে শোষণ নগণ্য বলে বুকের দুধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পৌঁছায় না — ল্যাকটুলোজ সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবু স্তন্যদানকারী মা সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় খাবেন এবং চিকিৎসার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন; ফ্রিজে রাখবেন না — ঠান্ডায় সিরাপ ঘন বা দানাদার হয়ে যেতে পারে। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। সময়ের সঙ্গে রং সামান্য গাঢ় হতে পারে। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন এবং মেয়াদ পেরোলে ব্যবহার করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →