See in English

ট্যাবলেট

Pyresin 500 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: প্যারাসিটামল

প্রস্তুতকারক: Novelta Bestway Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Analgesic and antipyretic (pain reliever and fever reducer)

Pyresin এর কাজ কি?

Pyresin (ট্যাবলেট)-এর উপাদান প্যারাসিটামল 500 mg, প্রস্তুতকারক Novelta Bestway Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Analgesic and antipyretic (pain reliever and fever reducer)।

Pyresin কী?

পাইরেসিন, নোভেলটা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি পণ্য, প্রতিটি ট্যাবলেটে ৫০০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল ধারণ করে। ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ হিসেবে প্যারাসিটামল হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা উপশম ও জ্বর কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Pyresin 500 mg tablet বাংলাদেশে Novelta Bestway Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Paracetamol, যা জ্বর ও হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধ। বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা জ্বরের জন্য — এমনকি ডেঙ্গু জ্বরেও — এটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে দেন। মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা, গা-ব্যথা, মাসিকের ব্যথা ও টিকার পরের জ্বরেও এটি ব্যবহৃত হয়। সঠিক মাত্রায় খেলে এটি পাকস্থলীর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

প্যারাসিটামল মূলত মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে কাজ করে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমায়, যা ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে ও শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে কাজ করে এটি জ্বর কমিয়ে আনে। সাধারণত ওষুধ খাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে আরাম পাওয়া যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Pyresin যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • যেকোনো কারণের জ্বর — ভাইরাল জ্বর, ফ্লু এবং ডেঙ্গু জ্বর
  • মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
  • দাঁতব্যথা ও দাঁতের চিকিৎসার পরের ব্যথা
  • গা-ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা ও কোমরব্যথা
  • মাসিকের ব্যথা
  • অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ গিঁটের ব্যথা
  • শিশু ও বড়দের টিকা দেওয়ার পরের জ্বর ও ব্যথা
  • সর্দি-কাশি ও ফ্লুর উপসর্গ

এটি উপসর্গ কমায়, রোগের মূল কারণ সারায় না; তাই জ্বর বা ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Pyresin 500 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

নির্ধারিত মাত্রায় Pyresin অত্যন্ত সহনীয় একটি ওষুধ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল, তবে হতে পারে:

  • চামড়ায় র‍্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জি (বিরল)
  • বমিভাব বা পেটে হালকা অস্বস্তি
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যা বা মারাত্মক চর্মরোগ

সবচেয়ে বড় বিপদ হলো অতিরিক্ত মাত্রা: দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রার বেশি খেলে মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী লিভারের ক্ষতি হতে পারে — প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায়ই কোনো উপসর্গ থাকে না। অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন মনে হলে সুস্থ বোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

Pyresin ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:

  • সব ওষুধ মিলিয়ে দিনে কখনোই ৪ গ্রামের বেশি নয়
  • সর্দি-জ্বর ও ব্যথার কম্বিনেশন ওষুধের গায়ের লেখা দেখুন — অনেকটিতে আগে থেকেই প্যারাসিটামল থাকে
  • লিভারের রোগ থাকলে, নিয়মিত মদ্যপান করলে বা শরীর খুব দুর্বল/কম ওজনের হলে কম মাত্রায় ও চিকিৎসকের পরামর্শে খান
  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন — চিকিৎসক ডোজের ব্যবধান বাড়াতে পারেন
  • জ্বর ৩ দিনের বেশি বা ব্যথা ৫ দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসক দেখান
  • সিরাপ ও ট্যাবলেট শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — দুর্ঘটনাজনিত ওভারডোজ খুবই সাধারণ

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনি যেসব ওষুধ খান তা চিকিৎসককে জানান। Pyresin-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • ওয়ারফারিন ও অনুরূপ রক্ত পাতলা করার ওষুধ — দীর্ঘদিন প্রতিদিন প্যারাসিটামল খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে
  • কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল, রিফাম্পিসিন — এগুলো প্যারাসিটামলজনিত লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়
  • অ্যালকোহল — নিয়মিত মদ্যপানে স্বাভাবিক মাত্রাতেও লিভারের ক্ষতি হতে পারে
  • প্যারাসিটামলযুক্ত অন্য ওষুধ — একসঙ্গে খেলে অজান্তেই দৈনিক সীমা পেরিয়ে যেতে পারে
  • মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডন — শোষণ দ্রুত করতে পারে (সাধারণত ক্ষতিকর নয়)

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Pyresin খাবেন না:

  • প্যারাসিটামল বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • মারাত্মক লিভার ফেইলিউর বা গুরুতর সক্রিয় লিভার রোগ থাকলে

দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ, গুরুতর কিডনি রোগ, নিয়মিত মদ্যপান বা চরম অপুষ্টিতে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে খান। একসঙ্গে দুটি ভিন্ন প্যারাসিটামল ওষুধ কখনোই খাবেন না।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: নির্ধারিত মাত্রায় ও প্রয়োজনীয় স্বল্পতম সময়ে ব্যবহারে প্যারাসিটামল গর্ভাবস্থায় ব্যথা ও জ্বরের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। উচ্চ জ্বর নিজেই গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই জ্বর কমানো জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন একটানা খাবেন না।

স্তন্যদান: বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায়; Pyresin স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবু মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সংরক্ষণ

প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →