See in English

ট্যাবলেট

Maxcort 30 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: ডেফলাজাকর্ট

প্রস্তুতকারক: Novatek Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Corticosteroid (glucocorticoid)

Maxcort 30 এর কাজ কি?

Maxcort 30 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ডেফলাজাকর্ট 30 mg, প্রস্তুতকারক Novatek Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Corticosteroid (glucocorticoid)।

Maxcort 30 কী?

Maxcort 30 হলো ৩০ মি.গ্রা. ডিফ্লাজাকর্টযুক্ত একটি ট্যাবলেট, যা গ্লুকোকর্টিকয়েড কর্টিকোস্টেরয়েড। তীব্র অ্যালার্জি, হাঁপানি, আর্থ্রাইটিস ও স্টেরয়েডে সাড়া দেয় এমন অন্যান্য রোগে প্রদাহ ও অতিরিক্ত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া কমাতে এটি দেওয়া হয়।

Maxcort 30 30 mg tablet হলো Novatek Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Deflazacort — প্রেডনিসোলন থেকে উদ্ভূত একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। তীব্র হাঁপানি ও অ্যালার্জি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ অটোইমিউন রোগ, নেফ্রোটিক সিনড্রোম, ত্বক ও রক্তের কিছু রোগ এবং ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফিতে প্রদাহ ও অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু গবেষণা বলছে, সমতুল্য মাত্রায় পুরনো স্টেরয়েডের তুলনায় এটি রক্তের চিনি ও হাড়ের ওপর কিছুটা কম প্রভাব ফেলতে পারে — তবে সতর্কতাগুলো একই রকম প্রযোজ্য।

Deflazacort শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের মতো কাজ করে। এটি কোষে ঢুকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকের উৎপাদন বন্ধ করে — ফলে ফোলা, ব্যথা, লালচেভাব এবং নিজ দেহকোষের ওপর অ্যালার্জি বা ইমিউন আক্রমণ কমে। চিকিৎসা চলাকালে শরীর নিজের হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয়, তাই দীর্ঘদিন খাওয়ার পর Maxcort 30 কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না — চিকিৎসকের নির্দেশনায় মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

চিকিৎসকেরা যেসব রোগে Maxcort 30 দিয়ে থাকেন:

  • তীব্র হাঁপানি ও গুরুতর অ্যালার্জিজনিত রোগ
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগ
  • নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও কিডনির নির্দিষ্ট কিছু রোগ
  • প্রদাহজনিত চর্মরোগ ও রক্তের কিছু রোগ (যেমন আইটিপি)
  • ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি — পেশিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করতে
  • বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় স্টেরয়েড প্রয়োজন এমন অন্যান্য প্রদাহ বা ইমিউন রোগ

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Maxcort 30 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত ভালো সহনীয়। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে Maxcort 30-এ হতে পারে:

  • ক্ষুধা ও ওজন বৃদ্ধি, মুখ গোল হয়ে যাওয়া
  • পাকস্থলীতে জ্বালা, অম্বল বা আলসার
  • রক্তে চিনি ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
  • মেজাজ পরিবর্তন, খিটখিটে ভাব ও ঘুমের ব্যাঘাত
  • সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি ও ক্ষত শুকাতে দেরি
  • দীর্ঘমেয়াদে: হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), ছানি ও চোখের চাপ বৃদ্ধি, পেশি দুর্বলতা, ত্বক পাতলা হওয়া; শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া

Maxcort 30 চলাকালে কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, চোখের সমস্যা, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ, কিংবা মেজাজের বড় পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

  • দীর্ঘদিন খাওয়ার পর Maxcort 30 কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধে অ্যাড্রিনাল সংকট (চরম দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমা) ও রোগ ফিরে আসতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশমতোই ধাপে ধাপে কমান।
  • পাকস্থলীর জ্বালা কমাতে সকালে খাবারের সঙ্গে খান।
  • সংক্রমণ: স্টেরয়েড সংক্রমণ আড়াল করে ও বাড়ায় — জলবসন্ত, হাম বা যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং জ্বর হলে দ্রুত জানান। আগের যক্ষ্মার ইতিহাস চিকিৎসককে বলুন।
  • ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ: ঘন ঘন মাপুন; ওষুধের মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
  • হাড় ও চোখ: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, হাড়ের ঘনত্ব ও চোখের নিয়মিত পরীক্ষা দরকার হতে পারে।
  • সার্জারি, অসুস্থতা বা টিকার আগে প্রতিটি চিকিৎসক-দন্তচিকিৎসককে স্টেরয়েড খাওয়ার কথা জানান; বেশি মাত্রার চিকিৎসায় জীবন্ত টিকা সাধারণত এড়ানো হয়।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Deflazacort-এর মিথস্ক্রিয়া:

  • এনএসএআইডি ব্যথানাশক (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) — পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন — স্টেরয়েডে চিনি বাড়ে; মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
  • রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটাল — স্টেরয়েড দ্রুত ভেঙে কার্যকারিতা কমায়।
  • কিটোকোনাজল ও কিছু CYP3A4 বাধাদানকারী — ডেফলাজাকর্টের মাত্রা বাড়ায়; চিকিৎসক ডোজ কমাতে পারেন।
  • ডাইউরেটিক — পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়ায়।
  • ওয়ারফারিন — রক্ত পাতলা করার প্রভাব বদলাতে পারে; আইএনআর পরীক্ষায় রাখুন।
  • জীবন্ত টিকা — উল্লেখযোগ্য মাত্রার চিকিৎসা চলাকালে সাধারণত দেওয়া হয় না।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

  • Deflazacort বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
  • চিকিৎসাবিহীন ব্যাপক (সিস্টেমিক) সংক্রমণে — সিস্টেমিক ছত্রাক সংক্রমণসহ
  • বেশি মাত্রার (ইমিউনোসাপ্রেসিভ) চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত টিকা
  • সক্রিয় যক্ষ্মা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মারাত্মক পেপটিক আলসার বা গুরুতর মানসিক রোগে কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

মায়ের রোগের কারণে প্রয়োজন হলে কেবল তখনই, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় গর্ভাবস্থায় Deflazacort ব্যবহৃত হয় — চিকিৎসা না করানো রোগই প্রায়শ বড় ঝুঁকি। দীর্ঘ ও বেশি মাত্রার ব্যবহারে শিশুর বৃদ্ধি নজরে রাখতে হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণ মাত্রায় স্তন্যদান প্রায়ই সম্ভব, বেশি মাত্রায় চিকিৎসক ডোজ থেকে দূরত্ব রেখে দুধ খাওয়াতে বলতে পারেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Maxcort 30 কখনো ব্যবহার করবেন না।

সংরক্ষণ

Maxcort 30 ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ওষুধটি মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →