ChamberBD Logo ChamberBD
Illustration of fibre-rich vegetables, water glass and healthy digestion for constipation relief

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস: ফাইবার, পানি ও যেসব অভ্যাসে সত্যি কাজ হয়

দুই-তিন দিন পায়খানা না হওয়া, টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ কোঁথ দেওয়া কিংবা শক্ত গুটি গুটি পায়খানা — এ সমস্যা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে। কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) শুধু অস্বস্তিই নয়; এটি ধীরে ধীরে ডেকে আনে আরও যন্ত্রণার দুই সমস্যা — পাইলস (haemorrhoids) ও এনাল ফিসার। সুখবর হলো, বেশিরভাগ মানুষের সমাধান দামি ওষুধে নয় — নিয়মিত ফাইবার, পর্যাপ্ত পানি আর কয়েকটি সহজ অভ্যাসেই সত্যিকারের কাজ হয়।

বাংলাদেশে কোষ্ঠকাঠিন্য এত বেশি কেন?

আমাদের প্লেটে সাদা ভাত বেশি, শাকসবজি কম — ফলে অন্ত্রের যতটা আঁশ (ফাইবার) দরকার, খাওয়া হয় তার চেয়ে অনেক কম। সঙ্গে কম পানি পান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা আর পায়খানার বেগ চেপে রাখার অভ্যাস অন্ত্রকে আরও অলস করে দেয়। কিছু ওষুধও সমস্যা বাড়াতে পারে — যেমন কোনো কোনো ব্যথানাশক, আয়রন ট্যাবলেট ও অ্যান্টাসিড।

ফাইবার ও পানি: সহজ পায়খানার ভিত্তি

ফাইবার পায়খানা নরম ও ভারী করে, ফলে তা সহজে বের হয়। প্রতি বেলার খাবারে রাখার চেষ্টা করুন:

  • শাকসবজি: লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, শিম, ঢেঁড়স — দিনে অন্তত দুই বেলা।
  • ফল: পেঁপে, পেয়ারা, কলা, আম, আমড়া, বরই — জুসের চেয়ে আস্ত ফল অনেক ভালো।
  • গোটা শস্য ও ডাল: ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল, লাল আটার রুটি, ওটস আর প্রতিদিন ডাল।
  • ইসবগুল: বহু পরীক্ষিত ফাইবার — সবসময় এক গ্লাস ভরা পানিতে গুলে খাবেন, কখনো শুকনো নয়।

ফাইবার হঠাৎ অনেক বাড়াবেন না; এক-দুই সপ্তাহ ধরে ধীরে বাড়ান, নইলে গ্যাস ও পেট ফাঁপা হতে পারে। আর মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত পানি ছাড়া ফাইবার কাজ করে না — উল্টো পায়খানা আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের দিনে ৮-১০ গ্লাস (প্রায় ২-২.৫ লিটার) পানি দরকার, গরমে আরও বেশি; প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকা মানে পানি ঠিক আছে। কিডনি বা হার্টের রোগীরা কতটুকু পানি নিরাপদ, তা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন।

যেসব টয়লেট-অভ্যাস পাইলস থেকে বাঁচায়

  • বেগ চেপে রাখবেন না। দেরি করলে অন্ত্র পানি শুষে নেয়, পায়খানা আরও শক্ত হয়।
  • জোরে কোঁথ দেবেন না। কোঁথে মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর সরাসরি চাপ পড়ে — এটিই পাইলস ও ফিসারের প্রধান কারণ।
  • টয়লেটে মোবাইল নেবেন না। ১৫-২০ মিনিট বসে স্ক্রল করলে শিরায় চাপ পড়তেই থাকে; মোটামুটি ৫ মিনিটে না হলে উঠে পড়ুন, পরে আবার চেষ্টা করুন।
  • হাই কমোডে পায়ের নিচে ছোট টুল দিন; হাঁটু উঁচু থাকলে রাস্তা সোজা হয়, কোঁথ কম লাগে।
  • সক্রিয় থাকুন। দিনে ৩০ মিনিটের হাঁটাও অন্ত্রের নড়াচড়ায় সত্যি কাজে দেয়।

পায়খানার সঙ্গে রক্ত মানেই কি পাইলস?

না — আর এমন ধরে নেওয়াই বিপজ্জনক হতে পারে। টাটকা লাল রক্ত প্রায়ই পাইলস বা ছোট ফিসারের কারণে হয় ঠিকই, কিন্তু রক্তপাত পলিপ, সংক্রমণ এমনকি অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণও হতে পারে — বিশেষত ৪০ বছরের পর। তাই রক্ত দেখলে 'পাইলসই হবে' ভেবে বসে থাকবেন না; রেজিস্টার্ড ডাক্তারকে দেখিয়ে গুরুতর কারণগুলো আগে বাদ দিন।

ল্যাক্সেটিভ, গর্ভাবস্থা ও ওষুধে সাবধানতা

ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কেনা 'পেট পরিষ্কারের' ট্যাবলেট-সিরাপ নিয়মিত খেলে নির্ভরতা তৈরি হয় — অন্ত্র নিজের কাজ করা ভুলতে থাকে। ল্যাক্সেটিভ (laxative) খাবেন শুধু ডাক্তারের পরামর্শে; আর দোকানির কথায় ভরসা না করে যেকোনো ওষুধ নির্ভরযোগ্য ওষুধের ডিরেক্টরিতে দেখে নিন। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ, তবে গর্ভবতী মায়েরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ল্যাক্সেটিভ খাবেন না। কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে ঘন ঘন গ্যাস, বুকজ্বালা বা বদহজম থাকলে পড়ুন আমাদের গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির লেখাটি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

খাবার ও অভ্যাস বদলের পরও কয়েক সপ্তাহে উন্নতি না হলে, কিংবা নিচের যেকোনো সতর্ক-লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে পরীক্ষা করান। রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা ওজন কমে যাওয়াকে কখনোই 'শুধু পাইলস' বা 'শুধু গ্যাস' বলে উড়িয়ে দেবেন না।

  • পায়খানার সঙ্গে রক্ত, বা কালো আলকাতরার মতো পায়খানা
  • খাদ্যাভ্যাস বদলের পরও তিন সপ্তাহের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পায়খানার সময় বা পরে তীব্র ব্যথা
  • অকারণে ওজন কমা, দুর্বলতা বা খাওয়ায় অরুচি
  • ৪০ বছরের পর পায়খানার অভ্যাসে নতুন পরিবর্তন
  • মলদ্বারের পাশে চাকা বা ফোলা, যা কমছে না

আপনার কাছের রেজিস্টার্ড গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা কোলোরেক্টাল সার্জন পেতে ChamberBD-তে ডাক্তার খুঁজুন এবং অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?