ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
A balanced iftar plate with dates, fruit, lentil soup and grilled food instead of fried items

স্বাস্থ্যকর সেহরি ও ইফতার: রমজানের সুষম খাদ্য

রমজানে আপনার আরও হালকা ও প্রশান্ত বোধ করার কথা, অথচ অনেকেই মাস শেষে ক্লান্ত, পেট ফাঁপা আর কয়েক কেজি ভারী হয়ে পড়েন। সাধারণ কারণগুলো হলো ভাজাপোড়া ও মিষ্টিভরা ইফতার এবং অবশিষ্ট ভাত দিয়ে তাড়াহুড়োর সেহরি। দুই বেলাতেই কয়েকটি সহজ পছন্দ দীর্ঘ রোজার দিনে আপনার শক্তি ধরে রাখে এবং পেট ভালো রাখে।

সেহরিতে কী খাওয়া উচিত?

সেহরি হলো সেই খাবার যা আপনাকে বারো থেকে পনেরো ঘণ্টা টেনে নিতে হবে, তাই এটি ধীরে ধীরে শক্তি ছাড়বে এমন হওয়া উচিত। জটিল শর্করা ও প্রোটিন দিয়ে সাজান: লাল বা ব্রাউন রাইস বা ওটস, একটি ডিম, ডাল বা মাছ, আর প্রচুর শাকসবজি। সঙ্গে অল্প স্বাস্থ্যকর চর্বি ও একটি ফল। শুধু সাদা ভাত ও ভারী তরকারির সেহরি এড়িয়ে চলুন—এতে সুগার হঠাৎ বেড়ে দুপুরের মধ্যেই ক্ষুধা পায়। ধীরে ধীরে পানি খান, তবে সেহরিতে কড়া চা-কফি বাদ দিন, কারণ এতে বেশি প্রস্রাব হয় ও পরে বেশি পিপাসা লাগে।

ইফতারে কীভাবে রোজা ভাঙবেন?

রোজা ভাঙুন ধীরে। এক থেকে তিনটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি বা হালকা পানীয় দিয়ে শুরু করুন, তারপর মূল খাবারের আগে নামাজ পড়ুন—যাতে হঠাৎ খাবারের ঢলে পেট ধাক্কা না খায়। খেজুর দ্রুত রক্তের সুগার ফিরিয়ে আনে আর পানি পানিশূন্যতা কমায়। এই অল্প বিরতির পর স্তূপাকার ভাজাপোড়ার বদলে একটি সুষম প্লেট খান। সারাদিন পেট খালি ছিল; ধীর শুরুতে সেই ভারী ভাব ও গ্যাস্ট্রিক এড়ানো যায়, যা অনেক সন্ধ্যা নষ্ট করে।

রমজানে কোন খাবার কমাবেন?

প্রিয় ইফতার আইটেম একেবারে ছাড়তে হবে না, তবে অল্প ও মাঝেমধ্যে রাখুন। প্রতিদিন ডুবো তেলে ভাজা পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, মিষ্টি পানীয় ও ভারী বিরিয়ানি ওজন, গ্যাস্ট্রিক ও আলস্য বাড়ায়। কিছু ভাজা আইটেমের বদলে গ্রিল বা বেক করা নিন, ভারী মিষ্টির বদলে ফল বা চিড়া-দই বেছে নিন, আর অভ্যাসের চেয়ে কম তেল ও চিনি ব্যবহার করুন। লবণও খেয়াল রাখুন, কারণ খুব নোনতা খাবারে রোজার সময় বেশি পিপাসা লাগে।

সারাদিন পানি না খেতে পারলে কীভাবে পানিশূন্যতা এড়াবেন?

একসঙ্গে অনেক পানি গিলে না খেয়ে ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে ভাগ করে বেশিরভাগ তরল নিন। পানিই সেরা; সঙ্গে শসা, তরমুজ, স্যুপের মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার আর এক গ্লাস দুধ বা লাবান যোগ করুন। কোমল ও খুব মিষ্টি পানীয় সীমিত রাখুন, এগুলো ভালোভাবে পানিশূন্যতা মেটায় না। দিনের বেলা প্রস্রাব গাঢ় থাকলে বা মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা হলে বুঝবেন সন্ধ্যায় যথেষ্ট পানি খাচ্ছেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই স্বাস্থ্যকর রমজান খাদ্য সামলাতে পারেন, তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, তীব্র গ্যাস্ট্রিক থাকলে বা গর্ভবতী হলে ডাক্তার দেখান, যাতে খাবার ও ওষুধ নিরাপদে পরিকল্পনা করা যায়। একজন ডায়েটিশিয়ান বা চিকিৎসক আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে দিতে পারেন, আর তাঁকে খুঁজে নিতে পারেন আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে। কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিয়ে দৈনন্দিন প্রশ্নে মেডিসিন ডিরেক্টরি ভালো শুরুর জায়গা।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?