ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Capsule

Itrazen SB Capsule 65 mg Capsule

জেনেরিক: ইট্রাকোনাজল

প্রস্তুতকারক: Beacon Pharmaceuticals PLC

থেরাপিউটিক ক্লাস: Triazole Antifungal

Itrazen SB Capsule কী?

ইট্রাজেন এসবি হলো ৬৫ মিগ্রা ইট্রাকোনাজল ক্যাপসুল, যা একটি ট্রায়াজল শ্রেণির অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। ইট্রাকোনাজল ত্বক, নখ ও শরীরের ভেতরের বিভিন্ন ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

Itrazen SB Capsule 65 mg capsule হল Beacon Pharmaceuticals PLC-এর তৈরি Itraconazole, একটি বিস্তৃত-বর্ণালির ট্রায়াজল অ্যান্টিফাঙ্গাল। বাংলাদেশে একগুঁয়ে ছত্রাকজনিত চর্মরোগের চলমান মহামারিতে—শরীর, কুঁচকি ও পায়ের দাদ (রিংওয়ার্ম)—এটি এখন চিকিৎসার অন্যতম ভরসা; নখের ছত্রাক, ছুলি (পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলার), ক্যানডিডা সংক্রমণ ও কিছু গুরুতর অভ্যন্তরীণ ছত্রাকরোগেও ব্যবহৃত হয়। এটি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং সাধারণত কয়েক সপ্তাহের কোর্স লাগে।

Itraconazole ছত্রাকের একটি এনজাইম আটকে দেয়, যা আর্গোস্টেরল তৈরি করে—ছত্রাক-কোষের আবরণের অপরিহার্য উপাদান। আর্গোস্টেরল ছাড়া আবরণ ফুটো হয়ে যায়, ছত্রাক বাড়া বন্ধ করে মারা যায়। মানুষের কোষ আর্গোস্টেরলের বদলে কোলেস্টেরল ব্যবহার করে বলে ওষুধটি বেছে বেছে ছত্রাকেই আঘাত হানে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Itrazen SB Capsule যেসব ছত্রাক সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়:

  • শরীর, কুঁচকি, পা ও হাতের দাদ (টিনিয়া/রিংওয়ার্ম)—বিশেষত ছড়িয়ে পড়া, বারবার ফেরা বা স্টেরয়েড ক্রিমে জটিল হয়ে ওঠা কেস, যা এখন সারা বাংলাদেশে অতি সাধারণ
  • ছুলি (পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলার)—গায়ে হালকা বা গাঢ় ছোপ
  • আঙুল ও পায়ের নখের ছত্রাক (অনাইকোমাইকোসিস)
  • মুখ, খাদ্যনালি ও যোনিপথের ক্যানডিডা সংক্রমণ
  • হিস্টোপ্লাজমোসিসের মতো গুরুতর সিস্টেমিক ছত্রাকরোগ, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে

রোগ নির্ণয় চিকিৎসকই নিশ্চিত করবেন—অনেক র‍্যাশ ছত্রাকের মতো দেখায়—এবং ত্বক, নখ ও অভ্যন্তরীণ সংক্রমণভেদে চিকিৎসার মেয়াদও ভিন্ন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

Itrazen SB Capsule ক্যাপসুল ভরপেট খাবারের পরপরই খান, সম্ভব হলে কোলার মতো অ্যাসিডিক পানীয়সহ—শোষণের জন্য পাকস্থলীর অ্যাসিড অপরিহার্য। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা:

  • শরীর/কুঁচকির দাদ: ১০০ মি.গ্রা. দিনে একবার ১৫ দিন, বা ২০০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৭ দিন
  • পা/হাতের দাদ: ১০০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৩০ দিন, বা ২০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার ৭ দিন
  • ছুলি: ২০০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৭ দিন
  • নখের ছত্রাক: পালস থেরাপি—মাসে ১ সপ্তাহ ২০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার; আঙুলের নখে ২ মাস, পায়ের নখে ৩ মাস—অথবা টানা ৩ মাস দৈনিক ২০০ মি.গ্রা.

২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাবেন না। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার ব্যতিক্রমী—কেবল বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অধিকাংশ মানুষ Itrazen SB Capsule-এর কোর্স নির্বিঘ্নে শেষ করেন। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বমিভাব, পেটব্যথা, বদহজম বা ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
  • ফুসকুড়ি বা চুলকানি; স্বাদের পরিবর্তন
  • রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সাময়িক বৃদ্ধি

লিভার ক্ষতির লক্ষণ—খাওয়ায় অরুচি, একটানা বমিভাব, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে পায়খানা বা চোখ হলুদ—কিংবা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ—অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, পা ফোলা, দ্রুত ওজন বাড়া, চিত হয়ে শুতে না পারা—দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যান। বিরল ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি কমা বা হাত-পায়ে ঝিনঝিন হতে পারে; তা-ও জানান।

সতর্কতা

স্টেরয়েড-মেশানো তথাকথিত "ম্যাজিক" ক্রিম আর অসমাপ্ত অ্যান্টিফাঙ্গাল কোর্সের কারণে বাংলাদেশ আজ ওষুধ-প্রতিরোধী দাদের মহামারির সাথে লড়ছে। তাই Itrazen SB Capsule-এর নিয়ম কঠোর: প্রথম সপ্তাহে র‍্যাশ মিলিয়ে গেলেও কয়েক সপ্তাহের পুরো কোর্স প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শেষ করুন—ছোট কোর্সে বেঁচে যাওয়া ছত্রাক ফিরে আসে আরও কঠিন রূপে।

  • চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড-অ্যান্টিফাঙ্গাল মিশ্র ক্রিম ব্যবহার করবেন না
  • হৃদরোগ থাকলে জানান—Itraconazole হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং দুর্বল করতে পারে; হার্ট ফেইলিউরে এটি এড়িয়ে চলা হয়
  • এক মাসের বেশি কোর্সে আগে ও মাঝে লিভার পরীক্ষা লাগতে পারে; লিভারের রোগ আগেই জানান
  • শোষণে পাকস্থলীর অ্যাসিড দরকার: খাবারের পর খান এবং অ্যান্টাসিড, পিপিআই ও এইচ-টু ব্লকার ২ ঘণ্টা দূরে রাখুন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Itraconazole লিভারের CYP3A4 এনজাইম জোরালোভাবে বন্ধ করে এবং বহু ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে—তালিকাটি প্রচলিত ওষুধগুলোর মধ্যে দীর্ঘতমগুলোর একটি। যা যা খান সব চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দেখান। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:

  • সিমভাস্ট্যাটিন বা লোভাস্ট্যাটিন, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম/ট্রায়াজোলাম, আর্গট-জাতীয় ওষুধ, কুইনিডিন—এসবের সাথে কখনোই নয়
  • ডমপেরিডন (বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত গ্যাসের ওষুধ) ইট্রাকোনাজলের সাথে বিপজ্জনক হার্ট রিদমের ঝুঁকি তৈরি করে—এড়িয়ে চলুন
  • ওয়ারফারিন, ডিগক্সিন, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, স্টেরয়েড ও কিছু ডায়াবেটিস ওষুধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে—নজরদারি বা ডোজ বদল লাগতে পারে
  • রিফাম্পিসিন, ফেনিটোইন ও কার্বামাজেপিন ইট্রাকোনাজলের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে
  • অ্যান্টাসিড, পিপিআই ও এইচ-টু ব্লকার শোষণ কমায়—২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Itrazen SB Capsule খাবেন না:

  • ইট্রাকোনাজল বা অন্য অ্যাজল অ্যান্টিফাঙ্গালে অ্যালার্জি থাকলে
  • হার্ট ফেইলিউর বা দুর্বল হার্ট-পেশি (ভেন্ট্রিকুলার ডিসফাংশন) থাকলে—কেবল প্রাণঘাতী ছত্রাক সংক্রমণে বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তে ব্যতিক্রম হয়
  • কঠোরভাবে নিষিদ্ধ মিথস্ক্রিয়ার ওষুধ চলমান থাকলে—যেমন সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম, ট্রায়াজোলাম, আর্গটামিন বা কুইনিডিন
  • গর্ভাবস্থায়, যদি চিকিৎসা ত্বক বা নখের ছত্রাকের জন্য হয়—এসব রোগে ঝুঁকিটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

গুরুতর লিভার রোগেও এটি সাধারণত বাদ। সন্তানধারণক্ষম নারীদের চিকিৎসা চলাকালে এবং বন্ধের পর চিকিৎসকের বলা সময় পর্যন্ত কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: ত্বক ও নখের ছত্রাকে গর্ভাবস্থায় Itraconazole সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—প্রাণী-গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতি দেখা গেছে, আর এসব রোগের চিকিৎসা অপেক্ষা করতে পারে বা মলমেই সম্ভব। কেবল প্রাণঘাতী ছত্রাকরোগে, বিকল্প না থাকলে, গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহৃত হয়। সন্তানধারণক্ষম নারীরা কোর্স চলাকালে এবং শেষ ডোজের পর চিকিৎসকের বলা সময় পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন—বিশেষত নখের চিকিৎসার পরে, কারণ ওষুধটি শরীরে কয়েক সপ্তাহ থেকে যায়।

স্তন্যদান: Itraconazole বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসা চলাকালে স্তন্যদান না করাই ভালো। Itrazen SB Capsule শুরুর আগে সময়সূচি ও নিরাপদ বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

Itrazen SB Capsule ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। বাংলাদেশের আর্দ্রতায় ক্যাপসুল দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তাই খাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি ক্যাপসুল মূল ব্লিস্টারে সিল করা অবস্থায় রাখুন—খোলা ক্যাপসুল দীর্ঘদিন পিলবক্সে রাখবেন না। প্যাকেট শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।

  • লেবেলে না বললে ফ্রিজে রাখবেন না; বাথরুমের তাক ও রান্নাঘরের গরম এড়িয়ে চলুন
  • মেয়াদ পেরোনো Itrazen SB Capsule কখনও খাবেন না
  • দীর্ঘ পালস-থেরাপিতে অব্যবহৃত সপ্তাহের স্ট্রিপগুলো বাক্সে ভরে ঠান্ডা আলমারিতে রাখুন এবং চিকিৎসা শেষে বাড়তি ওষুধ ফার্মেসিতে ফেরত দিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

সবচেয়ে ভালো ফল পেতে Itrazen SB Capsule কীভাবে খাব?

Itrazen SB Capsule ক্যাপসুল ভরপেট খাবারের পরপরই খান—ওষুধটি ঠিকমতো শোষণে খাবারের চর্বি ও হজমের সময় তৈরি পাকস্থলীর অ্যাসিড দুটোই দরকার। কোলার মতো অ্যাসিডিক পানীয় দিয়ে খেলে শোষণ আরও বাড়ে, বিশেষত যাঁরা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান। অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল-জাতীয় ওষুধ ও এইচ-টু ব্লকার ডোজ থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা দূরে রাখুন। খালি পেটে Itrazen SB Capsule খেলে শোষণ এতটাই কমে যেতে পারে যে পুরো কোর্সই ব্যর্থ হয়।

এক সপ্তাহেই দাদ মিলিয়ে গেছে—Itrazen SB Capsule কি এখন বন্ধ করতে পারি?

না—ঠিক এভাবেই বাংলাদেশে ওষুধ-প্রতিরোধী দাদের মহামারি তৈরি হয়েছে। ছত্রাক ত্বকের গভীর স্তরে বাস করে; জীবাণু আসলে মরার অনেক আগেই দৃশ্যমান র‍্যাশ মিলিয়ে যায়। আগে বন্ধ করলে বেঁচে যাওয়া ছত্রাক কয়েক সপ্তাহেই আবার বাড়ে—এবার ওষুধের বিরুদ্ধে আরও শক্ত হয়ে—আর প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছড়ায়। কোর্সের প্রতিটি দিন শেষ করুন—ত্বকের দাদে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ, নখে কয়েক মাস—এবং চিকিৎসকের দেওয়া ক্রিমও চালিয়ে যান। শেষ করার পর চুলকানি ফিরলে নিজে আবার শুরু না করে চিকিৎসকের কাছে যান।

আমার নিয়মিত ওষুধের সাথে কি Itrazen SB Capsule খাওয়া যাবে?

চিকিৎসক যাচাই করার পরই কেবল—ইট্রাকোনাজলের মিথস্ক্রিয়ার তালিকা ওষুধজগতে দীর্ঘতমগুলোর একটি। সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম, আর্গট-জাতীয় ওষুধ বা কুইনিডিনের সাথে এটি কখনোই চলবে না; আর বাংলাদেশে অতি প্রচলিত গ্যাসের ট্যাবলেট ডমপেরিডনের সাথে খেলে বিপজ্জনক হার্ট রিদমের ঝুঁকি। এটি ওয়ারফারিন, ডিগক্সিন, স্টেরয়েড ও কিছু ডায়াবেটিস ওষুধের মাত্রাও বাড়াতে পারে, আবার গ্যাস্ট্রিকের অ্যাসিড-কমানো ওষুধ এর শোষণই আটকে দেয়। Itrazen SB Capsule শুরুর আগে আপনার সব ট্যাবলেট, সিরাপ ও হারবাল পণ্য চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে দেখান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: