ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Syrup

Paracetamol 120 mg/5 ml Syrup

জেনেরিক: প্যারাসিটামল

প্রস্তুতকারক: EDCL (Dhaka)

থেরাপিউটিক ক্লাস: Analgesic and antipyretic (pain reliever and fever reducer)

Paracetamol কী?

Paracetamol 120 mg/5 ml প্যারাসিটামলসমৃদ্ধ একটি সিরাপ। এটি জ্বর কমাতে এবং মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা লাঘব করতে সাহায্য করে।

Paracetamol 120 mg/5 ml syrup বাংলাদেশে EDCL (Dhaka) কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Paracetamol, যা জ্বর ও হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধ। বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা জ্বরের জন্য — এমনকি ডেঙ্গু জ্বরেও — এটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে দেন। মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা, গা-ব্যথা, মাসিকের ব্যথা ও টিকার পরের জ্বরেও এটি ব্যবহৃত হয়। সঠিক মাত্রায় খেলে এটি পাকস্থলীর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

প্যারাসিটামল মূলত মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে কাজ করে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমায়, যা ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে ও শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে কাজ করে এটি জ্বর কমিয়ে আনে। সাধারণত ওষুধ খাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে আরাম পাওয়া যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Paracetamol যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • যেকোনো কারণের জ্বর — ভাইরাল জ্বর, ফ্লু এবং ডেঙ্গু জ্বর
  • মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
  • দাঁতব্যথা ও দাঁতের চিকিৎসার পরের ব্যথা
  • গা-ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা ও কোমরব্যথা
  • মাসিকের ব্যথা
  • অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ গিঁটের ব্যথা
  • শিশু ও বড়দের টিকা দেওয়ার পরের জ্বর ও ব্যথা
  • সর্দি-কাশি ও ফ্লুর উপসর্গ

এটি উপসর্গ কমায়, রোগের মূল কারণ সারায় না; তাই জ্বর বা ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Paracetamol-এর সাধারণ মাত্রা প্রয়োজনে প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পর ৫০০ মি.গ্রা. থেকে ১ গ্রাম। ২৪ ঘণ্টায় সব ওষুধ মিলিয়ে ৪ গ্রামের (৪০০০ মি.গ্রা.) বেশি নয় — সর্দি-জ্বরের কম্বিনেশন ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকে, তা-ও হিসাবে ধরুন।

  • প্রাপ্তবয়স্ক: প্রতিবার ৫০০ মি.গ্রা.-এর ১–২টি ট্যাবলেট, দিনে সর্বোচ্চ ৮টি
  • শিশু: ওজন অনুযায়ী প্রতিবার ১০–১৫ মি.গ্রা./কেজি, সাধারণত সিরাপ বা ড্রপ আকারে, ৪–৬ ঘণ্টা পরপর (দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার)

দুই ডোজের মধ্যে অন্তত ৪ ঘণ্টা বিরতি দিন। শিশু, বয়স্ক ও লিভারের সমস্যায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মাত্রা অবশ্যই চিকিৎসক ঠিক করবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

নির্ধারিত মাত্রায় Paracetamol অত্যন্ত সহনীয় একটি ওষুধ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল, তবে হতে পারে:

  • চামড়ায় র‍্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জি (বিরল)
  • বমিভাব বা পেটে হালকা অস্বস্তি
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যা বা মারাত্মক চর্মরোগ

সবচেয়ে বড় বিপদ হলো অতিরিক্ত মাত্রা: দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রার বেশি খেলে মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী লিভারের ক্ষতি হতে পারে — প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায়ই কোনো উপসর্গ থাকে না। অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন মনে হলে সুস্থ বোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

সতর্কতা

Paracetamol ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:

  • সব ওষুধ মিলিয়ে দিনে কখনোই ৪ গ্রামের বেশি নয়
  • সর্দি-জ্বর ও ব্যথার কম্বিনেশন ওষুধের গায়ের লেখা দেখুন — অনেকটিতে আগে থেকেই প্যারাসিটামল থাকে
  • লিভারের রোগ থাকলে, নিয়মিত মদ্যপান করলে বা শরীর খুব দুর্বল/কম ওজনের হলে কম মাত্রায় ও চিকিৎসকের পরামর্শে খান
  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন — চিকিৎসক ডোজের ব্যবধান বাড়াতে পারেন
  • জ্বর ৩ দিনের বেশি বা ব্যথা ৫ দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসক দেখান
  • সিরাপ ও ট্যাবলেট শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — দুর্ঘটনাজনিত ওভারডোজ খুবই সাধারণ

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনি যেসব ওষুধ খান তা চিকিৎসককে জানান। Paracetamol-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • ওয়ারফারিন ও অনুরূপ রক্ত পাতলা করার ওষুধ — দীর্ঘদিন প্রতিদিন প্যারাসিটামল খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে
  • কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল, রিফাম্পিসিন — এগুলো প্যারাসিটামলজনিত লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়
  • অ্যালকোহল — নিয়মিত মদ্যপানে স্বাভাবিক মাত্রাতেও লিভারের ক্ষতি হতে পারে
  • প্যারাসিটামলযুক্ত অন্য ওষুধ — একসঙ্গে খেলে অজান্তেই দৈনিক সীমা পেরিয়ে যেতে পারে
  • মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডন — শোষণ দ্রুত করতে পারে (সাধারণত ক্ষতিকর নয়)

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Paracetamol খাবেন না:

  • প্যারাসিটামল বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • মারাত্মক লিভার ফেইলিউর বা গুরুতর সক্রিয় লিভার রোগ থাকলে

দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ, গুরুতর কিডনি রোগ, নিয়মিত মদ্যপান বা চরম অপুষ্টিতে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে খান। একসঙ্গে দুটি ভিন্ন প্যারাসিটামল ওষুধ কখনোই খাবেন না।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: নির্ধারিত মাত্রায় ও প্রয়োজনীয় স্বল্পতম সময়ে ব্যবহারে প্যারাসিটামল গর্ভাবস্থায় ব্যথা ও জ্বরের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। উচ্চ জ্বর নিজেই গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই জ্বর কমানো জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন একটানা খাবেন না।

স্তন্যদান: বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায়; Paracetamol স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবু মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সংরক্ষণ

Paracetamol ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টার প্যাকেই রাখুন। সিরাপের বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ডেঙ্গু জ্বরে Paracetamol খাওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ। ডেঙ্গুতে জ্বর ও গা-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলই একমাত্র সুপারিশকৃত ওষুধ। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAID ওষুধ ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু প্যারাসিটামল প্লাটিলেটে প্রভাব ফেলে না। তবে দিনে ৪ গ্রামের সীমা মেনে চলুন, প্রচুর তরল পান করুন, এবং তীব্র পেটব্যথা, বমি বা রক্তক্ষরণের মতো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

দিনে সর্বোচ্চ কয়টি Paracetamol ট্যাবলেট খাওয়া নিরাপদ?

৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিবার ১–২টি, ৪–৬ ঘণ্টা পরপর খেতে পারেন; ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮টি ট্যাবলেট (৪ গ্রাম)। এই সীমার মধ্যে সর্দি-জ্বরের কম্বিনেশন ওষুধসহ সব উৎসের প্যারাসিটামল ধরা হয়। লিভারের রোগ, নিয়মিত মদ্যপান বা কম ওজনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও কম খেতে হবে। সীমা ছাড়ালে লিভারের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

কেউ অতিরিক্ত Paracetamol খেয়ে ফেললে কী করব?

এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে নিন এবং রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। প্যারাসিটামল ওভারডোজে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায়ই কোনো উপসর্গ থাকে না, অথচ ভেতরে ভেতরে লিভারের ক্ষতি হতে থাকে। প্রতিষেধক এন-অ্যাসিটাইলসিস্টিন ওভারডোজের ৮–১০ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। ওষুধের প্যাকেটটি সঙ্গে নিন এবং বমি, ব্যথা বা জন্ডিসের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ:

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের সেরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →