সাসপেনশন পাউডার
Niazid 100 mg/5 ml সাসপেনশন পাউডার
জেনেরিক: নাইটাজক্সানাইড
প্রস্তুতকারক: Apex Pharma Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiprotozoal / Antiparasitic
Niazid এর কাজ কি?
Niazid (সাসপেনশন পাউডার)-এর উপাদান নাইটাজক্সানাইড 100 mg/5 ml, প্রস্তুতকারক Apex Pharma Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiprotozoal / Antiparasitic।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি সাসপেনশন পাউডার | ৳ 50.00 |
| 60ml bot | ৳ 50.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Niazid কী?
নিয়াজিড হলো শিশুদের জন্য উপযোগী সাসপেনশন পাউডার, যা প্রতি ৫ মিলিতে নাইটাজোক্সানাইড ১০০ মিলিগ্রাম দেয়। পরজীবীনাশক ওষুধ হিসেবে এটি জিয়ার্ডিয়া ল্যাম্বলিয়া ও ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম পারভামজনিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Niazid 100 mg/5 ml powder for suspension হলো Apex Pharma Ltd.-এর তৈরি ওষুধ, যাতে রয়েছে Nitazoxanide — একটি ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ও অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ। এটি মূলত অন্ত্রের পরজীবী জিয়ার্ডিয়া ল্যাম্বলিয়া ও ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম পারভাম-জনিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; কিছু কৃমি সংক্রমণ ও দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক ডায়রিয়াতেও চিকিৎসকরা এটি দেন। Niazid খাবারের সঙ্গে খেতে হয়।
Nitazoxanide পরজীবীদের শক্তি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য একটি এনজাইম-ব্যবস্থা (পাইরুভেট:ফেরিডক্সিন অক্সিডোরিডাক্টেজ) আটকে দিয়ে কাজ করে। এই শক্তি-পথ বন্ধ হলে পরজীবী বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, আর অন্ত্র ধীরে ধীরে সংক্রমণমুক্ত হয়। খাবারের সঙ্গে খেলে ওষুধটির শোষণ বাড়ে ও কার্যকারিতা ভালো হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Nitazoxanide যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- জিয়ার্ডিয়াসিস — জিয়ার্ডিয়া ল্যাম্বলিয়া-জনিত ডায়রিয়া
- ক্রিপ্টোস্পোরিডিওসিস — শিশুসহ ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম পারভাম-জনিত ডায়রিয়া
- অ্যামিবিয়াসিস ও কিছু কৃমি সংক্রমণ — চিকিৎসকের বিবেচনা অনুযায়ী
- দীর্ঘস্থায়ী বা রোটাভাইরাস-সংশ্লিষ্ট ডায়রিয়া — নির্বাচিত ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের নির্দেশনায়
অল্প দিনের বেশিরভাগ ডায়রিয়া ভাইরাসজনিত — তাতে দরকার শুধু পর্যাপ্ত তরল ও (শিশুদের) জিংক, অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ নয়। চিকিৎসক পরজীবী-কারণ সন্দেহ বা নিশ্চিত করলে তবেই Niazid ব্যবহার করুন — যেকোনো পাতলা পায়খানায় ঢালাওভাবে নয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Niazid 100 mg/5 ml সাসপেনশন পাউডার-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Nitazoxanide সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- সাধারণ: পেটব্যথা, বমিভাব, মাথাব্যথা এবং প্রস্রাবের রং উজ্জ্বল হলুদ-সবুজ হয়ে যাওয়া — এটি ক্ষতিকর নয়
- তুলনামূলক কম: বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, ক্ষুধামান্দ্য
- বিরল: র্যাশ, চুলকানি বা ফোলাসহ অ্যালার্জি; লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া
এই ওষুধে প্রস্রাব হলদেটে হওয়া প্রত্যাশিত — কোর্স শেষে তা চলে যায়। মুখ-গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মারাত্মক র্যাশ, কিংবা চিকিৎসার পরও পানিশূন্যতা বেড়ে চললে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
সতর্কতা
Nitazoxanide ব্যবহারে সতর্কতা:
- খাবারের সঙ্গে খান — শোষণ অনেক ভালো হয় এবং পেটের অস্বস্তি কম হয়
- আগে পানিশূন্যতা রোধ: যেকোনো ডায়রিয়ায় তরল ও ইলেকট্রোলাইট (খাবার স্যালাইন) সবচেয়ে জরুরি; অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ এর পরিপূরক, বিকল্প নয়
- লিভার বা কিডনির রোগ এবং অ্যাডভান্সড এইচআইভি-র মতো রোগ-প্রতিরোধ কমানো অবস্থা থাকলে চিকিৎসককে জানান — সেক্ষেত্রে সাড়া ভিন্ন হতে পারে, লম্বা চিকিৎসা লাগতে পারে
- ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়াল রাখুন — সাসপেনশনে চিনি থাকে
- কোর্স শেষেও ডায়রিয়া থাকলে, ফিরে এলে বা রক্ত গেলে নিজে নিজে আবার কোর্স না করে পায়খানা পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Nitazoxanide-এর জানা মিথস্ক্রিয়া তুলনামূলক কম, তবে খেয়াল রাখুন:
- প্রোটিনে দৃঢ়ভাবে বাঁধা ওষুধ: এর সক্রিয় রূপ (টিজক্সানাইড) রক্তের প্রোটিনে দৃঢ়ভাবে বাঁধে — তাই ওয়ারফারিন, ফেনিটয়েনের মতো সংকীর্ণ-নিরাপত্তা-সীমার ওষুধে সতর্কতা; পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে
- অন্যান্য অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক: অপ্রয়োজনীয় দ্বৈত চিকিৎসা এড়াতে সংমিশ্রণ চিকিৎসকের নির্দেশেই হওয়া উচিত
- মদ: অন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসা চলাকালে এড়িয়ে চলুন — এটি পানিশূন্যতা ও পেটের অস্বস্তি বাড়ায়
Niazid শুরুর আগে রক্ত পাতলা করার ও খিঁচুনির ওষুধসহ আপনার সব ওষুধের পূর্ণ তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
যেসব ক্ষেত্রে Nitazoxanide ব্যবহার করা যাবে না:
- নাইটাজক্সানাইড বা powder for suspension-এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- পণ্যের অনুমোদিত বয়সসীমার নিচের শিশুদের (সাসপেনশন সাধারণত ১ বছর ও তদূর্ধ্ব; ট্যাবলেট ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব) — চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশ ছাড়া
উল্লেখযোগ্য লিভার বা কিডনি সমস্যায় কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে — এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা-তথ্য সীমিত। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে থাকলে (যেমন অ্যাডভান্সড এইচআইভি) কার্যকারিতা কম হতে পারে — তখন নিজে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা জরুরি।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: প্রাণী-গবেষণায় নাইটাজক্সানাইডে ভ্রূণের ক্ষতি দেখা যায়নি, তবে মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। রেজিস্টার্ড চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত — বিশেষত প্রথম তিন মাসে, যখন বেশিরভাগ ওষুধই যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা হয়।
স্তন্যদান: নাইটাজক্সানাইড বা এর সক্রিয় উপাদান মায়ের দুধে যায় কি না জানা নেই। স্তন্যদানকারী মা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে এটি খাবেন — তিনি মায়ের সংক্রমণ সারানোর গুরুত্ব ও শিশুর তাত্ত্বিক ঝুঁকি দুটোই বিবেচনা করবেন।
সংরক্ষণ
প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Niazid খাওয়ার পর প্রস্রাব হলুদ-সবুজ হয়ে গেছে — এটা কি বিপজ্জনক?
না। প্রস্রাবের উজ্জ্বল হলুদ বা সবুজাভ রং নাইটাজক্সানাইড ও এর বিপাকজাত উপাদানের সুপরিচিত, নিরীহ প্রভাব — কোর্স শেষের এক-দুই দিনের মধ্যেই তা চলে যায়। এটি নিজে লিভার বা কিডনির ক্ষতির লক্ষণ নয়। তবে সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, ফ্যাকাশে পায়খানাসহ গাঢ় প্রস্রাব, কিংবা তীব্র ক্লান্তি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখান — সেগুলো ভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত।
ডাক্তার না দেখিয়ে যেকোনো ডায়রিয়ায় কি Niazid খাওয়া যায়?
না। তীব্র ডায়রিয়ার বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত এবং নিজে নিজেই সারে — আসল চিকিৎসা হলো খাবার স্যালাইন, স্বাভাবিক খাওয়া চালিয়ে যাওয়া এবং শিশুদের জিংক; অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ নয়। জিয়ার্ডিয়া বা ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়ামের মতো পরজীবী কারণ সন্দেহ বা নিশ্চিত হলে তবেই Niazid কাজে লাগে — যা চিকিৎসক রোগের ইতিহাস, স্থায়িত্ব ও প্রয়োজনে পায়খানা পরীক্ষা দেখে ঠিক করেন। উচ্চ জ্বর, রক্ত, তীব্র পানিশূন্যতা বা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী ডায়রিয়ায় নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।