Tablet
Napadol 325 mg + 37.5 mg Tablet
জেনেরিক: প্যারাসিটামল + ট্রামাডল হাইড্রোক্লোরাইড
প্রস্তুতকারক: Beximco Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Opioid Analgesic Combination
Napadol কী?
Napadol 325 mg + 37.5 mg tablet তৈরি করে Beximco Pharmaceuticals Ltd.; এতে দুটি ব্যথানাশক একসঙ্গে আছে — প্যারাসিটামল ও ট্রামাডল হাইড্রোক্লোরাইড। শুধু প্যারাসিটামলে কাজ না হলে মাঝারি থেকে মাঝারি-তীব্র ব্যথায় এটি ব্যবহৃত হয়। ট্রামাডল একটি ওপিওয়েড বলে এটি কঠোরভাবে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ: এতে ঝিমুনি হয় এবং দীর্ঘদিন খেলে নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে — তাই চিকিৎসকের নির্দেশমতো সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খেতে হবে।
উপাদান দুটি পরিপূরকভাবে কাজ করে: প্যারাসিটামল ব্যথার সংকেত তৈরিকারী রাসায়নিক আটকায় ও জ্বর কমায় — দ্রুত কাজ করে; আর ট্রামাডল মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ওপিওয়েড রিসেপ্টরে কাজ করে এবং শরীরের নিজস্ব ব্যথা-দমন ব্যবস্থা জোরদার করে — ফলে দুটি মিলে একার চেয়ে বেশি ও দীর্ঘ উপশম দেয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
চিকিৎসকেরা মাঝারি থেকে মাঝারি-তীব্র ব্যথার স্বল্পমেয়াদি উপশমে Napadol দেন, যেমন:
- অপারেশন-পরবর্তী ব্যথা — সার্জারি বা দাঁতের প্রসিডিউরের পরে
- আঘাতের ব্যথা — হাড় ভাঙা, মচকানো ও আঘাতজনিত ব্যথা
- তীব্র কোমরব্যথা বা গাঁটের ব্যথার ফ্লেয়ার-আপ — শুধু প্যারাসিটামল বা এনএসএআইডিতে নিয়ন্ত্রণ না হলে
- ক্যানসারজনিত ব্যথা — চিকিৎসকের ব্যথা-ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে
Napadol কেবল সেই ব্যথার জন্য, যেখানে সত্যিই ওপিওয়েডযুক্ত ওষুধ দরকার — এবং যত কম সময় সম্ভব। সাধারণ টুকটাক ব্যথায় এটি নয়; যখন-তখন খাওয়া বা অন্যকে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Napadol সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ; মাত্রা ও মেয়াদ চিকিৎসকই ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ তথ্য (ট্যাবলেটে সাধারণত ৩২৫ মি.গ্রা. প্যারাসিটামল + ৩৭.৫ মি.গ্রা. ট্রামাডল থাকে):
- সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পরপর ১–২টি ট্যাবলেট; ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮টি।
- দুই ডোজের মাঝে অন্তত ৬ ঘণ্টা ফাঁক রাখুন; ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আসে এমন সর্বনিম্ন মাত্রাই খান।
- প্যারাসিটামলের সীমা: সব উৎস মিলিয়ে — জ্বর-ব্যথার ওষুধ, সর্দির ওষুধসহ — দিনে মোট প্যারাসিটামল ৪ গ্রামের (৪০০০ মি.গ্রা.) বেশি নয়। Napadol-এর সঙ্গে অন্য প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাবেন না।
- বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের রোগীদের কম মাত্রা বা বেশি ব্যবধান দরকার — চিকিৎসক ঠিক করবেন।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নয়।
কয়েক সপ্তাহের বেশি নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না — ট্রামাডলের উইথড্রয়াল (অস্থিরতা, ঘাম, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা) হতে পারে; চিকিৎসক ধীরে কমিয়ে দেবেন। মদ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন এবং গাড়ি চালানোয় সতর্ক থাকুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Napadol-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- বমি ভাব ও বমি — সবচেয়ে বেশি হয়; খাবারের সঙ্গে খেলে কম হতে পারে
- মাথা ঘোরা, ঝিমুনি ও হালকা লাগা
- কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখ শুকানো
- ঘাম, মাথাব্যথা
- কারও কারও চুলকানি
জরুরি চিকিৎসা দরকার এমন গুরুতর প্রতিক্রিয়া: খুব ধীর বা অগভীর শ্বাস, অতিরিক্ত ঘুম বা সাড়া না দেওয়া (ওভারডোজ — বিশেষত মদ বা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে); খিঁচুনি (ট্রামাডল খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়); সেরোটোনিন-জাতীয় ওষুধের সঙ্গে অস্থিরতা, জ্বর, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও বিভ্রান্তি (সেরোটোনিন সিনড্রোম); মুখ-গলা ফুলে যাওয়া অ্যালার্জি; এবং প্যারাসিটামল ওভারডোজ — শুরুতে তেমন উপসর্গ না থাকলেও লিভার ধ্বংস করে দিতে পারে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি কখনো খাবেন না।
সতর্কতা
Napadol ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- আসক্তির সতর্কবার্তা: ট্রামাডল একটি ওপিওয়েড — কয়েক সপ্তাহের বেশি নিয়মিত খেলে সহনশীলতা, ওষুধের প্রতি টান ও নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। কঠোরভাবে প্রেসক্রিপশন মেনে খান, নিজে মাত্রা বাড়াবেন না, ঘুম বা মন ভালো করার জন্য খাবেন না, কাউকে দেবেন না।
- প্যারাসিটামলের সীমা: সব উৎসের প্যারাসিটামল হিসাব করুন; লিভার বাঁচাতে দিনে মোট ৪ গ্রামের নিচে রাখুন।
- মদ নিষেধ — ঝিমুনি, শ্বাস-প্রশ্বাস কমা ও লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- গাড়ি চালানোয় সতর্কতা: ওষুধ কেমন প্রভাব ফেলে না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালানো এড়িয়ে চলুন।
- মৃগীরোগ বা আগের খিঁচুনি, বিষণ্নতা বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার, শ্বাসকষ্ট, লিভার-কিডনির রোগ, বা নেশার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- দীর্ঘদিন খাওয়ার পর কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে কমিয়ে বন্ধ করুন।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
যা যা খান সব চিকিৎসককে জানান। Napadol-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- প্যারাসিটামলযুক্ত অন্য ওষুধ — লিভার-ধ্বংসকারী ওভারডোজের ঝুঁকি; একসঙ্গে খাবেন না।
- মদ, বেনজোডায়াজেপিন, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য অবসাদ-আনা ওষুধ — শ্বাস-প্রশ্বাস বিপজ্জনক, এমনকি প্রাণঘাতীভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
- অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (সারট্রালিনের মতো এসএসআরআই, এসএনআরআই, ট্রাইসাইক্লিক, মিরটাজাপিন) ও ট্রিপটান — সেরোটোনিন সিনড্রোম ও খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়।
- MAO ইনহিবিটর — সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; অন্তত ১৪ দিনের বিরতি দরকার।
- কার্বামাজেপিন — ট্রামাডলের কাজ কমিয়ে দেয়।
- ওয়ারফারিন — রক্তপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে; INR পরীক্ষা করা উচিত।
- ওন্ডানসেট্রন — ট্রামাডলের ব্যথা-উপশম কমাতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের ক্ষেত্রে Napadol ব্যবহার করা যাবে না:
- প্যারাসিটামল, ট্রামাডল, অন্য ওপিওয়েড বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
- মদ, ঘুমের ওষুধ, ওপিওয়েড বা সাইকোট্রপিক ওষুধে তাৎক্ষণিক নেশাগ্রস্ত অবস্থায়
- বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর ব্যবহারে
- গুরুতর লিভারের রোগে
- চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রিত নয় এমন মৃগীরোগে
- গুরুতর শ্বাসকষ্টে
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের, এবং বারবার ডোজ লাগলে স্তন্যদানকালে
- ওপিওয়েড ছাড়ানোর চিকিৎসায় বিকল্প ওষুধ হিসেবে
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় Napadol ব্যবহার করা উচিত নয়। ট্রামাডল গর্ভফুল পেরিয়ে শিশুর কাছে যায়; নিয়মিত খেলে নবজাতকের উইথড্রয়াল উপসর্গ হতে পারে, আর প্রসবের কাছাকাছি সময়ে খেলে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস কমে যেতে পারে। গর্ভাবস্থার ব্যথায় সাধারণত সঠিক মাত্রায় শুধু প্যারাসিটামলই পছন্দের — তবে আগে অবশ্যই চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
স্তন্যদান: ট্রামাডল ও প্যারাসিটামল দুটোই মায়ের দুধে যায়। এক ডোজে ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবে স্তন্যদানকালে বারবার খাওয়া অনুচিত — শিশু অস্বাভাবিক ঘুমঘুম হতে পারে বা দুধ টানতে দুর্বল হতে পারে। নিরাপদ ব্যথা-উপশমের বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সংরক্ষণ
Napadol ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। এতে ওপিওয়েড থাকায় নিরাপদে, শিশু এবং যাঁর জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়নি এমন সবার নাগালের বাইরে রাখুন — শিশু ভুলে খেয়ে ফেললে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ট্যাবলেট ঘরে না রেখে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Napadol-এর সঙ্গে কি আলাদা প্যারাসিটামল বা সর্দি-জ্বরের ওষুধ খাওয়া যাবে?
<p>খুব সাবধান — Napadol-এর মধ্যেই প্যারাসিটামল আছে। আলাদা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, কিংবা প্যারাসিটামলযুক্ত সর্দি-জ্বরের ওষুধ খেলে অজান্তেই দিনে <strong>৪ গ্রামের (৪০০০ মি.গ্রা.)</strong> নিরাপদ সীমা পেরিয়ে যেতে পারেন — এতে গুরুতর, কখনো প্রাণঘাতী লিভারের ক্ষতি হয়, যার শুরুতে তেমন লক্ষণও থাকে না। অন্য কোনো ওষুধ যোগ করার আগে লেবেলে প্যারাসিটামল আছে কি না দেখুন বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন। ওভারডোজের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান — দ্রুত চিকিৎসায় লিভার বাঁচানো যায়।</p>
Napadol খেলে কি আসক্তি হতে পারে?
<p>হতে পারে। এর ট্রামাডল উপাদানটি একটি ওপিওয়েড: কয়েক সপ্তাহের বেশি নিয়মিত খেলে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায় — মাত্রা দুর্বল মনে হয়, ব্যথা যেন দ্রুত ফিরে আসে, আর বন্ধ করলে অস্থিরতা, ঘাম, দুশ্চিন্তা, গা-ব্যথা ও অনিদ্রার মতো উইথড্রয়াল হয়। কারও কারও ওষুধের প্রতি টানও তৈরি হয়। ঝুঁকি কমাতে: কেবল প্রকৃত ব্যথায়, নির্ধারিত মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য Napadol খান; ঘুম বা মানসিক চাপের জন্য কখনো নয়। দীর্ঘদিন খেয়ে থাকলে হঠাৎ বন্ধ না করে চিকিৎসকের কাছে ধীরে কমানোর পরিকল্পনা নিন। ওষুধ-নির্ভরতার জন্য সাহায্য চাওয়া মোটেও লজ্জার নয়।</p>
আমি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট খাই — আমার জন্য Napadol কি নিরাপদ?
<p>Napadol খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসককে জানান। ট্রামাডল সেরোটোনিন বাড়ায়; তাই অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সঙ্গে — সারট্রালিন বা এসসিটালোপ্রামের মতো এসএসআরআই, এসএনআরআই, ট্রাইসাইক্লিক বা মিরটাজাপিন — খেলে <strong>সেরোটোনিন সিনড্রোমের</strong> ঝুঁকি বাড়ে (অস্থিরতা, জ্বর, ঘাম, দ্রুত হৃদস্পন্দন, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি), খিঁচুনির ঝুঁকিও বাড়ে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কখনো কখনো এ সংমিশ্রণ ব্যবহৃত হয়, তবে ঝুঁকি বিচারের ভার কেবল চিকিৎসকের। নিজে থেকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সঙ্গে Napadol যোগ করবেন না; ওই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।</p>
সর্বশেষ হালনাগাদ: