ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Photorealistic image of a tired-looking woman holding her lower abdomen while a doctor points to a uterine fibroid on an ultrasound image in a clinic

জরায়ুর টিউমার (ফাইব্রয়েড): রক্তপাত ও চিকিৎসা

জরায়ুর ফাইব্রয়েড বাংলাদেশের নারীদের অন্যতম সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে সন্তান ধারণের বয়সে। একে বোঝাতে প্রায়ই ভয়ংকর "টিউমার" শব্দটি ব্যবহার হলেও ফাইব্রয়েড প্রায় সবসময়ই ক্যান্সার-নয়, আর অনেকেরই কোনো সমস্যা করে না। অনেক নারীর জন্য আসল সমস্যা হলো ভারী, দীর্ঘস্থায়ী মাসিক, যা চুপচাপ শরীর থেকে আয়রন কমিয়ে রক্তস্বল্পতা তৈরি করে। লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসার উপায়গুলো জানলে ভয় পেয়ে তাড়াহুড়ো করে অপারেশনে না গিয়ে আপনি শান্তভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

জরায়ুর ফাইব্রয়েড কী?

ফাইব্রয়েড হলো পেশি ও তন্তুময় কোষ দিয়ে তৈরি শক্ত পিণ্ড, যা জরায়ুর (গর্ভাশয়) দেয়ালে বা গায়ে জন্মায়। এগুলো একটি বীজের মতো ছোট হতে পারে, আবার পেটের আকার বদলে দেওয়ার মতো বড়ও হতে পারে। একজন নারীর একটি বা একাধিক ফাইব্রয়েড থাকতে পারে, এবং সেগুলো জরায়ুর ভেতরের গহ্বরে, পেশির দেয়ালের ভেতরে বা বাইরের পৃষ্ঠে থাকতে পারে। এর বৃদ্ধি নারী-হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন দিয়ে চালিত, এজন্যই মেনোপজের পর ফাইব্রয়েড সাধারণত ছোট হয়ে আসে।

লক্ষণ ও সতর্ক-সংকেত কী?

অনেক ফাইব্রয়েডে কোনো উপসর্গ থাকে না। থাকলে সবচেয়ে কষ্টকর হলো রক্তপাত। সাধারণ উপসর্গগুলো হলো:

  • ভারী বা দীর্ঘস্থায়ী মাসিক, কখনো রক্তের চাকা (ক্লট) সহ।
  • মাসিকের মাঝে রক্তপাত বা খুব ঘন ঘন মাসিক।
  • তলপেটে চাপ ধরা বা ভরাট লাগা।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়া।
  • কোমরে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা সহবাসের সময় ব্যথা।

প্রতি ঘণ্টায় প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় রক্তের চাকা যাওয়া, কিংবা দুর্বল, হাঁপ ধরা ও খুব ক্লান্ত লাগা মানে আপনি এত রক্ত হারিয়েছেন যে রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে—এতে দ্রুত মনোযোগ দরকার।

ফাইব্রয়েডের সঙ্গে রক্তস্বল্পতার সম্পর্ক কেন?

মাসের পর মাস ভারী রক্তপাতে শরীর থেকে আয়রন এত বেশি বের হয় যে খাবার তা পূরণ করতে পারে না। ফলে আয়রন-স্বল্পতার রক্তস্বল্পতা হয়, যাতে নারীরা ক্লান্ত, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে এবং সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। বাংলাদেশে যেখানে অনেক নারীর আগে থেকেই আয়রন কম থাকে, সেখানে ফাইব্রয়েডের রক্তপাত রক্তস্বল্পতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তপাতের চিকিৎসা ও আয়রন পূরণ একসঙ্গে করাই প্রায়ই ভালো বোধ করার চাবিকাঠি। আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিজে নিজে নয়, ডাক্তারের পরামর্শে নিন।

কী কারণে হয় এবং কাদের ঝুঁকি বেশি?

সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা নেই, তবে হরমোন স্পষ্টতই কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। পরিবারে থাকলে, কম বয়সে মাসিক শুরু হলে, বা স্থূলতা থাকলে ফাইব্রয়েডের সম্ভাবনা বেশি। একাধিকবার গর্ভধারণ করেছেন এমন নারীদের কম হয়। ফাইব্রয়েড আপনার কোনো ভুলের কারণে হয় না এবং এটি ছোঁয়াচে নয়। এটি নিশ্চিত করতে এবং আকার ও অবস্থান মাপতে সাধারণত শ্রোণির আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়।

চিকিৎসার উপায় কী কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে আপনার উপসর্গ, ফাইব্রয়েডের আকার ও সংখ্যা, বয়স এবং সন্তান নিতে চান কি না—তার ওপর। উপায়গুলো হলো:

  • নজরে রাখা: ছোট, উপসর্গহীন ফাইব্রয়েডে প্রায়ই কোনো চিকিৎসা লাগে না, শুধু নিয়মিত দেখানো যথেষ্ট।
  • ওষুধ: হরমোন চিকিৎসা ও ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড ভারী রক্তপাত কমাতে পারে, আর আয়রন রক্তস্বল্পতা সারায়। মাসিকের ব্যথায় মেডিসিন ডিরেক্টরিতে থাকা প্যারাসিটামলের মতো একটি পরিচিত ওষুধ আরাম দিতে পারে।
  • অপারেশন: মায়োমেকটমিতে জরায়ু রেখে শুধু ফাইব্রয়েড বাদ দেওয়া হয়, যা সন্তান নিতে চান এমন নারীদের জন্য উপযোগী; আর হিস্টেরেকটমিতে জরায়ু বাদ দেওয়া হয়, যা পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এমন নারীদের জন্য স্থায়ী সমাধান।

এই উপায়গুলোর মধ্যে কোনটি ভালো, তা বিচার করতে আপনার গাইনি ডাক্তার সাহায্য করবেন; একজন নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞকে আপনি আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে খুঁজে নিতে পারেন, আর চিকিৎসার রেকর্ড পরিপাটি রাখতে পারেন আমাদের ফ্রি প্রেসক্রিপশন টুল দিয়ে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

মাসিক ভারী হলে বা সাত দিনের বেশি চললে, মাসিকের মাঝে রক্তপাত হলে, তলপেটে অবিরাম চাপ অনুভব করলে, কিংবা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও হাঁপ ধরার মতো রক্তস্বল্পতার লক্ষণ থাকলে গাইনি ডাক্তার দেখান। প্রতি ঘণ্টায় প্যাড ভিজে যাওয়া খুব ভারী রক্তপাত, হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা, বা অজ্ঞান হওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা নিন। মেনোপজের পর যেকোনো অস্বাভাবিক রক্তপাত সবসময় দ্রুত যাচাই করিয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জরায়ুর ফাইব্রয়েড কি ক্যান্সার?

না। ফাইব্রয়েড ক্যান্সার-নয় এমন পিণ্ড, আর সত্যিকারের ক্যান্সার (সারকোমা) ফাইব্রয়েড ভেবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও দ্রুত বেড়ে ওঠা যেকোনো পিণ্ড বা অস্বাভাবিক রক্তপাত নিশ্চিত হতে ডাক্তার দিয়ে যাচাই করানো উচিত।

ফাইব্রয়েড থাকলে কি গর্ভধারণ করা যায়?

ফাইব্রয়েড আছে এমন অনেক নারীই গর্ভধারণ করেন এবং সুস্থ সন্তান জন্ম দেন। আকার ও অবস্থান অনুযায়ী কিছু ফাইব্রয়েড গর্ভধারণ কঠিন করতে পারে বা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চেষ্টা করার আগে গাইনি ডাক্তারের সঙ্গে পরিকল্পনা আলোচনা করা ভালো।

ফাইব্রয়েড কি নিজে থেকে চলে যায়?

মেনোপজের আগে এটি খুব কমই মিলিয়ে যায়, তবে ছোট ফাইব্রয়েড বছরের পর বছর একই থেকে কোনো সমস্যা না-ও করতে পারে। মেনোপজের পর হরমোন কমে গেলে ফাইব্রয়েড সাধারণত ছোট হয় এবং উপসর্গ অনেকটা কমে।

আমার কি অবশ্যই জরায়ু বাদ দিতে হবে?

না। হিস্টেরেকটমি একটিমাত্র উপায় এবং সাধারণত গুরুতর ক্ষেত্রে বা পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এমন নারীদের জন্যই রাখা হয়। অনেক নারীকে ওষুধে বা শুধু ফাইব্রয়েড-বাদ দেওয়া অপারেশনে সামলানো যায়, আর এ বিষয়ে আরও জানতে পারেন আমাদের স্বাস্থ্য টিপস সংগ্রহে।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়, তাই নিজের অবস্থার জন্য একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?