জেনেরিক
রিভারক্সাবান
বাংলাদেশে রিভারক্সাবান জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
42টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Kinexa 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Kinexa 15 15 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Kinexa 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Kinexa 20 20 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Oxaban 10 mg 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Rivaban 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Advanced Chemical Industries Limited
Rivaban 20 20 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Advanced Chemical Industries Limited
Rivacard 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Aristopharma Limited
Rivacard 15 15 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Aristopharma Limited
Rivacard 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Aristopharma Limited
Rivacard 20 20 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Aristopharma Limited
Rivadel 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Delta Pharma Limited
Rivadel 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Delta Pharma Limited
Rivadel 20 20 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Delta Pharma Limited
Rivael 15 15 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Delta Pharma Limited
Rivaflo 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Everest Pharmaceuticals Ltd.
Rivanex 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Popular Pharmaceuticals PLC
Rivanex 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Popular Pharmaceuticals PLC
RIVARA 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
The ACME Laboratories Ltd.
RIVARA 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
The ACME Laboratories Ltd.
RIVARA 20 20 mg Tablet
রিভারক্সাবান
The ACME Laboratories Ltd.
Rivarox 10 10 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
Rivarox 15 15 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
Rivarox 2.5 2.5 mg Tablet
রিভারক্সাবান
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
রিভারক্সাবান কী?
রিভারক্সাবান বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Direct Oral Anticoagulant (DOAC, Factor Xa Inhibitor) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
রিভারক্সাবান কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
- অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে স্ট্রোক প্রতিরোধ — ভাল্ভজনিত নয় এমন অনিয়মিত হৃদস্পন্দনে
- ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) — পায়ের শিরার জমাটের চিকিৎসা ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
- পালমোনারি এমবোলিজম (PE) — ফুসফুসের জমাটের চিকিৎসা ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
- হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশনের পরে — জমাট প্রতিরোধে
- করোনারি বা পেরিফেরাল ধমনির রোগ — নির্বাচিত রোগীদের অ্যাসপিরিনের সাথে কম "ভাসকুলার ডোজ", বিশেষজ্ঞের পরামর্শে
সেবনবিধি ও মাত্রা
রিভারক্সাবান-এর মাত্রা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কোন রোগের চিকিৎসা হচ্ছে এবং আপনার কিডনির কার্যকারিতার ওপর — চিকিৎসক তা ঠিক করবেন এবং সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করবেন।
- বেশি মাত্রার ডোজ (সাধারণত ১৫ ও ২০ মি.গ্রা.) অবশ্যই খাবারের সাথে খেতে হবে — খাবার এর শোষণ প্রায় দ্বিগুণ করে; খালি পেটে খেলে সুরক্ষা কম হতে পারে। ১০ ও ২.৫ মি.গ্রা. ডোজ খাবারসহ বা ছাড়া খাওয়া যায়।
- প্রতিদিন একই সময়ে খান (কিছু নিয়মে দিনে দুইবার)।
- কখনো ডোজ মিস করবেন না — ডোজ বাদ গেলে প্রায় এক দিনের মধ্যেই সুরক্ষা কমে যায়। দিনে একবারের ডোজ মিস হলে ওই দিনই মনে পড়ামাত্র খান; পরের দিন পুষিয়ে নিতে দুটি ডোজ খাবেন না (দিনে দুইবারের নিয়মে চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট পরামর্শ মানুন)।
নিজে থেকে রিভারক্সাবান বন্ধ করবেন না, এবং যিনি ওষুধটি দিয়েছেন তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোনো অপারেশন, দাঁতের কাজ বা প্রসিডিউরের আগে বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধে স্ট্রোক বা জমাটের ঝুঁকি তীব্রভাবে বাড়ে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রক্তপাতই প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কারণ ওষুধটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রক্ত জমাট কমায়:
- সহজে কালশিটে পড়া, কাটায় রক্ত বন্ধ হতে দেরি
- নাক ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
- মাসিকে রক্ত বেশি বা বেশি দিন যাওয়া
- রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা
- বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি; কখনো লিভারের পরীক্ষায় পরিবর্তন
- চুলকানি বা র্যাশ
গুরুতর রক্তপাতের লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা নিন:
- কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, লাল বা গোলাপি প্রস্রাব, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি
- কাশিতে রক্ত; মাসিকে অস্বাভাবিক বন্যার মতো রক্তপাত
- ১০ মিনিট চেপে ধরেও রক্ত না থামা
- হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল, দৃষ্টি বা কথায় পরিবর্তন (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে)
- স্পাইনাল ইনজেকশন/অ্যানেসথেসিয়ার পরে তীব্র কোমর ব্যথা বা দুর্বলতা
সতর্কতা
- যেকোনো প্রসিডিউর, অপারেশন, দাঁত তোলা বা ইনজেকশনের আগে প্রত্যেক চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট ও সার্জনকে জানান যে আপনি রিভারক্সাবান খাচ্ছেন — সাধারণত ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ রাখা হয়, তবে কেবল প্রেসক্রাইবকারীর নির্দেশে, এবং পরে নির্ধারিত সময়ে আবার শুরু করতে হয়।
- কখনো ডোজ মিস করবেন না, ট্যাবলেট ফুরাতে দেবেন না — ভ্রমণসহ সবসময় কয়েক দিনের মজুত রাখুন।
- চিকিৎসক সময়ে সময়ে কিডনির কার্যকারিতা (কখনো লিভার ও হিমোগ্লোবিন) পরীক্ষা করবেন; সব ফলো-আপে যান।
- নির্দিষ্টভাবে প্রেসক্রাইব না হলে NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) ও অ্যাসপিরিন এড়িয়ে চলুন — সাধারণ ব্যথায় প্যারাসিটামল খান।
- মদ্যপান সীমিত করুন; আঘাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন; নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন ও সাবধানে শেভ করুন।
- সাথে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট সতর্কতা-কার্ড রাখুন, যাতে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসাকর্মীরা জানতে পারেন আপনি রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান।
- কিডনি বা লিভারের রোগ, আগের রক্তপাত, আলসার বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন): মারাত্মক রক্তপাতের ঝুঁকি — কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে একসাথে
- NSAID ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন): রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়
- অ্যাজল অ্যান্টিফাঙ্গাল (কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল) ও HIV-র ওষুধ (রিটোনাভির): রিভারক্সাবানের মাত্রা অনেক বাড়ায় — একসাথে দেওয়া হয় না
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, সেন্ট জন'স ওয়ার্ট: রিভারক্সাবানের মাত্রা কমায় — ওষুধ খেয়েও জমাটের ঝুঁকি
- SSRI/SNRI (এসসিটালোপ্রাম, ভেনলাফ্যাক্সিন): রক্তপাতের প্রবণতা বাড়ায়
- ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, ইরাইথ্রোমাইসিন: মাত্রা বাড়াতে পারে — কিডনি দুর্বল হলে গুরুত্বপূর্ণ
আপনার সব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা
- রিভারক্সাবানে অ্যালার্জি
- চলমান বড় রক্তপাত — যেমন রক্তক্ষরণরত আলসার বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
- বড় রক্তপাতের উচ্চ ঝুঁকির অবস্থা (সাম্প্রতিক মস্তিষ্ক/মেরুদণ্ডের অপারেশন, খাদ্যনালির ভেরিসিস, কিছু অ্যানিউরিজম)
- রক্ত জমাটের সমস্যাসহ লিভার রোগ (চাইল্ড-পিউ B ও C সিরোসিসসহ)
- মারাত্মক কিডনি বিকল (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স দেখে চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী)
- গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
- মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্ভ ও অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোম — এসব ক্ষেত্রে ওয়ারফারিনই লাগবে
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় রিভারক্সাবান নিষিদ্ধ — এটি প্লাসেন্টা পার হয়, রক্তপাতের ঝুঁকি আছে এবং নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা ওষুধ চলাকালে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; সাধারণত ইনজেকশনের হেপারিনে বদলানো হয়, যা প্লাসেন্টা পার হয় না।
স্তন্যদান: রিভারক্সাবান মায়ের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়া যাবে না। চিকিৎসক স্তন্যদানের উপযোগী বিকল্প অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট দেবেন বা খাওয়ানোর বিকল্প নিয়ে পরামর্শ দেবেন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত মূল ব্লিস্টার প্যাকে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
রিভারক্সাবান নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো লাগলে কি রিভারক্সাবান বন্ধ করতে পারি? ডোজ মিস হলে কী করব?
নিজে থেকে কখনোই বন্ধ করবেন না। রিভারক্সাবান-এর কার্যকাল ছোট — প্রায় এক দিনের মধ্যেই সুরক্ষা কমে যায় — তাই বন্ধ করা বা ডোজ মিস করা দুটোই আপনাকে দ্রুত স্ট্রোক বা নতুন জমাটের ঝুঁকিতে ফেলে, যদিও আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছেন। প্রতিদিন একই সময়ে খান; দিনে একবারের ডোজ মিস হলে ওই দিনই মনে পড়ামাত্র খান, কিন্তু পরের দিন কখনো ডাবল ডোজ নয়। বমি বা অসুস্থতায় ওষুধ পেটে না থাকলে, বা ট্যাবলেট ফুরিয়ে আসলে, ওই দিনই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। বন্ধের সিদ্ধান্ত একমাত্র চিকিৎসকের।
রিভারক্সাবান খাবারের সাথে খেতে হয় কেন?
এটি বেশি শক্তির ডোজের (সাধারণত ১৫ ও ২০ মি.গ্রা.) জন্য প্রযোজ্য: খাবার রিভারক্সাবানের শোষণ প্রায় দ্বিগুণ করে দেয়। খালি পেটে খেলে রক্তে ওষুধের মাত্রা এত কম হতে পারে যে স্ট্রোক বা জমাট থেকে সুরক্ষা মিলবে না — আপনি না জেনেই কম-ডোজে থাকবেন। প্রতিদিন একই সময়ে, সুবিধামতো বড় খাবারের সাথে বা ঠিক পরে ট্যাবলেটটি খান। কম শক্তির ডোজ (১০, ২.৫ মি.গ্রা.) খাবার ছাড়াও ভালো শোষিত হয়, তবে খাবারের সাথে নিয়ম বেঁধে খেলে ডোজ ভোলার আশঙ্কা কমে।
অপারেশন, এন্ডোস্কপি বা দাঁত তোলার আগে রিভারক্সাবান নিয়ে কী করব?
প্রসিডিউরের পরিকল্পনা হওয়ামাত্র সার্জন, এন্ডোস্কপিস্ট বা ডেন্টিস্টকে রিভারক্সাবান-এর কথা জানান, এবং যিনি ওষুধটি দিয়েছেন তাঁকেও জানান। ওয়ারফারিনের মতো নয় — রিভারক্সাবান দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তাই সাধারণত মাত্র ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ রাখা হয় (কিডনি দুর্বল বা রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি হলে আরও আগে) — তবে সঠিক সময় বলবেন আপনার প্রেসক্রাইবকারী চিকিৎসক, নিজের অনুমান নয়। বেশি আগে বন্ধ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি, দেরিতে বন্ধ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি। সমান জরুরি: প্রসিডিউরের পরে ঠিক নির্দেশিত সময়ে আবার শুরু করা। প্রতিটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে আপনার অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট কার্ড সাথে রাখুন।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।