ডেঙ্গু জ্বর: লক্ষণ, বিপদ চিহ্ন, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশে স্থায়ী সমস্যা — প্রতি বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও বেশিরভাগ জেলা শহরে রোগী বাড়ে। বিপদ চিহ্নগুলো জানা — এবং কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না তা জানা — জীবন বাঁচায়।
ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী কী?
আক্রান্ত এডিস মশার কামড়ের ৪–৭ দিন পর সাধারণত উপসর্গ শুরু হয়: হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০২–১০৪°ফা), প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও গিঁটে তীব্র ব্যথা, বমি ভাব ও চামড়ায় র্যাশ। বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরলে বেশিরভাগ রোগী এক সপ্তাহে সেরে ওঠেন।
কোন বিপদ চিহ্ন দেখলে হাসপাতালে যেতেই হবে?
বিপজ্জনক ধাপটি প্রায়ই শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার সময়, সাধারণত ৩–৬ দিনের মাথায়। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান:
- পেটে তীব্র ব্যথা বা বারবার বমি
- দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত, বমি বা পায়খানায় রক্ত
- চরম দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি
- হাত-পা ঠান্ডা ও ভেজা ভেজা হয়ে যাওয়া
- ৬ ঘণ্টার বেশি প্রস্রাব না হওয়া বা খুব কম হওয়া
বাসায় ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা কীভাবে করবেন?
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল নেই — চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ:
- জ্বর ও ব্যথায় শুধুই প্যারাসিটামল (যেমন ডাক্তারের পরামর্শমতো ৫০০ মি.গ্রা.)। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথার ওষুধ একদম নয় — এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্রচুর তরল খান: পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ। প্রস্রাব যেন পরিষ্কার ও হালকা রঙের থাকে।
- বিশ্রাম নিন এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো সিবিসি (প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট) পরীক্ষা করান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন?
- প্রতি ৩ দিনে জমা পানি ফেলে দিন — ফুলের টব, এসি ও ফ্রিজের ট্রে, টায়ার, ছাদের ট্যাংক।
- এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায় — দিনের ঘুমেও মশারি ও রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
- প্রাদুর্ভাবের মৌসুমে ফুলহাতা পোশাক পরুন; জানালায় নেট লাগান।
ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বর হলে ১–৩ দিনের মধ্যে এনএস১ পরীক্ষা করিয়ে দ্রুত ডাক্তার দেখান। অসুস্থ রোগী নিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে ChamberBD-তে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।