জেনেরিক
আইবুপ্রোফেন
বাংলাদেশে আইবুপ্রোফেন জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
84টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Advel 200 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Opsonin Pharma Limited
Advel 100 mg/5 ml Suspension
আইবুপ্রোফেন
Opsonin Pharma Limited
Anafen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Nipa Pharmaceuticals Ltd.
Anaflam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Asiatic Laboratories Ltd.
Anti-Flam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Pristine Pharmaceuticals
Arafa 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Hudson Pharmaceuticals Ltd.
Aveflam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Avert Pharma Ltd.
Beflam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Bengal Drugs & Chemical Works Pharm. Ltd.
Biflam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Bikalpa Friends Pharmaceuticals Ltd.
Brufadol 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Dolphin Pharmaceuticals Ltd.
Bufen 100 mg/5 ml Suspension
আইবুপ্রোফেন
Drug International Ltd.
Bunifen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Healthcare Pharmaceuticals Ltd.
Chemofen 200 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Chemist Laboratories Ltd.
Chemofen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Chemist Laboratories Ltd.
Cobex 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Rasa Pharmaceuticals Ltd.
Deprofen 200 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Doctor's Chemicals Works Ltd.
Deprofen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Doctor's Chemicals Works Ltd.
Erofen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Edruc Ltd.
Esrufen 200 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Esrufen 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Esrufen 600 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Esrufen 100 mg/5 ml Suspension
আইবুপ্রোফেন
Square Pharmaceuticals PLC, Pabna
Flam 400 mg Tablet
আইবুপ্রোফেন
Skylab Ltd.
Flamex 300 mg Capsule
আইবুপ্রোফেন
Advanced Chemical Industries Limited
আইবুপ্রোফেন কী?
আইবুপ্রোফেন বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Non-Steroidal Anti-Inflammatory Drug (NSAID) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
আইবুপ্রোফেন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
আইবুপ্রোফেন সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা ও জ্বরে স্বল্পমেয়াদে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ব্যবহারগুলো হলো:
- মাথাব্যথা, মাইগ্রেন ও দাঁতব্যথা
- মাসিকের ব্যথা
- মাংসপেশির ব্যথা, মচকানো ও খেলাধুলার আঘাত
- কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের গাঁটব্যথা
- সর্দি-কাশি ও ফ্লুজনিত জ্বর
- দাঁত তোলা বা ছোট অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা
আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ দীর্ঘদিন NSAID ব্যবহারে পাকস্থলী, কিডনি ও রক্তচাপের নজরদারি দরকার।
সেবনবিধি ও মাত্রা
রোগ, বয়স ও কিডনির অবস্থা বুঝে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ ধারণা:
- ব্যথা ও জ্বর: প্রয়োজন অনুযায়ী ৬–৮ ঘণ্টা পরপর ২০০–৪০০ মি.গ্রা.; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১,২০০ মি.গ্রা.-এর বেশি নয়
- আর্থ্রাইটিস ও প্রদাহজনিত রোগ: চিকিৎসক প্রয়োজনে দৈনিক সর্বোচ্চ ২,৪০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত ভাগ করে দিতে পারেন
আইবুপ্রোফেন সবসময় ভরা পেটে, খাবার বা দুধের সঙ্গে এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে খান। যত কম মাত্রায় ও যত কম দিনে কাজ হয় ততটুকুই ব্যবহার করুন এবং অন্য কোনো NSAID ব্যথানাশকের সঙ্গে একসঙ্গে খাবেন না। বয়স্ক এবং কিডনি, হার্ট বা পাকস্থলীর সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ হুবহু মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বল্পমেয়াদে অধিকাংশ মানুষ ওষুধটি ভালোভাবে সহ্য করেন, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে:
- সাধারণ: পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব, বদহজম, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, হালকা মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
- কম দেখা যায়: শরীরে পানি জমা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, চামড়ায় র্যাশ, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ
- গুরুতর (সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন): কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, তীব্র পেটব্যথা, মুখ-ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বুকব্যথা
গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দীর্ঘদিন বা ঘন ঘন ব্যবহারে আলসার, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত বয়স্কদের।
সতর্কতা
আইবুপ্রোফেন ব্যবহারের সময় নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলুন:
- সবসময় ভরা পেটে খান — খালি পেটে কখনোই নয়
- ডেঙ্গু জ্বরে বা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে এই ওষুধ একেবারেই খাবেন না — NSAID রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়; জ্বরে প্যারাসিটামলই নিরাপদ
- গ্যাস্ট্রিক আলসার, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না
- বয়স্কদের পাকস্থলী ও কিডনিজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন — পানিশূন্যতায় কিডনির ঝুঁকি বাড়ে
- মদ্যপান এড়িয়ে চলুন — পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বাড়ায়
- একসঙ্গে দুটি NSAID (যেমন ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন) খাবেন না
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনি যেসব ওষুধ খাচ্ছেন তা চিকিৎসককে জানান। আইবুপ্রোফেন যেসব ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করতে পারে:
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল) — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে
- অন্যান্য NSAID বা স্টেরয়েড — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়
- উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইইউরেটিক — কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, কিডনির ওপর চাপ পড়ে
- লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট — রক্তে মাত্রা বেড়ে বিষক্রিয়া হতে পারে
- SSRI জাতীয় ওষুধ (যেমন এসসিটালোপ্রাম) — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়ে
- ডায়াবেটিসের ওষুধ — রক্তের সুগার নিয়মিত মাপুন
চিকিৎসা চলাকালে মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত খাওয়া হারবাল বা মুদি-দোকানের ওষুধের কথাও জানান।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের যেকোনো অবস্থায় আইবুপ্রোফেন খাবেন না:
- আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো NSAID-এ অ্যালার্জি (বিশেষত আগে হাঁপানির টান, চাকা চাকা ফুসকুড়ি বা মুখ ফুলে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে)
- সক্রিয় গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল আলসার, অথবা NSAID-জনিত রক্তক্ষরণের ইতিহাস
- মারাত্মক হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা ডেঙ্গু জ্বর
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
- হার্টের বাইপাস (CABG) অপারেশনের পরের ব্যথা
কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে প্রথম ডোজের আগেই চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় আইবুপ্রোফেন খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে (২৮ সপ্তাহের পর) এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এতে গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি, পানির পরিমাণ কমা এবং প্রসব বিলম্বিত হতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেও কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া যাবে।
বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায় এবং স্বাভাবিক মাত্রায় স্বল্পমেয়াদি ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। তবুও আপনি বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানান, যেন আপনার ও শিশুর জন্য নিরাপদ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া যায়।
সংরক্ষণ
আইবুপ্রোফেন মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, সরাসরি রোদ, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। বাথরুম বা রান্নাঘরের চুলার কাছে রাখবেন না। সব ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন — ভুল করে খেয়ে ফেললে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে বা ট্যাবলেটের রং বদলে গেলে তা ব্যবহার করবেন না। অব্যবহৃত ওষুধ ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে না রেখে নিরাপদে ফেলে দিন।
আইবুপ্রোফেন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
আইবুপ্রোফেন কি খালি পেটে খাওয়া যাবে?
না। আইবুপ্রোফেন সবসময় খাবারের সঙ্গে, দুধের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই খান। আইবুপ্রোফেন পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী উপাদান কমিয়ে দেয়, তাই খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা, এমনকি আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। ওষুধ খাওয়ার সময় তীব্র পেটব্যথা, কালো পায়খানা বা রক্তবমি হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
ডেঙ্গু জ্বরে আইবুপ্রোফেন খাওয়া কি নিরাপদ?
না। ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে আইবুপ্রোফেন সহ সব NSAID এড়িয়ে চলতে হবে। ডেঙ্গুতে রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়, আর NSAID প্লাটিলেটের কাজ আরও ব্যাহত করে ও পাকস্থলীতে ক্ষত তৈরি করে — ফলে মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বর-গা ব্যথায় প্যারাসিটামলই নিরাপদ, আর জ্বর দুই-তিন দিনের বেশি থাকলে রক্ত পরীক্ষাসহ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন কত দিন খাওয়া যায়?
নিজে নিজে আইবুপ্রোফেন জ্বরের জন্য ২–৩ দিন এবং ব্যথার জন্য ৪–৫ দিনের বেশি খাবেন না। উপসর্গ না কমলে, বাড়লে বা বারবার ফিরে এলে ওষুধ চালিয়ে না গিয়ে চিকিৎসক দেখান। তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘদিন বা ঘন ঘন ব্যবহারে গ্যাস্ট্রিক আলসার, কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে — বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে। তাই আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলুন।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।