ট্যাবলেট
Intaflam 400 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: আইবুপ্রোফেন
প্রস্তুতকারক: Incepta Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-Steroidal Anti-Inflammatory Drug (NSAID)
Intaflam এর কাজ কি?
Intaflam (ট্যাবলেট)-এর উপাদান আইবুপ্রোফেন 400 mg, প্রস্তুতকারক Incepta Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-Steroidal Anti-Inflammatory Drug (NSAID)।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 1.00 |
| Strip of 10 | ৳ 10.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Intaflam কী?
Intaflam 400 mg Tablet-এ ibuprofen আছে, যা Incepta Pharmaceuticals Ltd. তৈরি একটি non-steroidal anti-inflammatory drug। এটি ibuprofen উপযুক্ত হলে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা কমাতে, প্রদাহ হ্রাস করতে এবং জ্বর কমাতে ব্যবহৃত হয়।
Intaflam 400 mg tablet বাংলাদেশে Incepta Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Ibuprofen, যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) গুলোর একটি। মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা, মাসিকের ব্যথা, কোমর-পিঠের ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা, জ্বর এবং বাতজনিত গাঁটের ব্যথায় চিকিৎসকরা এটি প্রায়ই ব্যবহার করেন।
আইবুপ্রোফেন শরীরের সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইমের কাজ বন্ধ করে। এই এনজাইম প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের রাসায়নিক তৈরি করে, যা ব্যথা, ফোলা ও জ্বরের কারণ। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমে গেলে ব্যথা ও জ্বর কমে আসে এবং প্রদাহ উপশম হয়। তবে এই রাসায়নিক পাকস্থলীর সুরক্ষা ও কিডনির রক্তপ্রবাহেও ভূমিকা রাখে বলে Intaflam সবসময় ভরা পেটে এবং যত কম মাত্রায় কাজ হয় তত কম মাত্রায় খাওয়া উচিত।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Intaflam সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা ও জ্বরে স্বল্পমেয়াদে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ব্যবহারগুলো হলো:
- মাথাব্যথা, মাইগ্রেন ও দাঁতব্যথা
- মাসিকের ব্যথা
- মাংসপেশির ব্যথা, মচকানো ও খেলাধুলার আঘাত
- কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের গাঁটব্যথা
- সর্দি-কাশি ও ফ্লুজনিত জ্বর
- দাঁত তোলা বা ছোট অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা
আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ দীর্ঘদিন NSAID ব্যবহারে পাকস্থলী, কিডনি ও রক্তচাপের নজরদারি দরকার।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Intaflam 400 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বল্পমেয়াদে অধিকাংশ মানুষ ওষুধটি ভালোভাবে সহ্য করেন, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে:
- সাধারণ: পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব, বদহজম, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, হালকা মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
- কম দেখা যায়: শরীরে পানি জমা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, চামড়ায় র্যাশ, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ
- গুরুতর (সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন): কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, তীব্র পেটব্যথা, মুখ-ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বুকব্যথা
গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দীর্ঘদিন বা ঘন ঘন ব্যবহারে আলসার, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত বয়স্কদের।
সতর্কতা
Intaflam ব্যবহারের সময় নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলুন:
- সবসময় ভরা পেটে খান — খালি পেটে কখনোই নয়
- ডেঙ্গু জ্বরে বা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে এই ওষুধ একেবারেই খাবেন না — NSAID রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়; জ্বরে প্যারাসিটামলই নিরাপদ
- গ্যাস্ট্রিক আলসার, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না
- বয়স্কদের পাকস্থলী ও কিডনিজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন — পানিশূন্যতায় কিডনির ঝুঁকি বাড়ে
- মদ্যপান এড়িয়ে চলুন — পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বাড়ায়
- একসঙ্গে দুটি NSAID (যেমন ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন) খাবেন না
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনি যেসব ওষুধ খাচ্ছেন তা চিকিৎসককে জানান। Intaflam যেসব ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করতে পারে:
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল) — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে
- অন্যান্য NSAID বা স্টেরয়েড — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়
- উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইইউরেটিক — কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, কিডনির ওপর চাপ পড়ে
- লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া হতে পারে
- SSRI জাতীয় ওষুধ (যেমন এসসিটালোপ্রাম) — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ে
- ডায়াবেটিসের ওষুধ — রক্তের সুগার নিয়মিত মাপুন
চিকিৎসা চলাকালে মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত খাওয়া হারবাল বা মুদি-দোকানের ওষুধের কথাও জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের যেকোনো অবস্থায় Intaflam খাবেন না:
- আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো NSAID-এ অ্যালার্জি (বিশেষত আগে হাঁপানির টান, চাকা চাকা ফুসকুড়ি বা মুখ ফুলে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে)
- সক্রিয় গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল আলসার, অথবা NSAID-জনিত রক্তক্ষরণের ইতিহাস
- মারাত্মক হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা ডেঙ্গু জ্বর
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
- হার্টের বাইপাস (CABG) অপারেশনের পরের ব্যথা
কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে প্রথম ডোজের আগেই চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় Ibuprofen খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে (২৮ সপ্তাহের পর) এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এতে গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি, পানির পরিমাণ কমা এবং প্রসব বিলম্বিত হতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেও কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া যাবে।
বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায় এবং স্বাভাবিক মাত্রায় স্বল্পমেয়াদি ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। তবুও আপনি বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানান, যেন আপনার ও শিশুর জন্য নিরাপদ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া যায়।
সংরক্ষণ
Intaflam মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, সরাসরি রোদ, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। বাথরুম বা রান্নাঘরের চুলার কাছে রাখবেন না। সব ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — ভুল করে খেয়ে ফেললে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে বা ট্যাবলেটের রং বদলে গেলে তা ব্যবহার করবেন না। অব্যবহৃত ওষুধ ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে না রেখে নিরাপদে ফেলে দিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Intaflam কি খালি পেটে খাওয়া যাবে?
না। Intaflam সবসময় খাবারের সঙ্গে, দুধের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই খান। আইবুপ্রোফেন পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী উপাদান কমিয়ে দেয়, তাই খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা, এমনকি আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। ওষুধ খাওয়ার সময় তীব্র পেটব্যথা, কালো পায়খানা বা রক্তবমি হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
ডেঙ্গু জ্বরে Intaflam খাওয়া কি নিরাপদ?
না। ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে Intaflam সহ সব NSAID এড়িয়ে চলতে হবে। ডেঙ্গুতে রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়, আর NSAID প্লাটিলেটের কাজ আরও ব্যাহত করে ও পাকস্থলীতে ক্ষত তৈরি করে — ফলে মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বর-গা ব্যথায় প্যারাসিটামলই নিরাপদ, আর জ্বর দুই-তিন দিনের বেশি থাকলে রক্ত পরীক্ষাসহ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।