Tablet
TEMS 20 20 mg Tablet
জেনেরিক: টেলমিসার্টান
প্রস্তুতকারক: Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
থেরাপিউটিক ক্লাস: Angiotensin II Receptor Blocker (ARB, Antihypertensive)
TEMS 20 কী?
TEMS 20 20 mg tablet হলো Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Telmisartan — একটি অ্যাঞ্জিওটেনসিন II রিসেপ্টর ব্লকার (ARB)। এটি উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) নিয়ন্ত্রণে এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়।
টেলমিসার্টান শরীরের অ্যাঞ্জিওটেনসিন II নামক হরমোনের কাজ বন্ধ করে দেয় — এই হরমোনই রক্তনালি সংকুচিত করে। হরমোনটি বাধা পেলে রক্তনালি শিথিল ও প্রশস্ত হয়, রক্ত সহজে চলাচল করে এবং রক্তচাপ কমে আসে। এতে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে হার্ট, মস্তিষ্ক ও কিডনি উচ্চ রক্তচাপজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। ওষুধটি ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করে, তাই দিনে একবার খেলেই সারাদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) — এককভাবে বা অন্য রক্তচাপের ওষুধের সাথে
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো — ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের (হৃদরোগ, স্ট্রোক, পায়ের রক্তনালির রোগ বা অঙ্গ-ক্ষতিসহ ডায়াবেটিস) হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে
- কিডনি সুরক্ষা — ডায়াবেটিস রোগীদের প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়া ও কিডনির ক্ষতি ধীর করতে প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়
সেবনবিধি ও মাত্রা
আপনার রক্তচাপের মাত্রা, কিডনির অবস্থা ও অন্যান্য রোগ বিবেচনা করে চিকিৎসক TEMS 20-এর সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করবেন। সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ পর মাত্রা বাড়ানো হয়।
- দিনে একবার, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খান; খাবারের আগে বা পরে — দুভাবেই খাওয়া যায়।
- পানি দিয়ে গিলে খান; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভেঙে বা চিবিয়ে খাবেন না।
- কোনো ডোজ মিস হলে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজের সময় কাছে হলে বাদ দিন — কখনো ডাবল ডোজ খাবেন না।
এটি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ। রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখালেও নিজে থেকে TEMS 20 বন্ধ করবেন না — ওষুধ কাজ করছে বলেই চাপ স্বাভাবিক আছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষ টেলমিসার্টান ভালোভাবে সহ্য করেন; এসিই ইনহিবিটরের মতো শুকনো কাশি এতে খুব কমই হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব, বিশেষত হঠাৎ দাঁড়ালে বা চিকিৎসার শুরুতে
- মাথাব্যথা, ক্লান্তি
- কোমর ব্যথা, মাংসপেশিতে টান বা সর্দি-জাতীয় উপসর্গ
- রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া (মাংসপেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে)
- রক্তচাপ বেশি কমে যাওয়া (চোখে ঝাপসা দেখা, মূর্ছা ভাব), বিশেষত পানিশূন্য থাকলে
- কিডনির পরীক্ষায় পরিবর্তন
- বিরল কিন্তু গুরুতর: মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া (অ্যানজিওইডিমা) — ওষুধ বন্ধ করে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের সব ফলো-আপে যান।
- ওষুধ শুরু বা মাত্রা পরিবর্তনের পর চিকিৎসক কিডনি ও পটাশিয়ামের রক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন।
- মাথা ঘোরা এড়াতে শোয়া বা বসা থেকে ধীরে উঠুন; ওষুধে কেমন লাগে বুঝার আগে গাড়ি চালাবেন না।
- কিডনি রোগ, লিভারের সমস্যা, পিত্তনালির রোগ, হার্ট ফেইলিউর বা কিডনির ধমনি সরু থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- বমি, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে — পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মূর্ছা ভাব হলে চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামযুক্ত লবণ-বিকল্প খাবেন না।
- সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা সন্দেহ হলে সাথে সাথে জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমায় ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়াম-ধরে-রাখা ডাইউরেটিক (স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড): রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে
- এসিই ইনহিবিটর (র্যামিপ্রিল, লিসিনোপ্রিল) বা অ্যালিস্কিরেন: একসাথে সাধারণত দেওয়া হয় না — রক্তচাপ বেশি কমা, পটাশিয়াম বাড়া ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি
- লিথিয়াম: রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা বিষাক্ত পর্যায়ে বাড়তে পারে
- ডিগক্সিন: মাত্রা বাড়তে পারে; চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করতে পারেন
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইউরেটিক: চাপ বেশি কমে যেতে পারে
আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- টেলমিসার্টান বা অন্য কোনো ARB-তে অ্যালার্জি
- গর্ভাবস্থা — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিক; গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যু হতে পারে
- মারাত্মক লিভার রোগ বা পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা
- ডায়াবেটিস বা উল্লেখযোগ্য কিডনি রোগে অ্যালিস্কিরেনের সাথে ব্যবহার
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় টেলমিসার্টান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যান্য ARB-এর মতো এটি গর্ভের শিশুর কিডনির মারাত্মক ক্ষতি, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া, মাথার খুলির অপূর্ণ গঠন এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান — তিনি নিরাপদ বিকল্প ওষুধ দেবেন।
স্তন্যদান: বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় টেলমিসার্টান না খাওয়াই ভালো, কারণ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। চিকিৎসক স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য নিরাপদ বিকল্প দিতে পারবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। টেলমিসার্টান ট্যাবলেট আর্দ্রতায় নষ্ট হতে পারে, তাই খাওয়ার আগ পর্যন্ত মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো লাগলে কি TEMS 20 বন্ধ করে দিতে পারি?
<p>না। উচ্চ রক্তচাপের সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না — TEMS 20 নিয়ন্ত্রণে রাখছে বলেই রিডিং স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। নিজে থেকে বন্ধ করলে চাপ আবার নীরবে বেড়ে যাবে এবং স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি ফিরে আসবে। প্রতিদিন ওষুধ খান এবং কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করুন।</p>
গর্ভাবস্থায় TEMS 20 খাওয়া কি নিরাপদ?
<p>না। গর্ভাবস্থায় TEMS 20 খাওয়া যাবে না। টেলমিসার্টানের মতো ARB গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে — কিডনি বিকল, অ্যামনিওটিক পানি কমে যাওয়া এমনকি মৃত্যু — বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গর্ভবতী হলে, পরিকল্পনা থাকলে বা ওষুধ খাওয়া অবস্থায় গর্ভধারণ জানতে পারলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন — তিনি নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেবেন।</p>
র্যামিপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটর থেকে TEMS 20 কীভাবে আলাদা?
<p>দুটোই একই হরমোন ব্যবস্থায় কাজ করে রক্তচাপ কমায়, তবে ভিন্নভাবে। এসিই ইনহিবিটরে (যেমন র্যামিপ্রিল) প্রায়ই শুকনো খুসখুসে কাশি হয়; TEMS 20 ওই পথের আরেক ধাপ পরে কাজ করে বলে কাশি খুব কমই হয়। সাধারণ ARB-গুলোর মধ্যে টেলমিসার্টানের কার্যকাল সবচেয়ে দীর্ঘ — দিনে এক ডোজেই ২৪ ঘণ্টা মসৃণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। এসিই ইনহিবিটরে কাশি হলে চিকিৎসকরা প্রায়ই TEMS 20-এর মতো ARB বেছে নেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া দুটো একসাথে খাবেন না।</p>
সর্বশেষ হালনাগাদ: