Tablet
Mirtaz 30 30 mg Tablet
জেনেরিক: মিরটাজাপিন
প্রস্তুতকারক: Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Noradrenergic and Specific Serotonergic Antidepressant (NaSSA)
Mirtaz 30 কী?
Mirtaz 30 30 mg tablet তৈরি করে Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.; এর মূল উপাদান Mirtazapine — NaSSA গ্রুপের একটি বিষণ্নতারোধী ওষুধ। এটি ঘুম আনে এবং প্রায়ই ক্ষুধা বাড়ায়, তাই যাঁদের বিষণ্নতার সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, রাতের দুশ্চিন্তা বা ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমে যাওয়া থাকে, তাঁদের জন্য চিকিৎসকেরা প্রায়ই এটি বেছে নেন। Mirtaz 30 লাগা লজ্জার কিছু নয় — বিষণ্নতা একটি বাস্তব ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ; এর ওষুধ খাওয়া রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার মতোই স্বাভাবিক।
Mirtazapine মস্তিষ্কের দুটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক — নরঅ্যাড্রেনালিন ও সেরোটোনিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে কাজ করে, যা মন, ঘুম ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই ভালো হতে শুরু করে, তবে মন ভালো হওয়ার প্রভাব পেতে নিয়মিত ২–৪ সপ্তাহ লাগে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
চিকিৎসকেরা যেসব ক্ষেত্রে Mirtaz 30 দিয়ে থাকেন:
- মেজর ডিপ্রেশন — বিশেষত যখন সঙ্গে ঘুম না হওয়া, রাতের দুশ্চিন্তা বা ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমে যাওয়া থাকে
- দুশ্চিন্তাপ্রধান বিষণ্নতা
- বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় কখনো কখনো বিষণ্নতাজনিত ঘুমের সমস্যায়, বা যাঁরা এসএসআরআই জাতীয় ওষুধ সহ্য করতে পারেননি তাঁদের ক্ষেত্রে
Mirtaz 30 শুধুই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ। এটি আপনার জন্য উপযুক্ত কি না এবং কী মাত্রায় খাবেন, তা যথাযথ পরীক্ষার পর চিকিৎসক — সম্ভব হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ — ঠিক করবেন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Mirtaz 30 সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ; নিচের তথ্য কেবল সাধারণ ধারণার জন্য — সঠিক মাত্রা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত রাতে শোয়ার আগে দিনে একবার ১৫ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু, কারণ ওষুধটি ঘুম আনে।
- রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ধীরে ধীরে রাতে ৩০–৪৫ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
- মজার বিষয় হলো, কম মাত্রায় অনেক সময় ঘুমের ভাব বেশি হয় — তাই নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না।
প্রতিদিন রাতে একই সময়ে খান। Mirtaz 30 হঠাৎ বন্ধ করবেন না — হঠাৎ ছাড়লে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা ফিরে আসতে পারে। সাধারণত অন্তত ৬ মাস ভালো থাকার পর চিকিৎসকই ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে দেবেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Mirtaz 30-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ঝিমুনি ও ঘুম ঘুম ভাব, বিশেষত প্রথম কয়েক সপ্তাহে — এ কারণেই ওষুধটি রাতে খাওয়া হয়
- ক্ষুধা ও ওজন বেড়ে যাওয়া — কম ওজনের রোগীর জন্য উপকারী হলেও নজরে রাখা দরকার
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য
- মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত স্বপ্ন দেখা
- কারও কারও হাত-পা সামান্য ফোলা
জ্বরের সঙ্গে গলাব্যথা ও মুখে ঘা (বিরল ক্ষেত্রে ওষুধটি রক্তের শ্বেতকণিকা কমিয়ে দিতে পারে), চোখ হলুদ হওয়া, তীব্র র্যাশ, অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা নিজেকে আঘাত করার চিন্তা — বিশেষত ২৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার প্রথম সপ্তাহগুলোতে — দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
সতর্কতা
Mirtaz 30 খাওয়ার সময় যা মেনে চলবেন:
- শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খান এবং প্রতিটি ফলো-আপে যান।
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না — ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হয়।
- মদ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন — Mirtaz 30-এর সঙ্গে মিশে মারাত্মক ঝিমুনি হয় ও বিষণ্নতা বাড়ে।
- ওষুধে কতটা ঘুম আসে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্রপাতি চালাবেন না, বিশেষত প্রথম সপ্তাহগুলোতে।
- ক্ষুধা বাড়তে পারে বলে ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন; ডায়াবেটিস থাকলে রক্তের সুগারও মাপুন।
- মৃগীরোগ, হৃদরোগ, লিভার-কিডনির সমস্যা, গ্লুকোমা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা নিম্ন রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Mirtaz 30-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- MAO ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ — একসঙ্গে খাওয়া নিষেধ; অন্তত ১৪ দিনের বিরতি দরকার।
- ঘুমের ওষুধ ও বেনজোডায়াজেপিন (যেমন ডায়াজেপাম) — ঝিমুনি অনেক বেড়ে যায়।
- মদ — বিপজ্জনক মাত্রায় ঘুম ও অবসাদ বাড়ায়; সম্পূর্ণ বর্জন করুন।
- সেরোটোনিন বাড়ানো ওষুধ — ট্রামাডল, ট্রিপটান, এসএসআরআই, লিথিয়ামের সঙ্গে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি।
- কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন Mirtazapine-এর কার্যকারিতা কমাতে পারে; কিটোকোনাজলের মতো কিছু ওষুধ রক্তে এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ওয়ারফারিন — রক্ত পাতলা হওয়ার প্রভাব কিছুটা বাড়তে পারে; INR পরীক্ষা করা উচিত।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের ক্ষেত্রে Mirtaz 30 ব্যবহার করা যাবে না:
- Mirtazapine বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- বর্তমানে MAO ইনহিবিটর খেলে, বা তা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে
মৃগীরোগ, গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগ, হৃদস্পন্দনের সমস্যা, ম্যানিয়া বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ইতিহাস, গ্লুকোমা কিংবা রক্তে শ্বেতকণিকা কমে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Mirtazapine ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সীমিত। উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি হলে তবেই চিকিৎসক Mirtaz 30 দেবেন — তবে নিজে থেকে কখনো বন্ধ করবেন না, কারণ চিকিৎসা না করা বিষণ্নতাও মা ও শিশুর ক্ষতি করে। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে জানান।
স্তন্যদান: মায়ের দুধে অল্প পরিমাণে ওষুধ যায়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্তন্যদান সম্ভব হতে পারে; শিশুর অতিরিক্ত ঘুম, দুধ টানতে অনীহা বা ওজন না বাড়ার দিকে খেয়াল রাখুন। সিদ্ধান্ত সব সময় চিকিৎসকের সঙ্গে মিলেই নিন।
সংরক্ষণ
Mirtaz 30 ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Mirtaz 30 কেন রাতে খেতে হয়?
<p>Mirtaz 30 বেশ ঘুম আনে, বিশেষত প্রথম কয়েক সপ্তাহে। তাই রাতে শোয়ার আগে খেলে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই উপকারে লাগে — ঘুম ভালো হয়, আর ধীরে ধীরে বিষণ্নতারোধী কাজও শুরু হয়। সকালে খেলে সারা দিন ঝিমুনি লাগতে পারে। প্রতিদিন রাতে একই সময়ে খান, এবং পরদিন সকালে ওষুধের প্রভাব কেমন থাকে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন।</p>
Mirtaz 30 খেলে কি ওজন বেড়ে যাবে?
<p>ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও কিছুটা ওজন বাড়া Mirtaz 30-এর অন্যতম সাধারণ প্রভাব। যাঁদের বিষণ্নতার কারণে খাওয়া কমে ওজন কমে গিয়েছিল, তাঁদের জন্য এটি বরং উপকারী। ওজন নিয়ে চিন্তা থাকলে মাসে একবার ওজন মাপুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম চালিয়ে যান এবং ফলো-আপে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। ওজনের ভয়ে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না।</p>
মন ভালো হলেই কি Mirtaz 30 বন্ধ করা যায়?
<p>না। ভালো বোধ করার মানে ওষুধ কাজ করছে — রোগ পুরোপুরি সেরে গেছে এমন নয়। রোগ ফিরে আসা ঠেকাতে চিকিৎসকেরা সাধারণত সুস্থ হওয়ার পরও অন্তত ৬ মাস চিকিৎসা চালিয়ে যান। Mirtaz 30 হঠাৎ বন্ধ করলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, দুশ্চিন্তা ও ঘুমের সমস্যা ফিরে আসতে পারে। সময় হলে চিকিৎসকই কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে মাত্রা কমাবেন। বন্ধের সিদ্ধান্ত সব সময় চিকিৎসকের সঙ্গে নিন।</p>
সর্বশেষ হালনাগাদ: