See in English
RivaXa 10 mg Tablet — Rivaroxaban

ট্যাবলেট

RivaXa 10 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: রিভারক্সাবান

প্রস্তুতকারক: Square Pharmaceuticals PLC, Pabna

থেরাপিউটিক ক্লাস: Direct Oral Anticoagulant (DOAC, Factor Xa Inhibitor)

RivaXa 10 এর কাজ কি?

RivaXa 10 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান রিভারক্সাবান 10 mg, প্রস্তুতকারক Square Pharmaceuticals PLC, Pabna। থেরাপিউটিক ক্লাস: Direct Oral Anticoagulant (DOAC, Factor Xa Inhibitor)।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 25.00
Box of 10 ৳ 250.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

RivaXa 10 কী?

RivaXa 10 হলো Square Pharmaceuticals PLC, Pabna-এর rivaroxaban 10 mg ট্যাবলেট। এটি একটি ডাইরেক্ট ওরাল অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, যা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা পালমোনারি এম্বোলিজমসহ ক্ষতিকর রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

RivaXa 10 10 mg tablet হলো Square Pharmaceuticals PLC, Pabna-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Rivaroxaban — একটি ডাইরেক্ট ওরাল অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (DOAC), অর্থাৎ আধুনিক "রক্ত পাতলা করার" ওষুধ। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে স্ট্রোক প্রতিরোধ এবং পায়ের শিরায় (DVT) ও ফুসফুসে (পালমোনারি এমবোলিজম) রক্ত জমাট চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।

রিভারক্সাবান সরাসরি ফ্যাক্টর Xa নামক এনজাইম ব্লক করে — তরল রক্তকে জমাট বাঁধানোর ধারাবাহিক বিক্রিয়ার একটি মূল ধাপ এটি। ফ্যাক্টর Xa বন্ধ থাকলে থ্রম্বিন অনেক কম তৈরি হয়, ফলে অবাঞ্ছিত জমাট তৈরি বা বড় হতে পারে না, অথচ সাধারণ কাটাছেঁড়া বন্ধ করার মতো ক্ষমতা রক্তে থেকে যায়। ওয়ারফারিনের মতো পুরোনো ওষুধের তুলনায় এটি নির্দিষ্ট মাত্রায় কাজ করে — নিয়মিত INR রক্ত পরীক্ষা বা খাবারের বড় বিধিনিষেধ লাগে না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে স্ট্রোক প্রতিরোধ — ভাল্ভজনিত নয় এমন অনিয়মিত হৃদস্পন্দনে
  • ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) — পায়ের শিরার জমাটের চিকিৎসা ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
  • পালমোনারি এমবোলিজম (PE) — ফুসফুসের জমাটের চিকিৎসা ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
  • হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশনের পরে — জমাট প্রতিরোধে
  • করোনারি বা পেরিফেরাল ধমনির রোগ — নির্বাচিত রোগীদের অ্যাসপিরিনের সাথে কম "ভাসকুলার ডোজ", বিশেষজ্ঞের পরামর্শে

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর RivaXa 10 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রক্তপাতই প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কারণ ওষুধটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রক্ত জমাট কমায়:

  • সহজে কালশিটে পড়া, কাটায় রক্ত বন্ধ হতে দেরি
  • নাক ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
  • মাসিকে রক্ত বেশি বা বেশি দিন যাওয়া
  • রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা
  • বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি; কখনো লিভারের পরীক্ষায় পরিবর্তন
  • চুলকানি বা র‍্যাশ

গুরুতর রক্তপাতের লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা নিন:

  • কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, লাল বা গোলাপি প্রস্রাব, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি
  • কাশিতে রক্ত; মাসিকে অস্বাভাবিক বন্যার মতো রক্তপাত
  • ১০ মিনিট চেপে ধরেও রক্ত না থামা
  • হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল, দৃষ্টি বা কথায় পরিবর্তন (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে)
  • স্পাইনাল ইনজেকশন/অ্যানেসথেসিয়ার পরে তীব্র কোমর ব্যথা বা দুর্বলতা

সতর্কতা

  • যেকোনো প্রসিডিউর, অপারেশন, দাঁত তোলা বা ইনজেকশনের আগে প্রত্যেক চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট ও সার্জনকে জানান যে আপনি RivaXa 10 খাচ্ছেন — সাধারণত ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ রাখা হয়, তবে কেবল প্রেসক্রাইবকারীর নির্দেশে, এবং পরে নির্ধারিত সময়ে আবার শুরু করতে হয়।
  • কখনো ডোজ মিস করবেন না, ট্যাবলেট ফুরাতে দেবেন না — ভ্রমণসহ সবসময় কয়েক দিনের মজুত রাখুন।
  • চিকিৎসক সময়ে সময়ে কিডনির কার্যকারিতা (কখনো লিভার ও হিমোগ্লোবিন) পরীক্ষা করবেন; সব ফলো-আপে যান।
  • নির্দিষ্টভাবে প্রেসক্রাইব না হলে NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) ও অ্যাসপিরিন এড়িয়ে চলুন — সাধারণ ব্যথায় প্যারাসিটামল খান।
  • মদ্যপান সীমিত করুন; আঘাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন; নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন ও সাবধানে শেভ করুন।
  • সাথে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট সতর্কতা-কার্ড রাখুন, যাতে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসাকর্মীরা জানতে পারেন আপনি রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান।
  • কিডনি বা লিভারের রোগ, আগের রক্তপাত, আলসার বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন): মারাত্মক রক্তপাতের ঝুঁকি — কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে একসাথে
  • NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়
  • অ্যাজল অ্যান্টিফাঙ্গাল (কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল) ও HIV-র ওষুধ (রিটোনাভির): রিভারক্সাবানের মাত্রা অনেক বাড়ায় — একসাথে দেওয়া হয় না
  • রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, সেন্ট জন'স ওয়ার্ট: রিভারক্সাবানের মাত্রা কমায় — ওষুধ খেয়েও জমাটের ঝুঁকি
  • SSRI/SNRI (এসসিটালোপ্রাম, ভেনলাফ্যাক্সিন): রক্তপাতের প্রবণতা বাড়ায়
  • ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, ইরাইথ্রোমাইসিন: মাত্রা বাড়াতে পারে — কিডনি দুর্বল হলে গুরুত্বপূর্ণ

আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • রিভারক্সাবানে অ্যালার্জি
  • চলমান বড় রক্তপাত — যেমন রক্তক্ষরণরত আলসার বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
  • বড় রক্তপাতের উচ্চ ঝুঁকির অবস্থা (সাম্প্রতিক মস্তিষ্ক/মেরুদণ্ডের অপারেশন, খাদ্যনালির ভেরিসিস, কিছু অ্যানিউরিজম)
  • রক্ত জমাটের সমস্যাসহ লিভার রোগ (চাইল্ড-পিউ B ও C সিরোসিসসহ)
  • মারাত্মক কিডনি বিকল (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স দেখে চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী)
  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
  • মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্ভ ও অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোম — এসব ক্ষেত্রে ওয়ারফারিনই লাগবে

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় রিভারক্সাবান নিষিদ্ধ — এটি প্লাসেন্টা পার হয়, রক্তপাতের ঝুঁকি আছে এবং নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা ওষুধ চলাকালে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; সাধারণত ইনজেকশনের হেপারিনে বদলানো হয়, যা প্লাসেন্টা পার হয় না।

স্তন্যদান: রিভারক্সাবান মায়ের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়া যাবে না। চিকিৎসক স্তন্যদানের উপযোগী বিকল্প অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট দেবেন বা খাওয়ানোর বিকল্প নিয়ে পরামর্শ দেবেন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অপারেশন, এন্ডোস্কপি বা দাঁত তোলার আগে RivaXa 10 নিয়ে কী করব?

প্রসিডিউরের পরিকল্পনা হওয়ামাত্র সার্জন, এন্ডোস্কপিস্ট বা ডেন্টিস্টকে RivaXa 10-এর কথা জানান, এবং যিনি ওষুধটি দিয়েছেন তাঁকেও জানান। ওয়ারফারিনের মতো নয় — রিভারক্সাবান দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তাই সাধারণত মাত্র ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ রাখা হয় (কিডনি দুর্বল বা রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি হলে আরও আগে) — তবে সঠিক সময় বলবেন আপনার প্রেসক্রাইবকারী চিকিৎসক, নিজের অনুমান নয়। বেশি আগে বন্ধ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি, দেরিতে বন্ধ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি। সমান জরুরি: প্রসিডিউরের পরে ঠিক নির্দেশিত সময়ে আবার শুরু করা। প্রতিটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে আপনার অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট কার্ড সাথে রাখুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →