See in English
TCL 20 mg Tablet — Atorvastatin

ট্যাবলেট

TCL 20 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: অ্যাটরভাস্ট্যাটিন

প্রস্তুতকারক: Aristopharma Limited

থেরাপিউটিক ক্লাস: Statin (HMG-CoA reductase inhibitor) — lipid-lowering agent

TCL এর কাজ কি?

TCL (ট্যাবলেট)-এর উপাদান অ্যাটরভাস্ট্যাটিন 20 mg, প্রস্তুতকারক Aristopharma Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Statin (HMG-CoA reductase inhibitor) — lipid-lowering agent।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 20.00
Strip of 10 ৳ 200.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

TCL কী?

TCL 20 mg ট্যাবলেটে অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন আছে, যা রক্তে বেড়ে যাওয়া কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়ক একটি স্ট্যাটিন ওষুধ। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে ডিসলিপিডেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌রক্তনালীর ঝুঁকি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।

TCL 20 mg tablet হলো Aristopharma Limited-এর একটি ওষুধ, যার জেনেরিক নাম Atorvastatin। এটি স্ট্যাটিন পরিবারের সদস্য — বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ। উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা এটি নিয়মিত দিয়ে থাকেন।

অ্যাটরভাস্ট্যাটিন লিভারের HMG-CoA রিডাক্টেজ নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়, যেটি দিয়ে লিভার কোলেস্টেরল তৈরি করে। কোলেস্টেরল তৈরি কমে গেলে লিভার রক্ত থেকে বেশি করে এলডিএল ("খারাপ") কোলেস্টেরল টেনে নেয়। এতে এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমে, এইচডিএল ("ভালো") কোলেস্টেরল কিছুটা বাড়ে, আর ধমনির দেয়ালে জমা চর্বির স্তর (প্লাক) স্থিতিশীল হয় — ফলে তা ফেটে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক ঘটানোর আশঙ্কা কমে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

TCL যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:

  • উচ্চ কোলেস্টেরল — মোট বা এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি থাকলে; বংশগত (ফ্যামিলিয়াল) ধরনসহ।
  • মিশ্র ডিসলিপিডেমিয়া — কোলেস্টেরলের সঙ্গে ট্রাইগ্লিসারাইডও বেশি থাকলে।
  • হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ — যাদের হৃদরোগ, আগের স্ট্রোক, ডায়াবেটিস বা একাধিক ঝুঁকি আছে; কোলেস্টেরল সামান্য বেশি হলেও।
  • হার্ট অ্যাটাক বা রিং (স্টেন্ট) পরানোর পর — ধমনিকে রক্ষা করতে সাধারণত আজীবন।

আপনার সার্বিক হৃদরোগ-ঝুঁকি হিসাব করে চিকিৎসকই লক্ষ্যমাত্রা ও ডোজ ঠিক করবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর TCL 20 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশিরভাগ মানুষ TCL ভালোভাবেই সহ্য করেন। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • মাংসপেশিতে ব্যথা, টনটনে ভাব বা দুর্বলতা — সবচেয়ে আলোচিত; সাধারণত হালকা, তবে অকারণ ও একটানা মাংসপেশির ব্যথা হলে চিকিৎসককে জানান — বিশেষত জ্বর বা গাঢ় (চায়ের রঙের) প্রস্রাব থাকলে, কারণ খুব বিরল ক্ষেত্রে মারাত্মক পেশি-ক্ষয় (র‍্যাবডোমায়োলাইসিস) হতে পারে।
  • হজমের সমস্যা — বমিভাব, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।
  • মাথাব্যথা, সর্দি-গলাব্যথা বা গাঁটে ব্যথা।
  • লিভার এনজাইম বৃদ্ধি — সাধারণত উপসর্গহীন; চিকিৎসক লিভার পরীক্ষা করাতে পারেন।
  • রক্তের সুগার সামান্য বাড়া — ঝুঁকিপ্রবণদের ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা সামান্য বাড়ে; তবু হার্টের সুরক্ষার লাভ এর চেয়ে অনেক বেশি।

সতর্কতা

TCL ব্যবহারে এই বিষয়গুলো মনে রাখুন:

  • মাংসপেশির ব্যথা হলে দেরি না করে জানান — অকারণ ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচ ধরা, বিশেষত জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাবসহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।
  • শুরুর আগে লিভার বা কিডনির রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা বা অতিরিক্ত মদ্যপানের কথা চিকিৎসককে জানান; প্রয়োজনমতো লিভার পরীক্ষা করা হবে।
  • বেশি পরিমাণ জাম্বুরা/গ্রেপফ্রুটের রস এড়িয়ে চলুন — এটি রক্তে অ্যাটরভাস্ট্যাটিনের মাত্রা ও পেশির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • স্ট্যাটিন খাদ্যনিয়ম, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নয়, সহযোগী — এগুলো চালিয়ে যান।
  • নতুন কোনো চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্ট অ্যান্টিবায়োটিক বা ছত্রাকনাশক দেওয়ার আগে জানিয়ে দিন যে আপনি স্ট্যাটিন খান।
  • গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধ TCL-এর সঙ্গে মিললে পেশি-ক্ষতির ঝুঁকি বা ওষুধের মাত্রা বদলে যায়:

  • ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক (ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, এরিথ্রোমাইসিন) ও অ্যাজল ছত্রাকনাশক (ইট্রাকোনাজল, কিটোকোনাজল) — স্ট্যাটিনের মাত্রা বেড়ে যায়; সাময়িকভাবে স্ট্যাটিন বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে।
  • ফাইব্রেট (বিশেষত জেমফাইব্রোজিল) ও উচ্চমাত্রার নায়াসিন — পেশির বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • সাইক্লোস্পোরিন, কিছু এইচআইভি/হেপাটাইটিস-সি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর — মাত্রা অনেক বেড়ে যায়; এসব কম্বিনেশন সীমিত।
  • অ্যামিওডারোন, ডিলটিয়াজেম, ভেরাপামিল — স্ট্যাটিনের এক্সপোজার বাড়াতে পারে; ডোজ সীমা মানতে হয়।
  • ওয়ারফারিন — শুরু বা বন্ধের সময় INR কিছুটা বদলাতে পারে।
  • বেশি পরিমাণ জাম্বুরা/গ্রেপফ্রুটের রস — এড়িয়ে চলুন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের অবস্থায় TCL খাওয়া যাবে না:

  • লিভারের সক্রিয় রোগ বা অজানা কারণে লিভার এনজাইম ক্রমাগত বেশি থাকলে।
  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে — স্ট্যাটিন নিষিদ্ধ; গর্ভের শিশুর গঠনের জন্য কোলেস্টেরল অপরিহার্য।
  • অ্যাটরভাস্ট্যাটিন বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
  • আগে স্ট্যাটিনজনিত গুরুতর পেশি-রোগ বা র‍্যাবডোমায়োলাইসিস হয়ে থাকলে — আবার কোনো স্ট্যাটিন চেষ্টা করা যাবে কি না তা শুধু বিশেষজ্ঞই ঠিক করবেন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় TCL খাওয়া যাবে না। শিশুর স্বাভাবিক গঠনের জন্য কোলেস্টেরল দরকার, তাই পরিকল্পিত গর্ভধারণের আগে বা গর্ভধারণ জানা মাত্রই স্ট্যাটিন বন্ধ করা হয়। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে ওষুধ চলাকালীন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন এবং গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান — গর্ভাবস্থার কয়েক মাস স্ট্যাটিন বন্ধ রাখা মায়ের জন্য সাধারণত নিরাপদ।

স্তন্যদান: বুকের দুধে অ্যাটরভাস্ট্যাটিন কতটা যায় তা জানা নেই, এবং শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার করা হয় না। দুধ খাওয়ানো শেষ হলে কখন আবার শুরু করবেন তা চিকিৎসক বলে দেবেন।

সংরক্ষণ

TCL ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায় রাখুন — সরাসরি রোদ, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকে এবং শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। স্ট্রিপ বা মোড়কে লেখা মেয়াদ পেরোলে ওষুধটি খাবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ বা অব্যবহৃত ট্যাবলেট নিরাপদে নষ্টের জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →