ChamberBD Logo ChamberBD
Illustration of the F.A.S.T. stroke signs with a drooping face and weak arm

স্ট্রোক: FAST লক্ষণ চিনুন, গোল্ডেন আওয়ারে ব্যবস্থা নিন

স্ট্রোক হলো হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক ধরনের "ব্রেন অ্যাটাক", যা তখনই হয় যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়; বাংলাদেশে এটি মৃত্যু ও আজীবন পঙ্গুত্বের অন্যতম বড় কারণ। এখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ—মস্তিষ্ক যত বেশি সময় রক্ত ছাড়া থাকে, তত বেশি কোষ মারা যায়। দুঃখজনকভাবে অনেক পরিবার রোগীকে কবিরাজের কাছে "ঝাড়-ফুঁক" করাতে নিয়ে গিয়ে বা "একটু দেখি ঠিক হয় কিনা" ভেবে মূল্যবান সময় নষ্ট করে। স্ট্রোক সঙ্গে সঙ্গে চিনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচে এবং স্থায়ী পক্ষাঘাত এড়ানো যায়।

গোল্ডেন আওয়ার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

"গোল্ডেন আওয়ার" বলতে বোঝায় সেই স্বল্প সময়—সাধারণত প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ঘণ্টা—যার মধ্যে রক্ত জমাট গলিয়ে দেওয়ার চিকিৎসা (থ্রম্বোলাইসিস) ইস্কেমিক স্ট্রোকে কার্যকর হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দিলে এটি জমাট রক্ত গলিয়ে রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পারে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ায়। এই সময় পেরিয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি প্রায়ই স্থায়ী হয়ে যায়, তাই দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছানোই সবচেয়ে জরুরি।

FAST মানে কী?

FAST হলো স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলো সহজে মনে রাখার একটি উপায়, যাতে যে কেউ তা চিনতে পারে। এর অর্থ Face (মুখ), Arm (হাত), Speech (কথা) এবং Time (সময়)।

  • F — মুখ বেঁকে যাওয়া: মুখের এক পাশ ঝুলে পড়ে বা অবশ লাগে; হাসলে মুখ একপাশে বেঁকে যায়।
  • A — হাত দুর্বল হওয়া: দুই হাত তুললে এক হাত দুর্বল বা অবশ হয়ে নিচে নেমে যায়।
  • S — কথা জড়িয়ে যাওয়া: কথা জড়িয়ে যায় বা অদ্ভুত শোনায়, কিংবা রোগী কথা বলতে বা বুঝতে পারে না।
  • T — সময়মতো সাহায্য ডাকুন: এর কোনো একটি দেখলে সময়টা মনে রাখুন এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটুন।

অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা বা এক বা দুই চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা।

আগে সিটি স্ক্যান কেন করা হয়?

স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের: রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া (ইস্কেমিক) অথবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (হেমোরেজিক), আর এদের চিকিৎসা একে অপরের বিপরীত। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান দ্রুত বলে দেয় এটি কোন ধরনের। এটি জরুরি, কারণ রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ ইস্কেমিক স্ট্রোকে জীবন বাঁচাতে পারে কিন্তু রক্তক্ষরণে তা বিপজ্জনক। তাই ডাক্তাররা কখনো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা শুরু করেন না।

স্ট্রোকের সময় কী করবেন না?

ভুল পদক্ষেপ গোল্ডেন আওয়ার নষ্ট করে এবং প্রাণহানি ঘটাতে পারে। এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন:

  • খাবার বা পানি দেবেন না—স্ট্রোকে গিলতে অসুবিধা হতে পারে, ফলে খাবার বা পানি ফুসফুসে চলে যেতে পারে।
  • বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না লক্ষণ কমে কিনা দেখার জন্য, এবং বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে ভেবে শুইয়ে রাখবেন না।
  • ঝাড়-ফুঁক, কবিরাজ বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর করবেন না—এগুলো শুধু আসল চিকিৎসায় দেরি করায়।
  • নিজে থেকে কোনো ওষুধ দেবেন না যেমন বাড়তি রক্তচাপের বড়ি বা অ্যাসপিরিন, কারণ রক্তক্ষরণ হলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।

কারা ঝুঁকিতে এবং স্ট্রোক প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?

বাংলাদেশে স্ট্রোকের এক নম্বর কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রায়ই বছরের পর বছর নীরবে অনিয়ন্ত্রিত থাকে। ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং আগের কোনো মিনি-স্ট্রোক—সবই ঝুঁকি বাড়ায়। ভালো খবর হলো, বেশিরভাগ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য।

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন—পড়ুন আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় লেখাটি।
  • ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নির্ধারিত ওষুধ নিয়মিত খান।
  • ধূমপান ছাড়ুন এবং লবণাক্ত, ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান।
  • শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন এবং ওজন স্বাভাবিক রাখুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ বিভ্রান্তি, তীব্র মাথাব্যথা বা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা মাত্রই জরুরি সাহায্য ডাকুন এবং হাসপাতালে ছুটুন—লক্ষণ কয়েক মিনিটে মিলিয়ে গেলেও। স্বল্পস্থায়ী মিনি-স্ট্রোক (TIA) একটি গুরুতর সতর্কবার্তা যে বড় স্ট্রোক আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা সামলাতে ChamberBD-তে যাচাই করা ডাক্তারের সঙ্গে দেরি না করে নিউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।