জেনেরিক
প্রেডনিসোলন
বাংলাদেশে প্রেডনিসোলন জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
105টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Adam 10 mg 10 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Nuvista Pharma Ltd
Adam 20 mg 20 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Nuvista Pharma Ltd
Adam 5 mg 5 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Nuvista Pharma Ltd
Altason Oral Solution 5 mg/5 ml Solution
প্রেডনিসোলন
Albion Laboratories Ltd.
Altason-10 10 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Albion Laboratories Ltd.
Altason-20 20 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Albion Laboratories Ltd.
Altason-5 5 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Albion Laboratories Ltd.
Bexipred 1 gm/100 ml Eye Drops
প্রেডনিসোলন
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Bexipred 10 10 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Bexipred 20 20 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Biocort 1 gm/100 ml Eye Drops
প্রেডনিসোলন
Biopharma Ltd.
Cortan 10 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 20 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 5 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 1 gm/100 ml Eye Drops
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 15 mg/5 ml Solution
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 5 mg/5 ml Solution
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan 2 2 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Cortan Eye Drops 1 gm/100 ml Eye Drops
প্রেডনিসোলন
Incepta Pharmaceuticals Ltd. (Dhamrai Unit)
Cortisol 10 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Aristopharma Limited
Cortisol 20 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Aristopharma Limited
Cortisol 5 mg Tablet
প্রেডনিসোলন
Aristopharma Limited
Cortisol 1 gm/100 ml Eye Drops
প্রেডনিসোলন
Aristopharma Limited
Cortisol 5 mg/5 ml Solution
প্রেডনিসোলন
Aristopharma Limited
প্রেডনিসোলন কী?
প্রেডনিসোলন বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Corticosteroid (glucocorticoid) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
প্রেডনিসোলন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
প্রদাহ ও রোগপ্রতিরোধজনিত বহু রোগে চিকিৎসকেরা প্রেডনিসোলন দিয়ে থাকেন, যেমন:
- হাঁপানির তীব্র আক্রমণ ও মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস (SLE) ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগ
- একজিমার তীব্র পর্যায় ও পেমফিগাসের মতো মারাত্মক চর্মরোগ
- নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও কিডনির কিছু রোগ
- রক্তের কিছু রোগ (যেমন আইটিপি, অটোইমিউন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া) এবং ক্যানসার চিকিৎসার অংশ হিসেবে
- অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, চোখের কিছু প্রদাহ ও চিকিৎসকের বিবেচনায় অন্যান্য রোগ
সেবনবিধি ও মাত্রা
রোগ, এর তীব্রতা ও আপনার সাড়া অনুযায়ী প্রেডনিসোলন-এর মাত্রা অনেক ভিন্ন হয় — প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ৫ থেকে ৬০ মি.গ্রা., শুরুতে কখনো আরও বেশি, পরে ধাপে ধাপে কমানো হয়। মাত্রা ও নিয়ম কেবল চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
- শরীরের স্বাভাবিক হরমোন-ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে এবং পাকস্থলী রক্ষায় সকালে, খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে খান।
- চিকিৎসা ২–৩ সপ্তাহের বেশি চললে মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে — হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না।
- শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী হিসাব করে কেবল চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
- ভালো বোধ করলেও নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না বা বন্ধ করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত ভালো সহনীয়। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে প্রেডনিসোলন-এ হতে পারে:
- ক্ষুধা ও ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখ গোল হয়ে যাওয়া (মুন ফেস)
- পাকস্থলীতে জ্বালা, অম্বল বা আলসার
- রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া — ডায়াবেটিস বাড়তে বা নতুন করে দেখা দিতে পারে
- উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা ও ফোলা
- মেজাজ পরিবর্তন — খিটখিটে ভাব, নির্ঘুমতা, বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক সমস্যা
- সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি ও ক্ষত শুকাতে দেরি
- দীর্ঘমেয়াদে: হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), পেশি দুর্বলতা, ছানি, গ্লুকোমা, ত্বক পাতলা হওয়া ও সহজে কালশিটে পড়া; শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া
কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, সংক্রমণের লক্ষণ বা মেজাজের বড় পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
- প্রেডনিসোলন কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — কয়েক সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করলে অ্যাড্রিনাল সংকট হতে পারে: দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, এমনকি অজ্ঞান হওয়া। চিকিৎসকের নির্দেশমতো ধাপে ধাপে কমান।
- পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে সকালে খাবারের সঙ্গে খান।
- সংক্রমণের ঝুঁকি: জলবসন্ত, হাম, যক্ষ্মা বা ফ্লু-জাতীয় অসুখে আক্রান্তদের কাছ থেকে দূরে থাকুন; জ্বর বা যেকোনো সংক্রমণ হলে দ্রুত জানান। লুকানো সংক্রমণ (যেমন যক্ষ্মা) মাথাচাড়া দিতে পারে।
- রক্তে চিনি: ডায়াবেটিস থাকলে চিনি ঘন ঘন মাপুন — স্টেরয়েড চিনি বাড়ায়।
- হাড়: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চিকিৎসক ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও হাড়ের পরীক্ষা দিতে পারেন।
- সার্জারি বা টিকার আগে চিকিৎসক-দন্তচিকিৎসককে স্টেরয়েড খাওয়ার কথা জানান; বেশি মাত্রার চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত (লাইভ) টিকা সাধারণত দেওয়া হয় না।
- দীর্ঘ চিকিৎসায় রক্তচাপ ও চোখ পরীক্ষায় রাখুন; দীর্ঘমেয়াদি হলে স্টেরয়েড কার্ড বা নোট সঙ্গে রাখুন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্রেডনিসোলন অনেক প্রচলিত ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে:
- এনএসএআইডি ব্যথানাশক (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) — একসঙ্গে নিলে পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বাড়ে।
- ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন — স্টেরয়েড চিনি বাড়ায়; মাত্রা সমন্বয়ের দরকার হতে পারে।
- রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইউরেটিক — রক্তচাপ ও পটাশিয়ামে প্রভাব; কিছু ডাইউরেটিকে পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়ে।
- রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন — স্টেরয়েডের কার্যকারিতা কমায়; কিটোকোনাজল ও কিছু এইচআইভি ওষুধ — বাড়ায়।
- ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বদলাতে পারে; ঘন ঘন আইএনআর পরীক্ষা দরকার।
- জীবন্ত (লাইভ) টিকা — উল্লেখযোগ্য স্টেরয়েড মাত্রা চলাকালে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
প্রতিনির্দেশনা
- প্রেডনিসোলন বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না
- চিকিৎসাবিহীন ব্যাপক (সিস্টেমিক) ছত্রাক সংক্রমণে
- বেশি মাত্রার (ইমিউনোসাপ্রেসিভ) চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত টিকা
- চিকিৎসাবিহীন সক্রিয় সংক্রমণ (যক্ষ্মাসহ), অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মারাত্মক পেপটিক আলসার, গুরুতর মানসিক রোগ বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাকে কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
মায়ের রোগের প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় প্রেডনিসোলন ব্যবহার করা যেতে পারে — অনেক রোগ চিকিৎসা না করালে বরং বেশি বিপজ্জনক — তবে অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়। গর্ভফুল প্রেডনিসোলনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয় করে দেয়, তাই শিশুর ওপর প্রভাব তুলনামূলক কম। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণ মাত্রায় স্তন্যদান প্রায়ই সম্ভব, আর বেশি মাত্রায় ডোজের কয়েক ঘণ্টা পরে দুধ খাওয়ানো যেতে পারে। সবসময় চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরামর্শ মেনে চলুন।
সংরক্ষণ
প্রেডনিসোলন ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে ভালোভাবে বন্ধ করে শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
প্রেডনিসোলন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো বোধ করলেও প্রেডনিসোলন হঠাৎ বন্ধ করা যায় না কেন?
স্টেরয়েড চলাকালে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিজের হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর প্রেডনিসোলন হঠাৎ বন্ধ করলে শরীরে যথেষ্ট কর্টিসল থাকে না — ফলে দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, এমনকি প্রাণঘাতী অ্যাড্রিনাল সংকট হতে পারে — আর মূল রোগটিও ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসকের নিয়ম অনুযায়ী মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হয়, যাতে গ্রন্থি আবার সক্রিয় হওয়ার সময় পায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে প্রেডনিসোলন কখন, কীভাবে খাওয়া উচিত?
প্রেডনিসোলন সকালে, নাশতার সঙ্গে বা ঠিক পরে খান। সকালে খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল-ছন্দের সঙ্গে মেলে — ঘুমের ব্যাঘাত ও গ্রন্থির দমন কম হয় — আর খাবার পাকস্থলীকে জ্বালা থেকে রক্ষা করে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এর সঙ্গে এনএসএআইডি ব্যথানাশক খাবেন না এবং সময় বা মাত্রা নিজে বদলাবেন না।
দীর্ঘদিন প্রেডনিসোলন খেলে কি হাড় দুর্বল হয় ও রক্তে চিনি বাড়ে?
হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহারে এ ঝুঁকিগুলো পরিচিত। প্রেডনিসোলন রক্তে চিনি বাড়াতে পারে — ডায়াবেটিস থাকলে ঘন ঘন মাপতে হবে — এবং মাসের পর মাস খেলে হাড় ক্ষয় হয়ে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকেরা মাত্রা ও মেয়াদ সীমিত রাখেন এবং প্রয়োজনে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও হাড় রক্ষাকারী ওষুধ দেন; চিনি, রক্তচাপ, চোখ ও হাড় নিয়মিত পরীক্ষা করান। নিয়মিত ফলোআপে থাকলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা অনেক নিরাপদ হয়।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।