ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
A photorealistic image of a doctor using a wooden tongue depressor and light to examine the red, swollen throat of a young child sitting on a parent's lap

টনসিলাইটিস: গলাব্যথার লক্ষণ ও যত্ন

গলা ফুলে ব্যথা করা ও গিলতে কষ্ট হওয়া—বাংলাদেশে, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে, ডাক্তারের কাছে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ। এটি প্রায়ই টনসিলাইটিস, অর্থাৎ গলার পেছনের টনসিলের প্রদাহ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ভাইরাসজনিত এবং বিশ্রাম ও ঘরোয়া যত্নেই সেরে যায়, আর অল্প কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে। পার্থক্যটা জানলে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা বাদ পড়া—দুটিই এড়ানো যায়। এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য; এটি যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়।

টনসিলাইটিস কী?

টনসিল হলো গলার পেছনে দুই পাশে থাকা নরম দুটি টিস্যুর পিণ্ড, যা বিশেষত শৈশবে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া এতে সংক্রমণ ঘটালে এগুলো ফুলে যায়, লাল হয় ও ব্যথা করে—এটিই টনসিলাইটিস। এটি শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলেও বড়দেরও হতে পারে। কারও কারও এটি একবারই হয়, আবার কারও বছরে কয়েকবার ফিরে আসে।

লক্ষণগুলো কী কী?

  • গলাব্যথা ও গিলতে কষ্ট, কখনো কখনো ব্যথা কানে ছড়িয়ে যায়।
  • টনসিল লাল হয়ে ফুলে যায়, মাঝে মাঝে সাদা বা হলুদ ছোপসহ।
  • জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও গা ব্যথা।
  • গলার গ্রন্থি (গ্ল্যান্ড) ফুলে ব্যথা ও মুখে দুর্গন্ধ।
  • ছোট শিশুদের খেতে না চাওয়া, লালা ঝরা বা অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব।

এটি ভাইরাল না ব্যাকটেরিয়াজনিত গলাব্যথা?

বেশিরভাগ গলাব্যথা ভাইরাসজনিত, বিশেষত যখন সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলা ভাঙা বা চোখ লাল থাকে; এগুলো অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই সেরে যায়। স্ট্রেপটোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণের সম্ভাবনা বেশি, যখন প্রচণ্ড জ্বর, খুব ফোলা টনসিলে সাদা ছোপ, গলার গ্রন্থি ফুলে ব্যথা থাকে এবং কাশি থাকে না। শুধু দেখে এদের আলাদা করা কঠিন, তাই অ্যান্টিবায়োটিক ঠিক করার আগে ডাক্তার কখনো কখনো গলা পরীক্ষা করেন বা টেস্ট দেন। অনুমান করে দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কেনা অনিরাপদ এবং প্রতিরোধ-ক্ষমতা বাড়ায়।

ঘরে কীভাবে যত্ন নেবেন?

ভাইরাল হোক বা ব্যাকটেরিয়াজনিত, আরামের ব্যবস্থাগুলো অনেক সাহায্য করে।

  • বিশ্রাম নিন ও প্রচুর তরল পান করুন; গরম বা ঠান্ডা—দুই ধরনের পানীয়ই গলায় আরাম দিতে পারে।
  • বয়স উপযুক্ত হলে দিনে কয়েকবার গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করুন।
  • নরম, সহজে গেলা যায় এমন খাবার দিন, যেমন খিচুড়ি, স্যুপ বা জাউ।
  • জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ব্যথানাশক ব্যবহার করুন, যা আমাদের মেডিসিন ডিরেক্টরিতে দেখে নিতে পারেন।
  • ঘর ধোঁয়া ও ধুলোমুক্ত রাখুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।

কখন অ্যান্টিবায়োটিক লাগে, আর টনসিল ফেলা দরকার কি?

অ্যান্টিবায়োটিক শুধু তখনই কাজে আসে যখন গলাব্যথা ব্যাকটেরিয়াজনিত, এবং তা ডাক্তারের পরামর্শ মতো পুরো কোর্স ঠিকঠাক খেতে হয়—গলা ভালো লাগছে বলেই মাঝপথে বন্ধ নয়। স্ট্রেপ থ্রোট ঠিকমতো চিকিৎসা করলে রিউম্যাটিক ফিভারের মতো জটিলতার ঝুঁকিও কমে, যা হৃদয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। টনসিল ফেলে দেওয়া (টনসিলেকটমি) কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভাবা হয়, যেমন প্রতি বছর খুব ঘন ঘন সংক্রমণ, বারবার ফোড়া, কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট, আর এই সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ সাবধানে নেন। প্রেসক্রিপশন পেলে নির্দেশনা পরিষ্কার রাখতে আমাদের ফ্রি প্রেসক্রিপশন টুল সাহায্য করতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

গলাব্যথা তীব্র হলে, কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে, প্রচণ্ড জ্বর বা সাদা ছোপসহ হলে, কিংবা বারবার ফিরে এলে ডাক্তার দেখান, যাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণ যাচাই করা যায়। বিপদচিহ্নে দ্রুত চিকিৎসা নিন: শ্বাস নিতে বা লালা গিলতে কষ্ট, লালা ঝরা, গলার স্বর চাপা শোনা, মুখ পুরোপুরি না খুলতে পারা, এক পাশে গলা মারাত্মক ফুলে যাওয়া, কিংবা শিশু খুব ঝিমিয়ে থাকা বা পানি না খাওয়া। এগুলো গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। আপনি নাক-কান-গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের মতো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দেখুন এবং শিশুদের সংক্রমণ নিয়ে পড়ুন আরও স্বাস্থ্য টিপস

সচরাচর জিজ্ঞাসা

টনসিলাইটিসে কি সবসময় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে?

না। বেশিরভাগ টনসিলাইটিস ভাইরাসজনিত এবং বিশ্রাম, তরল ও ব্যথানাশকে সেরে যায়, তাই অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না এবং কাজেও আসে না। এটি শুধু ব্যাকটেরিয়াজনিত হলে দরকার, যা গলা পরীক্ষা করে ডাক্তার ঠিক করেন, তাই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না কেনাই ভালো।

টনসিলাইটিস সাধারণত কতদিন থাকে?

ভাইরাল টনসিলাইটিস প্রায়ই তিন-চার দিনে ভালো হতে শুরু করে এবং প্রায় এক সপ্তাহে সেরে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিস সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকে সাধারণত এক-দুই দিনে ভালো হতে শুরু করে, তবু জটিলতা ও পুনরায় হওয়া ঠেকাতে পুরো কোর্স শেষ করা উচিত।

বারবার সংক্রমণ হলে কি টনসিল ফেলে দিতে হবে?

সবসময় নয়। অস্ত্রোপচার তখনই ভাবা হয়, যখন এক-দুই বছরে সংক্রমণ খুব ঘন ঘন হয়, বারবার ফোড়া হয়, কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট ঘটায়। বেশিরভাগ মানুষের মাঝে মাঝে হওয়া টনসিলাইটিস অস্ত্রোপচার ছাড়াই সামলানো যায়, আর সিদ্ধান্তটি বিশেষজ্ঞ সাবধানে নেন।

অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ করা কেন জরুরি?

গলা ভালো লাগছে বলে অ্যান্টিবায়োটিক আগেই বন্ধ করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়ে যেতে পারে, ফলে সংক্রমণ ফিরে আসে ও প্রতিরোধ-ক্ষমতা বাড়ে। নির্ধারিত পুরো কোর্স শেষ করলে স্ট্রেপ থ্রোটের পর রিউম্যাটিক ফিভারের মতো জটিলতাও প্রতিরোধে সাহায্য হয়।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?