ট্যাবলেট
Naproxen 250 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: ন্যাপ্রোক্সেন
প্রস্তুতকারক: EDCL (Dhaka)
থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID)
Naproxen এর কাজ কি?
Naproxen (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ন্যাপ্রোক্সেন 250 mg, প্রস্তুতকারক EDCL (Dhaka)। থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID)।
Naproxen কী?
ন্যাপ্রোক্সেন ২৫০ মিগ্রা ট্যাবলেটের নাম এর সক্রিয় উপাদান NSAID ন্যাপ্রোক্সেনের সঙ্গেই মেলে। ন্যাপ্রোক্সেন আর্থ্রাইটিস, মাংসপেশি-হাড় ও অন্যান্য প্রদাহজনিত অবস্থায় ব্যথা ও প্রদাহ উপশমে ব্যবহৃত হয়।
Naproxen 250 mg tablet বাংলাদেশে EDCL (Dhaka) কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Naproxen, দীর্ঘ সময় কার্যকর একটি NSAID ব্যথানাশক, যা আর্থ্রাইটিস, কোমরব্যথা, মাসিকের ব্যথা ও গাউটে বহুল ব্যবহৃত। প্রতিটি ডোজ ৮–১২ ঘণ্টা কাজ করে বলে সাধারণত দিনে মাত্র দুবার খেলেই চলে — দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত ব্যথায় এটি বেশ সুবিধাজনক।
ন্যাপ্রোক্সেন সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম বন্ধ করে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন কমায় — এই রাসায়নিকই প্রদাহের জায়গায় ব্যথা, ফোলা ও জ্বর সৃষ্টি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমলে ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমে। একই কারণে পাকস্থলীর সুরক্ষাস্তর পাতলা হয় ও কিডনির রক্তপ্রবাহে প্রভাব পড়ে, তাই এটি সবসময় খাবারের সঙ্গে এবং কার্যকর সর্বনিম্ন মাত্রায় খেতে হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
ব্যথা ও প্রদাহে Naproxen ব্যবহৃত হয়, যেমন:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস
- গাউটের তীব্র আক্রমণ
- কোমরব্যথা, ঘাড়ব্যথা ও মাংসপেশির টান
- মাসিকের ব্যথা — সবচেয়ে কার্যকর ওষুধগুলোর একটি
- মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
- দাঁতব্যথা ও ছোটখাটো প্রসিডিউরের পরের ব্যথা
- টেন্ডোনাইটিস, বারসাইটিস ও খেলাধুলার আঘাত
এটি উপসর্গ কমায়; ব্যথা বারবার ফিরে এলে মূল রোগের জন্য চিকিৎসকের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Naproxen 250 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Naproxen-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- বুক জ্বালা, পেটব্যথা, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি
- বেশি মাত্রায় কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস)
- শরীরে পানি জমা ও রক্তচাপ সামান্য বৃদ্ধি
গুরুতর কিন্তু কম দেখা যায়: পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণ (কালো পায়খানা, রক্তবমি), কিডনির ক্ষতি, তীব্র অ্যালার্জি ও চর্মরোগ, এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মাত্রায় হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বৃদ্ধি। কালো পায়খানা, বুকব্যথা বা তীব্র পেটব্যথা হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
Naproxen ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:
- সবসময় খাবারের সঙ্গে খান; দীর্ঘ কোর্সে সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক-সুরক্ষার ওষুধ (PPI) লাগতে পারে
- ডেঙ্গু জ্বরে বা সন্দেহে খাবেন না — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি; জ্বরে বদলে প্যারাসিটামল নিন
- বয়স্ক হলে কিংবা আলসার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার রোগ বা হাঁপানি থাকলে সাবধান
- বমি-ডায়রিয়ায় পানিশূন্য অবস্থায় এড়িয়ে চলুন
- অন্য NSAID বা অ্যাসপিরিন-জাতীয় ব্যথানাশকের সঙ্গে মেলাবেন না
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে নিয়মিত রক্তচাপ, কিডনি ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করান
- রক্ত জমাট বাঁধা সামান্য বিলম্বিত করতে পারে — অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার আগে জানিয়ে দিন
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Naproxen-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- অন্য NSAID ও অ্যাসপিরিন — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়; ভুল সময়ে খেলে ন্যাপ্রোক্সেন লো-ডোজ অ্যাসপিরিনের হার্ট-সুরক্ষাও কমাতে পারে
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল) — রক্তক্ষরণ বাড়ে
- স্টেরয়েড ও SSRI — পেটে রক্তক্ষরণের বাড়তি ঝুঁকি
- ACE ইনহিবিটর, ARB ও ডাইউরেটিক — কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
- লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা ও বিষক্রিয়া বাড়ে
- অ্যান্টাসিড ও কোলেস্টাইরামিন — ন্যাপ্রোক্সেনের শোষণ ধীর করতে পারে
ফার্মেসি থেকে কেনা ব্যথানাশকসহ আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Naproxen খাবেন না:
- সক্রিয় পেপটিক আলসার বা পেটে রক্তক্ষরণ, কিংবা বারবার হওয়ার ইতিহাস
- অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা ফোলা বা অ্যালার্জির ইতিহাস
- গুরুতর কিডনি, লিভার বা হার্ট ফেইলিউর
- ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
- ন্যাপ্রোক্সেন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
প্রমাণিত হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তক্ষরণজনিত রোগে কেবল বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় Naproxen এড়িয়ে চলুন, এবং শেষ তিন মাসে কখনোই নয় — এটি গর্ভের শিশুর হার্টের রক্তনালি অসময়ে বন্ধ করতে, শিশুর কিডনিতে প্রভাব ফেলতে ও প্রসব বিলম্বিত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলই উত্তম।
স্তন্যদান: বুকের দুধে অল্প পরিমাণ যায়, তবে অন্য NSAID-এর চেয়ে শরীরে বেশি সময় থাকে, তাই সাধারণত স্বল্পস্থায়ী বিকল্প (যেমন আইবুপ্রোফেন) বেশি পছন্দনীয়। স্তন্যদানকালে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খান।
সংরক্ষণ
প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Naproxen কি খাবারের আগে না পরে খাব?
Naproxen সবসময় খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। সব NSAID-এর মতো ন্যাপ্রোক্সেনও পাকস্থলীর সুরক্ষাস্তর দুর্বল করে, তাই খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা ও আলসারের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। কয়েক দিনের বেশি খেতে হলে চিকিৎসক সঙ্গে ওমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলী-সুরক্ষাকারী ওষুধ যোগ করতে পারেন।