ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Unicontin 200 200 mg Tablet — Theophylline

Tablet

Unicontin 200 200 mg Tablet

জেনেরিক: থিওফাইলিন

প্রস্তুতকারক: Mundipharma (Bangladesh) Pvt. Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Methylxanthine bronchodilator

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 3.31
Strip of 10 ৳ 33.10

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Unicontin 200 কী?

ইউনিকন্টিন ২০০ প্রতি ট্যাবলেটে ২০০ মি.গ্রা. থিওফাইলিন সরবরাহ করে এবং এটি একটি মিথাইলজ্যানথিন ব্রঙ্কোডাইলেটর। হাঁপানি ও দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগের (সিওপিডি) দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়।

Unicontin 200 200 mg tablet হলো Mundipharma (Bangladesh) Pvt. Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Theophylline — মিথাইলজ্যানথিন গোত্রের শ্বাসনালি প্রসারণকারী। হাঁপানি ও সিওপিডি-তে শ্বাসনালি খোলা রাখতে, বাঁশির শব্দ ও শ্বাসকষ্ট কমাতে এটি ব্যবহৃত হয় — সাধারণত ইনহেলারে যথেষ্ট কাজ না হলে বাড়তি ওষুধ হিসেবে। অনেক প্রস্তুতি সাসটেইনড-রিলিজ, অর্থাৎ সারা দিন বা রাত ধরে ধীরে ধীরে কাজ করে।

Theophylline শ্বাসনালির চারপাশের মসৃণ পেশি শিথিল করে, ফলে নালিগুলো প্রশস্ত হয় এবং বাতাস সহজে চলাচল করে। এটি শ্বাসনালির প্রদাহও কিছুটা কমায় এবং শ্বাসের পেশিকে শক্তি জোগায়। মনে রাখা জরুরি — Theophylline-এর নিরাপত্তার সীমা সংকীর্ণ; উপকারী মাত্রা ও ক্ষতিকর মাত্রার ব্যবধান খুব কম, তাই মাত্রা অবশ্যই চিকিৎসকের নির্ধারণ ও নজরদারিতে চলতে হবে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Unicontin 200 যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • হাঁপানি (অ্যাজমা) — নিয়মিত (অ্যাড-অন) চিকিৎসা হিসেবে বাঁশির শব্দ ও রাতের উপসর্গ কমাতে
  • সিওপিডি (ক্রনিক ব্রংকাইটিস ও এমফাইসিমা) — দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট লাঘবে
  • চিকিৎসকের বিবেচনায় অন্যান্য কারণের প্রত্যাবর্তনযোগ্য শ্বাসনালি সংকোচনে

এটি নিয়মিত খাওয়ার নিয়ন্ত্রক ধরনের ওষুধ; হঠাৎ তীব্র আক্রমণের দ্রুত উপশমে এটি কার্যকর নয় — তখন দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার ও জরুরি চিকিৎসা দরকার।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: Unicontin 200-এর মাত্রা ব্যক্তিভেদে অনেক আলাদা হয়। সাসটেইনড-রিলিজ প্রস্তুতি সাধারণত দিনে এক-দুইবার ২০০–৪০০ মি.গ্রা. দেওয়া হয়, তবে সঠিক মাত্রা নির্ভর করে ওজন, বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, লিভারের অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর — চিকিৎসকই তা ঠিক ও সমন্বয় করবেন, প্রয়োজনে রক্তে ওষুধের মাত্রা মেপে।

শিশুদের ক্ষেত্রে: কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে, ওজন অনুযায়ী হিসাব করা মাত্রায়।

সাসটেইনড-রিলিজ ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; ভাঙবেন বা চিবাবেন না। Unicontin 200 প্রতিদিন একই সময়ে, পরামর্শ অনুযায়ী খাবারসহ বা ছাড়া—একই নিয়মে খান। নিজে থেকে মাত্রা কখনো বাড়াবেন না — নিরাপত্তার সীমা সংকীর্ণ বলে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Unicontin 200-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বমিভাব, বমি, পেট খারাপ বা বুক জ্বালা
  • মাথাব্যথা, অস্থিরতা, ঘুমে অসুবিধা
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড়
  • ঘন ঘন প্রস্রাব, কাঁপুনি

বিষক্রিয়ার সতর্ক সংকেত — একটানা বমি, তীব্র ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা বা খিঁচুনি। এগুলো বোঝায় রক্তে ওষুধের মাত্রা বেশি হয়ে গেছে: ওষুধ বন্ধ করে এখনই জরুরি চিকিৎসা নিন। জ্বর, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বা সাম্প্রতিক অসুস্থতায় স্বাভাবিক ডোজেও মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

সতর্কতা

  • Theophylline-এর নিরাপদ মাত্রার পরিসর সংকীর্ণ — ঠিক নির্ধারিত মাত্রাই খান; ডোজ মিস হলে কখনো দ্বিগুণ খাবেন না।
  • চা, কফি, কোলা ও এনার্জি ড্রিংক কম খান — এগুলোর ক্যাফেইন একই গোত্রের উপাদান, যা ধড়ফড় ও নির্ঘুমতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়।
  • লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিউর, থাইরয়েড সমস্যা, পেপটিক আলসার, মৃগী বা দীর্ঘ জ্বর থাকলে চিকিৎসককে জানান — প্রায়ই মাত্রা কমাতে হয়।
  • ধূমপান থিওফাইলিনের মাত্রা বদলে দেয়; ধূমপান শুরু বা বন্ধ করলে চিকিৎসককে জানান।
  • যে চিকিৎসকের কাছেই যান, Unicontin 200 খাওয়ার কথা বলুন — বহু প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক এর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।
  • মাঝে মাঝে রক্তে ওষুধের মাত্রা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে — তা বাদ দেবেন না।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Theophylline বহু ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে; আপনার সম্পূর্ণ ওষুধের তালিকা চিকিৎসককে দেখান। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:

  • সিপ্রোফ্লক্সাসিন, এরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন — থিওফাইলিনের মাত্রা বাড়িয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
  • সিমেটিডিন, কিছু অ্যান্টিফাঙ্গাল, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল — মাত্রা বাড়ায়।
  • রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন, ধূমপান — মাত্রা কমিয়ে কার্যকারিতা কমায়।
  • ক্যাফেইন (চা, কফি, কোলা) — উত্তেজক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়।
  • সালবিউটামল/লেভোসালবিউটামল ও ডাইউরেটিক — একসঙ্গে নিলে রক্তের পটাশিয়াম কমতে পারে।
  • লিথিয়াম — থিওফাইলিন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • Theophylline বা অন্যান্য জ্যানথিন (ক্যাফেইন, থিওব্রোমিন)-এ অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
  • সক্রিয় পেপটিক আলসার ও অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি রোগে — চিকিৎসক অত্যাবশ্যক মনে করলে তবেই ব্যবহার
  • অনিয়ন্ত্রিত গুরুতর হৃদস্পন্দনের ছন্দজনিত সমস্যা
  • মারাত্মক লিভার রোগ, হার্ট ফেইলিউর ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা — কম মাত্রা ও নজরদারি প্রয়োজন

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

Theophylline গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) পেরিয়ে শিশুর কাছে পৌঁছায়। মায়ের হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি — চিকিৎসক এমন মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহৃত হয়, প্রায়ই সমন্বিত মাত্রা ও বাড়তি নজরদারিতে। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে অস্থির করতে বা ঘুম নষ্ট করতে পারে; ডোজের ঠিক আগে দুধ খাওয়ালে শিশুর ওপর প্রভাব কম পড়ে। গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Unicontin 200 কঠোরভাবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন।

সংরক্ষণ

Unicontin 200 ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল পাত্রে ভালোভাবে বন্ধ করে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Unicontin 200-এর মাত্রা নিয়ে এত সাবধান থাকতে হয় কেন?

থিওফাইলিনের নিরাপদ মাত্রার পরিসর সংকীর্ণ: যে মাত্রা উপকার করে, ক্ষতিকর মাত্রা তার খুব কাছেই। সামান্য বেশি হলেই বমি, বিপজ্জনক হৃদস্পন্দন বা খিঁচুনি হতে পারে। তাই ঠিক নির্ধারিত পরিমাণই খান, মিস হওয়া ডোজের বদলে দ্বিগুণ খাবেন না, এবং নতুন ওষুধ, জ্বর বা একটানা বমি হলে চিকিৎসককে জানান। Unicontin 200-এর মাত্রা ঠিক করতে মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষাও করা হয়।

Unicontin 200 খাওয়ার সময় কি চা-কফি খাওয়া যাবে?

পরিমিত রাখুন। চা, কফি, কোলা ও এনার্জি ড্রিংকের ক্যাফেইন থিওফাইলিনের সমগোত্রীয় উপাদান, তাই বেশি খেলে বুক ধড়ফড়, কাঁপুনি, অম্বল ও নির্ঘুমতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যায়। দিনে এক-দুই কাপ সাধারণত চলে, তবে কড়া বা ঘন ঘন ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন — Unicontin 200 চলাকালে আপনার জন্য কতটুকু নিরাপদ তা চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন।

Unicontin 200-এর বিষক্রিয়ার কোন কোন লক্ষণ কখনো অবহেলা করা যাবে না?

একটানা বমি, তীব্র বা অনিয়মিত বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি, ক্রমে বাড়তে থাকা কাঁপুনি এবং বিশেষ করে খিঁচুনি — এসব লক্ষণে সতর্ক হোন। এগুলো বোঝায় রক্তে ওষুধের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে — ওষুধ বন্ধ করে এখনই হাসপাতালে যান। জ্বর, সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা এরিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক, কিংবা লিভারের সমস্যায় স্বাভাবিক ডোজেও বিষক্রিয়া হতে পারে।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →