জেনেরিক
রোসুভাস্ট্যাটিন
বাংলাদেশে রোসুভাস্ট্যাটিন জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
142টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Ambar 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Desh Pharmaceuticals Ltd.
Ambar 5 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Desh Pharmaceuticals Ltd.
Amivas 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Amico Laboratories Ltd.
Amivas 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Amico Laboratories Ltd.
Bestcol 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Biopharma Ltd.
Bestcol 20 20 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Biopharma Ltd.
Bestcol 5 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Biopharma Ltd.
Cholcut 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Ziska Pharmaceuticals Ltd.
Cholcut 5 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Ziska Pharmaceuticals Ltd.
Corestin-10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Corestin-20 20 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Corestin-5 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.
Corovas 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Goodman Pharmaceuticals Ltd
Corovas 20 20 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Goodman Pharmaceuticals Ltd
Corovas 5 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Goodman Pharmaceuticals Ltd
Corvastin 10 Tablet 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Centeon Pharma Limited
Corvastion 20 Tablet 20 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Centeon Pharma Limited
Creston 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Eskayef Pharmaceuticals Ltd. Mirpur.
Creston 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
Creston 20 20 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Eskayef Pharmaceuticals Ltd., Tongi,Gazipur
Creva 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Radiant Pharmaceuticals Ltd.
Creva 5 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Radiant Pharmaceuticals Ltd.
Innostatin 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Bexter Pharmaceuticals
Lipiros 10 10 mg Tablet
রোসুভাস্ট্যাটিন
Pacific Pharmaceuticals Ltd.
রোসুভাস্ট্যাটিন কী?
রোসুভাস্ট্যাটিন বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Statin (HMG-CoA reductase inhibitor) — lipid-lowering agent ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
রোসুভাস্ট্যাটিন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
রোসুভাস্ট্যাটিন যেসব ক্ষেত্রে দেওয়া হয়:
- উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল — বংশগত (ফ্যামিলিয়াল) হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়াসহ।
- মিশ্র ডিসলিপিডেমিয়া — কোলেস্টেরলের সঙ্গে ট্রাইগ্লিসারাইডও বেশি।
- হৃদরোগজনিত ঘটনা প্রতিরোধ — উচ্চ ঝুঁকির মানুষদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও রিং পরানোর প্রয়োজন কমাতে; কোলেস্টেরল প্রায় স্বাভাবিক হলেও।
- হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অ্যানজিওপ্লাস্টির পর — সাধারণত আজীবন।
- অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের গতি কমানো — ধমনির দেয়ালে প্লাক জমার অগ্রগতি ধীর করা।
আপনার ঝুঁকির মাত্রা, কিডনির কার্যক্ষমতা ও অন্যান্য ওষুধ দেখে চিকিৎসক ডোজ নির্বাচন করবেন।
সেবনবিধি ও মাত্রা
রোসুভাস্ট্যাটিন-এর ডোজ চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। সাধারণত দিনে একবার ৫–১০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু হয় এবং ৪ সপ্তাহ পর লিপিড রিপোর্ট দেখে সমন্বয় করা হয়; প্রচলিত মাত্রা দৈনিক ৫–২০ মি.গ্রা., আর ৪০ মি.গ্রা. শুধু গুরুতর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে। বয়স্ক রোগী, কিডনির সমস্যা এবং এশীয় বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে কম ডোজে শুরু করা হয়, কারণ তাদের রক্তে ওষুধের মাত্রা বেশি হতে পারে।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একবার খান — খাবারসহ বা খালি পেটে; অন্য স্ট্যাটিনের মতো রাতে খাওয়ার অভ্যাস করলেও কোনো অসুবিধা নেই।
- ডোজ ভুলে গেলে পরের ডোজ ১২ ঘণ্টার মধ্যে হলে বাদ দিন — কখনো দুটি একসঙ্গে খাবেন না।
- রিপোর্ট স্বাভাবিক হলেই নিজে থেকে রোসুভাস্ট্যাটিন বন্ধ করবেন না — ওষুধ চলা পর্যন্তই উপকার বজায় থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রোসুভাস্ট্যাটিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাংসপেশিতে ব্যথা, টনটনে ভাব বা দুর্বলতা — সাধারণত হালকা; একটানা অকারণ পেশিব্যথা হলে দ্রুত জানান — বিশেষত জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাবসহ, কারণ খুব বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর পেশি-ক্ষয় (র্যাবডোমায়োলাইসিস) হতে পারে।
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা।
- হজমের সমস্যা — বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটব্যথা।
- লিভার এনজাইম বৃদ্ধি — সাধারণত উপসর্গহীন; মাঝে মাঝে লিভার পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
- উচ্চ ডোজে প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্তের চিহ্ন — সাধারণত সাময়িক; চিকিৎসক প্রস্রাব ও কিডনি পরীক্ষা করাতে পারেন।
- রক্তের সুগার সামান্য বাড়া — ঝুঁকিপ্রবণদের ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা সামান্য বাড়ে, তবে হার্টের সুরক্ষা এর চেয়ে অনেক বড়।
সতর্কতা
রোসুভাস্ট্যাটিন চলাকালীন:
- অকারণ পেশিব্যথা, খিঁচ বা দুর্বলতা হলে দ্রুত জানান — বিশেষত জ্বর বা গাঢ় প্রস্রাব থাকলে।
- শুরুর আগে কিডনি বা লিভারের রোগ, হাইপোথাইরয়েড, অতিরিক্ত মদ্যপান বা পরিবারে পেশি-রোগের ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
- নতুন অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক বা হার্টের ওষুধ নেওয়ার সময় জানিয়ে দিন যে আপনি স্ট্যাটিন খান।
- স্ট্যাটিন স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান ত্যাগের সহযোগী — বিকল্প নয়।
- এশীয় রোগীদের কম ডোজ লাগতে পারে; নিজে থেকে ডোজ বাড়াবেন না।
- গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন।
- নির্ধারিত সময়ে লিপিড, লিভার ও সুগারের ফলোআপ পরীক্ষা করান।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রোসুভাস্ট্যাটিন-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- সাইক্লোস্পোরিন — রোসুভাস্ট্যাটিনের মাত্রা বহুগুণ বাড়ায়; এই কম্বিনেশন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
- জেমফাইব্রোজিল ও অন্যান্য ফাইব্রেট — পেশি-বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; ডোজ সীমিত রাখা হয়।
- কিছু এইচআইভি/হেপাটাইটিস-সি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর — মাত্রা বাড়ায়; ডোজ-সীমা মানতে হয়।
- ওয়ারফারিন — INR বেড়ে যেতে পারে; শুরু বা ডোজ বদলের সময় ঘনিষ্ঠ নজরদারি দরকার।
- অ্যালুমিনিয়াম/ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড — শোষণ কমায়; রোসুভাস্ট্যাটিন খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পরে অ্যান্টাসিড খান।
- এরিথ্রোমাইসিন — রোসুভাস্ট্যাটিনের মাত্রা সামান্য কমাতে পারে।
- অ্যাটরভাস্ট্যাটিনের মতো জাম্বুরার রসে এখানে তেমন সমস্যা হয় না, তবে পরিমিতিই ভালো।
প্রতিনির্দেশনা
নিচের ক্ষেত্রে রোসুভাস্ট্যাটিন ব্যবহার করা যাবে না:
- লিভারের সক্রিয় রোগ বা অজানা কারণে লিভার এনজাইম ক্রমাগত বেশি।
- কিডনির গুরুতর অকার্যকারিতা — উচ্চ ডোজ নিষিদ্ধ; কম ডোজও কেবল চিকিৎসকের সতর্ক পরামর্শে।
- গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে।
- রোসুভাস্ট্যাটিন বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি।
- সাইক্লোস্পোরিন চলাকালীন।
- আগে স্ট্যাটিনজনিত গুরুতর পেশি-রোগ বা র্যাবডোমায়োলাইসিস হলে — শুধু বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তে।
- পেশি-বিষক্রিয়ার ঝুঁকি (এশীয় বংশ, হাইপোথাইরয়েড, অতিরিক্ত মদ্যপান ইত্যাদি) থাকলে ৪০ মি.গ্রা. ডোজ বাড়তিভাবে এড়িয়ে চলা হয়।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় রোসুভাস্ট্যাটিন নিষিদ্ধ। গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন, তাই পরিকল্পিত গর্ভধারণের আগে বা গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়া মাত্র স্ট্যাটিন বন্ধ করা হয়। গর্ভধারণে সক্ষম নারীরা চিকিৎসা চলাকালীন কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন এবং মাসিক বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানাবেন। গর্ভাবস্থায় স্ট্যাটিন বন্ধ রাখা মায়ের জন্য সাধারণত নিরাপদ।
স্তন্যদান: রোসুভাস্ট্যাটিন বুকের দুধে যেতে পারে, তাই স্তন্যদানকালে এটি নিষিদ্ধ। শিশুর দুধ ছাড়ানোর পর কখন আবার ওষুধ শুরু করা যাবে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
সংরক্ষণ
রোসুভাস্ট্যাটিন ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; বাথরুমে রাখবেন না। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল প্যাকে এবং শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মোড়কে লেখা মেয়াদ পেরোলে কখনো খাবেন না; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ঘরের ময়লায় না ফেলে নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
রোসুভাস্ট্যাটিন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো বোধ করলে বা লিপিড প্রোফাইল স্বাভাবিক হয়ে গেলে কি রোসুভাস্ট্যাটিন বন্ধ করতে পারি?
না — নিজে থেকে কখনোই রোসুভাস্ট্যাটিন বন্ধ করবেন না। উচ্চ কোলেস্টেরলের কোনো উপসর্গ নেই, তাই ভালো লাগা দিয়ে ধমনির অবস্থা বোঝা যায় না; আর লিপিড রিপোর্ট স্বাভাবিক মানে ট্যাবলেটটি কাজ করছে — এটুকুই। বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোলেস্টেরল আগের জায়গায় ফিরে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের সুরক্ষাও হারিয়ে যায়। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য স্ট্যাটিন সাধারণত আজীবনের চিকিৎসা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা খরচে সমস্যা হলে ডোজ বদল বা বিকল্পের জন্য চিকিৎসককে বলুন — হুট করে ছেড়ে দেবেন না।
রোসুভাস্ট্যাটিন কি অ্যাটরভাস্ট্যাটিনের চেয়ে শক্তিশালী — কোনটি খাচ্ছি তাতে কি কিছু যায় আসে?
মিলিগ্রাম হিসেবে রোসুভাস্ট্যাটিন অ্যাটরভাস্ট্যাটিনের চেয়ে এলডিএল কিছুটা বেশি কমায় — যেমন ১০ মি.গ্রা. রোসুভাস্ট্যাটিন মোটামুটি ২০ মি.গ্রা. অ্যাটরভাস্ট্যাটিনের সমান। কিন্তু "শক্তিশালী" মানেই "আপনার জন্য ভালো" নয়: এলডিএল লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর মতো ডোজ দিলে দুটি স্ট্যাটিনই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক কার্যকরভাবে ঠেকায়। আপনার ঝুঁকি, কিডনির অবস্থা, অন্যান্য ওষুধ ও সহনশীলতা দেখে চিকিৎসকই উপযুক্তটি বেছে নেন। নিজে থেকে স্ট্যাটিন বদলাবেন না বা ডোজ পাল্টাবেন না — দুটির মাত্রা এক-এক করে সমান নয়।
রোসুভাস্ট্যাটিন খাওয়ার সময় মাংসপেশিতে ব্যথা হলে কী করব?
অস্বাভাবিক পরিশ্রমের পর হালকা, অল্প সময়ের ব্যথা সাধারণ ব্যাপার — তা সাধারণত ওষুধের কারণে নয়। কিন্তু ব্যথা, টনটনে ভাব, খিঁচ বা দুর্বলতা যদি একটানা থাকে, শরীরের দুই পাশেই হয়, বা স্পষ্ট কারণ ছাড়া হয় — দেরি না করে চিকিৎসককে জানান। ব্যথা তীব্র হলে, খুব দুর্বল লাগলে বা প্রস্রাব গাঢ় বাদামি হয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান — এগুলো বিরল কিন্তু গুরুতর পেশি-ক্ষয়ের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা (CK) করাতে পারেন, স্ট্যাটিন সাময়িক বন্ধ রাখতে, ডোজ কমাতে বা অন্য স্ট্যাটিনে বদলে দিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করে বসে থাকবেন না।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।