ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Tablet

Prednisolone 5 mg Tablet

জেনেরিক: প্রেডনিসোলন

প্রস্তুতকারক: Pristine Pharmaceuticals

থেরাপিউটিক ক্লাস: Corticosteroid (glucocorticoid)

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Tablet ৳ 0.67
Tablet ৳ 0.67

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Prednisolone কী?

গ্লুকোকর্টিকয়েড প্রেডনিসোলন 5 mg মাত্রায় দিয়ে তৈরি Prednisolone আসে ট্যাবলেট আকারে। এ জাতীয় কর্টিকোস্টেরয়েড প্রদাহ কমাতে এবং রোগ-প্রতিরোধ-সম্পর্কিত ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিত হয়।

Prednisolone 5 mg tablet হলো Pristine Pharmaceuticals-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Prednisolone — একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড) ওষুধ। তীব্র হাঁপানি ও অ্যালার্জি, ত্বক ও বাতজনিত রোগ, কিডনি, রক্ত ও চোখের কিছু রোগসহ বহু অসুখে প্রদাহ ও অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রায়ই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশমতো খেতে হবে।

Prednisolone শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে তৈরি প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের মতো কাজ করে। চিকিৎসার মাত্রায় এটি প্রদাহের বহু ধাপ বন্ধ করে — ফোলা, লালচেভাব, ব্যথা ও অ্যালার্জি কমায় — এবং শরীরকে আক্রমণকারী অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে। চিকিৎসা চলাকালে শরীর নিজের হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয়, তাই দীর্ঘদিন খাওয়ার পর Prednisolone কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না; মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে (টেপার) হয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

প্রদাহ ও রোগপ্রতিরোধজনিত বহু রোগে চিকিৎসকেরা Prednisolone দিয়ে থাকেন, যেমন:

  • হাঁপানির তীব্র আক্রমণ ও মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস (SLE) ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগ
  • একজিমার তীব্র পর্যায় ও পেমফিগাসের মতো মারাত্মক চর্মরোগ
  • নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও কিডনির কিছু রোগ
  • রক্তের কিছু রোগ (যেমন আইটিপি, অটোইমিউন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া) এবং ক্যানসার চিকিৎসার অংশ হিসেবে
  • অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, চোখের কিছু প্রদাহ ও চিকিৎসকের বিবেচনায় অন্যান্য রোগ

সেবনবিধি ও মাত্রা

রোগ, এর তীব্রতা ও আপনার সাড়া অনুযায়ী Prednisolone-এর মাত্রা অনেক ভিন্ন হয় — প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ৫ থেকে ৬০ মি.গ্রা., শুরুতে কখনো আরও বেশি, পরে ধাপে ধাপে কমানো হয়। মাত্রা ও নিয়ম কেবল চিকিৎসকই ঠিক করবেন।

  • শরীরের স্বাভাবিক হরমোন-ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে এবং পাকস্থলী রক্ষায় সকালে, খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে খান।
  • চিকিৎসা ২–৩ সপ্তাহের বেশি চললে মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে — হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না
  • শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী হিসাব করে কেবল চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
  • ভালো বোধ করলেও নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না বা বন্ধ করবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত ভালো সহনীয়। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে Prednisolone-এ হতে পারে:

  • ক্ষুধা ও ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখ গোল হয়ে যাওয়া (মুন ফেস)
  • পাকস্থলীতে জ্বালা, অম্বল বা আলসার
  • রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া — ডায়াবেটিস বাড়তে বা নতুন করে দেখা দিতে পারে
  • উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা ও ফোলা
  • মেজাজ পরিবর্তন — খিটখিটে ভাব, নির্ঘুমতা, বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক সমস্যা
  • সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি ও ক্ষত শুকাতে দেরি
  • দীর্ঘমেয়াদে: হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), পেশি দুর্বলতা, ছানি, গ্লুকোমা, ত্বক পাতলা হওয়া ও সহজে কালশিটে পড়া; শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া

কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, সংক্রমণের লক্ষণ বা মেজাজের বড় পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

  • Prednisolone কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — কয়েক সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করলে অ্যাড্রিনাল সংকট হতে পারে: দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, এমনকি অজ্ঞান হওয়া। চিকিৎসকের নির্দেশমতো ধাপে ধাপে কমান।
  • পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে সকালে খাবারের সঙ্গে খান।
  • সংক্রমণের ঝুঁকি: জলবসন্ত, হাম, যক্ষ্মা বা ফ্লু-জাতীয় অসুখে আক্রান্তদের কাছ থেকে দূরে থাকুন; জ্বর বা যেকোনো সংক্রমণ হলে দ্রুত জানান। লুকানো সংক্রমণ (যেমন যক্ষ্মা) মাথাচাড়া দিতে পারে।
  • রক্তে চিনি: ডায়াবেটিস থাকলে চিনি ঘন ঘন মাপুন — স্টেরয়েড চিনি বাড়ায়।
  • হাড়: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চিকিৎসক ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও হাড়ের পরীক্ষা দিতে পারেন।
  • সার্জারি বা টিকার আগে চিকিৎসক-দন্তচিকিৎসককে স্টেরয়েড খাওয়ার কথা জানান; বেশি মাত্রার চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত (লাইভ) টিকা সাধারণত দেওয়া হয় না।
  • দীর্ঘ চিকিৎসায় রক্তচাপ ও চোখ পরীক্ষায় রাখুন; দীর্ঘমেয়াদি হলে স্টেরয়েড কার্ড বা নোট সঙ্গে রাখুন।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Prednisolone অনেক প্রচলিত ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে:

  • এনএসএআইডি ব্যথানাশক (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) — একসঙ্গে নিলে পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বাড়ে।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন — স্টেরয়েড চিনি বাড়ায়; মাত্রা সমন্বয়ের দরকার হতে পারে।
  • রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইউরেটিক — রক্তচাপ ও পটাশিয়ামে প্রভাব; কিছু ডাইউরেটিকে পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়ে।
  • রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন — স্টেরয়েডের কার্যকারিতা কমায়; কিটোকোনাজল ও কিছু এইচআইভি ওষুধ — বাড়ায়।
  • ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বদলাতে পারে; ঘন ঘন আইএনআর পরীক্ষা দরকার।
  • জীবন্ত (লাইভ) টিকা — উল্লেখযোগ্য স্টেরয়েড মাত্রা চলাকালে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • Prednisolone বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না
  • চিকিৎসাবিহীন ব্যাপক (সিস্টেমিক) ছত্রাক সংক্রমণে
  • বেশি মাত্রার (ইমিউনোসাপ্রেসিভ) চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত টিকা
  • চিকিৎসাবিহীন সক্রিয় সংক্রমণ (যক্ষ্মাসহ), অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মারাত্মক পেপটিক আলসার, গুরুতর মানসিক রোগ বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাকে কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

মায়ের রোগের প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় Prednisolone ব্যবহার করা যেতে পারে — অনেক রোগ চিকিৎসা না করালে বরং বেশি বিপজ্জনক — তবে অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়। গর্ভফুল প্রেডনিসোলনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয় করে দেয়, তাই শিশুর ওপর প্রভাব তুলনামূলক কম। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণ মাত্রায় স্তন্যদান প্রায়ই সম্ভব, আর বেশি মাত্রায় ডোজের কয়েক ঘণ্টা পরে দুধ খাওয়ানো যেতে পারে। সবসময় চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরামর্শ মেনে চলুন।

সংরক্ষণ

Prednisolone ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে ভালোভাবে বন্ধ করে শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভালো বোধ করলেও Prednisolone হঠাৎ বন্ধ করা যায় না কেন?

স্টেরয়েড চলাকালে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিজের হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর Prednisolone হঠাৎ বন্ধ করলে শরীরে যথেষ্ট কর্টিসল থাকে না — ফলে দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, এমনকি প্রাণঘাতী অ্যাড্রিনাল সংকট হতে পারে — আর মূল রোগটিও ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসকের নিয়ম অনুযায়ী মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হয়, যাতে গ্রন্থি আবার সক্রিয় হওয়ার সময় পায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে Prednisolone কখন, কীভাবে খাওয়া উচিত?

Prednisolone সকালে, নাশতার সঙ্গে বা ঠিক পরে খান। সকালে খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল-ছন্দের সঙ্গে মেলে — ঘুমের ব্যাঘাত ও গ্রন্থির দমন কম হয় — আর খাবার পাকস্থলীকে জ্বালা থেকে রক্ষা করে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এর সঙ্গে এনএসএআইডি ব্যথানাশক খাবেন না এবং সময় বা মাত্রা নিজে বদলাবেন না।

দীর্ঘদিন Prednisolone খেলে কি হাড় দুর্বল হয় ও রক্তে চিনি বাড়ে?

হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহারে এ ঝুঁকিগুলো পরিচিত। Prednisolone রক্তে চিনি বাড়াতে পারে — ডায়াবেটিস থাকলে ঘন ঘন মাপতে হবে — এবং মাসের পর মাস খেলে হাড় ক্ষয় হয়ে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকেরা মাত্রা ও মেয়াদ সীমিত রাখেন এবং প্রয়োজনে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও হাড় রক্ষাকারী ওষুধ দেন; চিনি, রক্তচাপ, চোখ ও হাড় নিয়মিত পরীক্ষা করান। নিয়মিত ফলোআপে থাকলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা অনেক নিরাপদ হয়।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →