ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

গর্ভাবস্থায় পুষ্টি: আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও খাদ্য

গর্ভাবস্থা এমন এক সময়, যখন মায়ের খাওয়া একসঙ্গে দুটি জীবনকে পুষ্টি জোগায়। বাংলাদেশে গর্ভকালে রক্তস্বল্পতা ও পুষ্টিহীনতা এখনো সাধারণ, অথচ সঠিক খাবার ও সহজ সাপ্লিমেন্টে এগুলো অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য। ভালো পুষ্টি শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে, মায়ের শক্তি ধরে রাখে এবং গর্ভকাল ও প্রসবের সময় জটিলতার ঝুঁকি কমায়। ভালো খেতে দামি খাবার লাগে না; প্রতিদিনের স্থানীয় খাবারের একটি সুষম থালা, সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট—এটুকুই অনেক কাজে আসে।

গর্ভাবস্থায় পুষ্টি কেন জরুরি?

গর্ভাবস্থায় শিশুর শরীর ও গর্ভফুল তৈরি করতে, মায়ের রক্তের পরিমাণ বাড়াতে এবং বুকের দুধের প্রস্তুতির জন্য শরীরের বাড়তি শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লাগে। ভালো খাওয়া মানে পরিমাণে দুজনের জন্য খাওয়া নয়, বরং আরও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া। ভালো পুষ্টি কম ওজনের শিশু, রক্তস্বল্পতা ও কিছু জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা কমায় এবং প্রসবের পর মাকে সেরে উঠতে সাহায্য করে। নিয়মিত গর্ভকালীন পরীক্ষায় ডাক্তার ওজন, রক্তচাপ ও রক্তের পরিমাণ খেয়াল রাখতে পারেন।

আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

গর্ভাবস্থায় দুটি পুষ্টি উপাদান বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।

  • ফলিক অ্যাসিড: গর্ভধারণের আগে থেকে ও গর্ভের প্রথম দিকে খেলে এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গুরুতর ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ কারণেই ডাক্তাররা যত আগে সম্ভব এটি নিতে বলেন।
  • আয়রন: বাড়তি রক্ত তৈরিতে শরীরের অনেক বেশি আয়রন লাগে; কম হলে রক্তস্বল্পতা হয়, মা ক্লান্ত, শ্বাসকষ্টগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েন এবং প্রসবের সময় ঝুঁকি বাড়ে।

বাংলাদেশে বেশিরভাগ গর্ভবতী নারীকে নিয়মিত গর্ভকালীন সেবার অংশ হিসেবে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট, প্রায়ই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, নিতে বলা হয়। শুধু ডাক্তার যা দেন তা-ই নিন; এগুলো সম্পর্কে আমাদের মেডিসিন ডিরেক্টরিতে পড়তে পারেন, তবে নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না।

কী খাবেন, আর কী এড়িয়ে চলবেন?

স্থানীয় খাবার থেকে নানা রকমের একটি থালা বেশিরভাগ চাহিদাই পূরণ করে।

  • খাবেন: শক্তির জন্য ভাত ও গোটা শস্য; প্রোটিনের জন্য ডাল, ডিম, মাছ, মাংস ও দুধ; আয়রনের জন্য সবুজ শাক, কলিজা ও শিম; আর ভিটামিনের জন্য রঙিন ফল ও সবজি।
  • আয়রন শোষণ বাড়াতে: আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু, আমলকী, পেয়ারা বা কমলার মতো ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার রাখুন।
  • এড়িয়ে চলুন: কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম, মাছ ও মাংস; জ্বাল না দেওয়া দুধ; কেটে রাখা ফল ও খোলা জায়গায় রাখা খাবার; এবং কড়া চা-কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন।
  • কমিয়ে রাখুন: খুব তেল, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার, আর মদ্যপান ও ধূমপান একেবারে এড়িয়ে চলুন।

নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন এবং ফল-সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যাতে গর্ভাবস্থায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রমণ এড়ানো যায়।

কতটুকু ওজন বৃদ্ধি স্বাস্থ্যকর, আর বমিভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য কীভাবে সামলাবেন?

কিছুটা ওজন বাড়া স্বাভাবিক ও দরকারি, আর সঠিক পরিমাণ আপনার শুরুর ওজনের ওপর নির্ভর করে, তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে লক্ষ্যমাত্রা ডাক্তারকে ঠিক করতে দিন। হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ার চেয়ে ধীরে ও ধারাবাহিকভাবে বাড়াই স্বাস্থ্যকর। সাধারণ অস্বস্তির জন্য: সকালের বমিভাব কমাতে অল্প অল্প করে বারবার খান ও বিস্কুটের মতো শুকনো খাবার নিন, কড়া গন্ধ এড়ান এবং সারাদিন অল্প অল্প পানি পান করুন। আয়রন ট্যাবলেটে প্রায়ই বাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য সবজি, ফল ও গোটা শস্য থেকে আঁশ যোগ করুন, প্রচুর পানি পান করুন এবং হালকাভাবে সক্রিয় থাকুন। বমিভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হলে নিজে সাপ্লিমেন্ট বন্ধ না করে ডাক্তারকে জানান।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

গর্ভধারণের কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভকালীন পরীক্ষা শুরু করুন এবং প্রতিটি নির্ধারিত ভিজিটে যান। যোনিপথে রক্তক্ষরণ, তীব্র বা একটানা পেটব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টিসহ তীব্র মাথাব্যথা, মুখ বা হাত খুব ফুলে যাওয়া, বেশি জ্বর, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কিংবা এতটাই তীব্র বমি যে খাবার-পানি পেটে থাকছে না—এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এগুলো গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে, যার তাৎক্ষণিক মনোযোগ দরকার। আমাদের তালিকা থেকে গাইনি বিশেষজ্ঞ খুঁজে প্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞ দেখুন, আর ডাক্তার আমাদের ফ্রি প্রেসক্রিপশন টুল দিয়ে আপনার সাপ্লিমেন্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য; এটি একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

গর্ভাবস্থায় কি সত্যিই দুজনের জন্য খেতে হয়?

পরিমাণ দ্বিগুণ করার অর্থে নয়। আপনার কিছুটা বেশি শক্তি এবং লক্ষণীয়ভাবে বেশি প্রোটিন, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও অন্যান্য পুষ্টি দরকার, তাই শুধু বড় পরিমাণ নয়, বেশি পুষ্টিকর খাবারে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আপনার জন্য কতটা বাড়তি ঠিক, তা ডাক্তার বলে দিতে পারবেন।

ডাক্তার আমাকে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট কেন দিয়েছেন?

শুধু খাবার দিয়ে প্রায়ই গর্ভাবস্থার বেশি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা মেটানো যায় না, বিশেষ করে যেখানে রক্তস্বল্পতা সাধারণ। ফলিক অ্যাসিড শুরুতেই শিশুর গঠনশীল মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড রক্ষায় সাহায্য করে, আর আয়রন মায়ের রক্তস্বল্পতা ঠেকায়। বাংলাদেশে এগুলো গর্ভকালীন সেবার একটি স্বাভাবিক অংশ।

গর্ভাবস্থায় কোন খাবার এড়িয়ে চলব?

কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম, মাছ ও মাংস, জ্বাল না দেওয়া দুধ, খোলা জায়গায় ঢাকনাহীন রাখা খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন, আর মদ্যপান ও ধূমপান একেবারেই বাদ দিন। এগুলো সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি কমায়। ফল-সবজি ধুয়ে নেওয়া ও নিরাপদ পানি ব্যবহারও সাহায্য করে।

আয়রন ট্যাবলেটে কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে। এটি কি বন্ধ করব?

নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, তবে আয়রন আপনার ও শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আঁশ যোগ করা, বেশি পানি পান করা ও সক্রিয় থাকা সাধারণত সাহায্য করে, আর সমস্যা থেকে গেলে ডাক্তার প্রয়োজনমতো সমন্বয় করে দিতে পারেন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?