জেনেরিক
সারট্রালিন
বাংলাদেশে সারট্রালিন জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
56টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Andep 100 mg Tablet
সারট্রালিন
Healthcare Pharmaceuticals Ltd.
Andep 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Healthcare Pharmaceuticals Ltd.
Andep 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Healthcare Pharmaceuticals Ltd.
Bextralin 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Beximco Pharmaceuticals Ltd.
Chear 100 mg Tablet
সারট্রালিন
Advanced Chemical Industries Limited
Chear 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Advanced Chemical Industries Limited
Chear 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Advanced Chemical Industries Limited
E-Set 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Edruc Ltd.
Moodex 100 100 mg Tablet
সারট্রালিন
One Pharma Ltd.
Moodex 50 50 mg Tablet
সারট্রালিন
One Pharma Ltd.
Mudiral 100 mg Tablet
সারট্রালিন
Opsonin Pharma Limited
Mudiral 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Opsonin Pharma Limited
Mudiral 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Opsonin Pharma Limited
Repose 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Sartra 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Pacific Pharmaceuticals Ltd.
SB-Serta 50 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Sunman-Birdem Pharma Ltd.
Serlin 25 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Ibn Sina Pharmaceutical Ind. Ltd.
Serlin 50 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Ibn Sina Pharmaceutical Ind. Ltd.
Serofit 25 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Everest Pharmaceuticals Ltd.
Serofit 50 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Everest Pharmaceuticals Ltd.
Serolux 100 mg Tablet
সারট্রালিন
Nevian Lifescience PLC
Serolux 25 mg Tablet
সারট্রালিন
Nevian Lifescience PLC
Serolux 50 mg Tablet
সারট্রালিন
Nevian Lifescience PLC
Seronex-100 100 mg Tablet
সারট্রালিন
Renata PLC, Gazipur
সারট্রালিন কী?
সারট্রালিন বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Selective Serotonin Reuptake Inhibitor (SSRI) Antidepressant ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
সারট্রালিন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
চিকিৎসক, বিশেষত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যেসব সমস্যায় সারট্রালিন দিয়ে থাকেন:
- মেজর ডিপ্রেশন — দীর্ঘদিন মন খারাপ, কোনো কিছুতে আগ্রহ না পাওয়া, ঘুম ও খাওয়ায় পরিবর্তন
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি
- প্যানিক ডিসঅর্ডার — হঠাৎ বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্টসহ তীব্র ভয়ের আক্রমণ
- ওসিডি — অনিচ্ছাকৃত বারবার চিন্তা ও একই কাজ বারবার করা
- সোশ্যাল অ্যাংজাইটি — মানুষের সামনে অস্বাভাবিক ভয় বা সংকোচ
- পিটিএসডি — মানসিক আঘাত-পরবর্তী সমস্যা
- কিছু নারীর মাসিক-পূর্ব তীব্র মানসিক অস্বস্তি (PMDD)
আপনার জন্য সারট্রালিন উপযুক্ত কি না, তা কেবল চিকিৎসকই নিশ্চিত করতে পারেন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
সারট্রালিন সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ — নিচের তথ্য কেবল সাধারণ ধারণার জন্য; আপনার সঠিক মাত্রা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
- বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে একবার ২৫–৫০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু, প্রয়োজনে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত।
- ওসিডি, প্যানিক ও পিটিএসডি: প্রায়ই কম মাত্রায় (২৫ মি.গ্রা.) শুরু করে ধীরে বাড়ানো হয়।
- প্রতিদিন একই সময়ে খান; খাবারের সঙ্গে বা খালি পেটে — দুভাবেই খাওয়া যায়।
উপকার পেতে ২–৪ সপ্তাহ লাগে, তাই কাজ করছে না ভেবে আগে ছেড়ে দেবেন না। সারট্রালিন কখনোই হঠাৎ বন্ধ করবেন না — মাথা ঘোরা, শরীরে বিদ্যুৎ-ঝটকার মতো অনুভূতি, খিটখিটে মেজাজ ও ঘুমের সমস্যা এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে ধাপে ধাপে মাত্রা কমাতে হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সারট্রালিন-এর বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু এবং প্রথম ১–২ সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়:
- বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা পেটের অস্বস্তি
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা
- ঘুমের সমস্যা বা ঝিমুনি
- বেশি ঘাম হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
- চিকিৎসার শুরুতে সাময়িক অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া
অস্বাভাবিক উত্তেজনা, মন আরও খারাপ হওয়া বা নিজেকে আঘাত করার চিন্তা (বিশেষত ২৫ বছরের কম বয়সীদের), অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, তীব্র র্যাশ, কিংবা জ্বরের সঙ্গে মাংসপেশি শক্ত হওয়া, ঘাম ও বিভ্রান্তি (সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
সতর্কতা
সারট্রালিন ব্যবহারের সময় যা মেনে চলবেন:
- শুধুমাত্র চিকিৎসকের, সম্ভব হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের, তত্ত্বাবধানে খান এবং নিয়মিত ফলো-আপে যান।
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না — উইথড্রয়াল সমস্যা এড়াতে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হয়।
- মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন; এতে বিষণ্নতা বাড়ে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয়।
- ওষুধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা বোঝার আগে গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানোয় সতর্ক থাকুন।
- মৃগীরোগ, লিভারের রোগ, রক্তক্ষরণের সমস্যা, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিস বা বাইপোলার ডিসঅর্ডার থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ২৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার প্রথম সপ্তাহগুলোতে মেজাজের পরিবর্তন বা আত্মহানিকর চিন্তার দিকে পরিবারের নজর রাখা জরুরি।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভেষজ ওষুধসহ আপনি যা যা খান, সব চিকিৎসককে জানান। সারট্রালিন-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- MAO ইনহিবিটর জাতীয় বিষণ্নতার ওষুধ — একসঙ্গে খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ; অন্তত ১৪ দিনের বিরতি প্রয়োজন।
- সেরোটোনিন বাড়ায় এমন অন্য ওষুধ — ট্রামাডল, মাইগ্রেনের ট্রিপটান, লিথিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সঙ্গে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ ও ব্যথানাশক — ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনের সঙ্গে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- পিমোজাইড — একসঙ্গে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- মদ ও ঘুমের ওষুধ — ঝিমুনি অনেক বেড়ে যায়।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের ক্ষেত্রে সারট্রালিন ব্যবহার করা যাবে না:
- সারট্রালিন বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকলে
- পিমোজাইডের সঙ্গে একত্রে
মৃগীরোগ, গুরুতর লিভারের রোগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার (ম্যানিয়ায় রূপ নেওয়ার ঝুঁকি) বা রক্তক্ষরণের প্রবণতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় সারট্রালিন ব্যবহার করা হয়। মনে রাখবেন, চিকিৎসা না করা বিষণ্নতা মা ও শিশুর — দুজনের জন্যই ক্ষতিকর; তাই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না। গর্ভবতী হলে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত আপনার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
স্তন্যদান: মায়ের দুধে সারট্রালিন খুব সামান্য পরিমাণে যায় এবং স্তন্যদানকালে সারট্রালিনকে তুলনামূলক নিরাপদ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট হিসেবে ধরা হয়। তবুও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই ব্যবহার করুন এবং শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা দুধ টানতে অনীহা আছে কি না খেয়াল রাখুন।
সংরক্ষণ
সারট্রালিন ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ওষুধটি মূল প্যাকেটে এবং অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না; অব্যবহৃত ট্যাবলেট ঘরের ময়লায় না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
সারট্রালিন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
সারট্রালিন কাজ করতে কত দিন লাগে?
নিয়মিত সারট্রালিন খাওয়ার ২–৪ সপ্তাহ পর বেশিরভাগ মানুষের মন, ঘুম ও দুশ্চিন্তায় উন্নতি শুরু হয়; পূর্ণ উপকার পেতে ৬–৮ সপ্তাহ লাগতে পারে। এসএসআরআই জাতীয় ওষুধে এমন ধীরে কাজ করা স্বাভাবিক — কাজ করছে না ভেবে আগেই ছেড়ে দেবেন না, নিজে থেকে মাত্রাও বাড়াবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসক যেন মাত্রা ঠিক করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত ফলো-আপে যান।
ভালো বোধ করলে কি সারট্রালিন বন্ধ করে দিতে পারি?
না — সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও নিজে থেকে সারট্রালিন বন্ধ করবেন না। রোগ যেন ফিরে না আসে, সে জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত সুস্থ হওয়ার পরও অন্তত ৬ মাস ওষুধ চালিয়ে যেতে বলেন। হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, শরীরে বিদ্যুৎ-ঝটকার মতো অনুভূতি, খিটখিটে মেজাজ ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। সময় হলে চিকিৎসকই কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে দেবেন।
সারট্রালিন খেলে কি নেশা বা আসক্তি হয়?
ঘুমের ওষুধ বা বেনজোডায়াজেপিনের মতো আসক্তি সারট্রালিন-এ হয় না — এতে নেশার টান বা ক্রমাগত মাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয় না। তবে হঠাৎ বন্ধ করলে সাময়িক কিছু অস্বস্তিকর উপসর্গ দেখা দিতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে মাত্রা কমানো হয়। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট খাওয়া দুর্বলতা বা বদভ্যাস নয় — এটি চিকিৎসারই দায়িত্বশীল অংশ।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।