জেনেরিক
অ্যাটেনোলল
বাংলাদেশে অ্যাটেনোলল জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।
63টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে
Aminol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Apollo Pharmaceutical Laboratories Ltd.
Anetol 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Ambee Pharmaceuticals Ltd.
Anol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Medicon Pharmaceuticals Ltd.
Anolol 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Euro Pharma Ltd.
Anolol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Euro Pharma Ltd.
Apcard 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
APC Pharma Limited
Apres 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
United Chemicals & Pharmaceuticals Ltd.
Apres 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
United Chemicals & Pharmaceuticals Ltd.
Atebit 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Asiatic Laboratories Ltd.
Atebit 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Asiatic Laboratories Ltd.
Atecard 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Marksman Pharmaceutical Ltd.
Atenol 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Pharmadesh Laboratories Ltd.
Atenol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Pharmadesh Laboratories Ltd.
Atenolol 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Supreme Pharmaceuticals Ltd.
Atenolol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Supreme Pharmaceuticals Ltd.
Atenolol 100 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Amico Laboratories Ltd.
Atenolol-50 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Premier Pharmaceuticals Ltd.
Atezen 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Zenith Pharmaceuticals Ltd.
Atezen 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Zenith Pharmaceuticals Ltd.
Atin 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Jayson Pharmaceuticals Ltd.
Atol 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Mystic Pharmaceuticals Ltd.
Atol 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Mystic Pharmaceuticals Ltd.
B Card 100 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Nipa Pharmaceuticals Ltd.
B Card 50 mg Tablet
অ্যাটেনোলল
Nipa Pharmaceuticals Ltd.
অ্যাটেনোলল কী?
অ্যাটেনোলল বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Beta-Blocker (Cardioselective) ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।
অ্যাটেনোলল কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
- উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) — এককভাবে বা অন্য ওষুধের সাথে
- অ্যানজাইনা — পরিশ্রমজনিত বুকে ব্যথা প্রতিরোধে
- হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (অ্যারিদমিয়া) — দ্রুত বা অনিয়মিত স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে
- হার্ট অ্যাটাকের পরে — পরবর্তী ঝুঁকি কমাতে
- কখনো কখনো মাইগ্রেন প্রতিরোধে (চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে)
সেবনবিধি ও মাত্রা
আপনার রোগ, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ দেখে চিকিৎসক অ্যাটেনোলল-এর মাত্রা ঠিক করবেন এবং প্রয়োজনে ধীরে ধীরে সমন্বয় করবেন।
- প্রতিদিন একবার (বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী) একই সময়ে খান; খাবারের সাথে বা খালি পেটে চলে।
- নিয়মিত নাড়ি (পালস) দেখুন — মিনিটে প্রায় ৫০–৫৫ বারের নিচে নামলে বা খুব মাথা ঘোরালে পরের ডোজের আগে চিকিৎসককে জানান।
- ডোজ মিস হলে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজ কাছে হলে বাদ দিন; কখনো ডাবল ডোজ নয়।
অ্যাটেনোলল কখনো হঠাৎ বা নিজে থেকে বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধ করলে রক্তচাপ লাফিয়ে বাড়তে পারে, তীব্র বুকে ব্যথা এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। বন্ধ করতে হলে চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অ্যাটেনোললের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- নাড়ির গতি কমে যাওয়া (ব্র্যাডিকার্ডিয়া), ক্লান্তি, দুর্বলতা
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা
- মাথা ঘোরা, বিশেষত দাঁড়ালে
- ঘুমের সমস্যা, অদ্ভুত স্বপ্ন, মন খারাপ ভাব
- পেটের অস্বস্তি, বমিভাব
- হাঁপানি/সিওপিডি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
- কিছু পুরুষে যৌন দুর্বলতা
- নাড়ি খুব ধীর হলে, অজ্ঞান হলে, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা পায়ের গোড়ালি ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসক দেখান
সতর্কতা
- নিয়মিত নাড়ি ও রক্তচাপ মাপুন; রেকর্ড রাখুন এবং চিকিৎসককে দেখান।
- হাঁপানি, সিওপিডি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি রোগ বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ডায়াবেটিস রোগীরা সাবধান: অ্যাটেনোলল রক্তে সুগার কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ (বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা) ঢেকে দিতে পারে — সুগার নিয়মিত মাপুন।
- ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা হতে পারে — গাড়ি চালানোর আগে নিজের অবস্থা বুঝে নিন।
- যেকোনো অপারেশন বা অজ্ঞান করার আগে চিকিৎসক/ডেন্টিস্টকে জানান।
- কিডনি রোগে মাত্রা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভেরাপামিল, ডিলটিয়াজেম (ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার): হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে ধীর হতে পারে — একসাথে দিলে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ: চাপ ও নাড়ি বেশি কমে যেতে পারে
- ডিগক্সিন, অ্যামিওডারন: হৃদস্পন্দন আরও ধীর হতে পারে
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ: সুগার কমার লক্ষণ ঢাকা পড়তে পারে
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক): রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমাতে পারে
- ক্লোনিডিন: যেকোনোটি বন্ধ করার সময় বিশেষ সতর্কতা দরকার
- সালবিউটামল ও হাঁপানির ইনহেলার: বিটা-ব্লকার এদের কার্যকারিতা কমাতে পারে
প্রতিনির্দেশনা
- অ্যাটেনোলল বা অন্য বিটা-ব্লকারে অ্যালার্জি
- খুব ধীর হৃদস্পন্দন বা পেসমেকার ছাড়া নির্দিষ্ট হার্ট ব্লক (সেকেন্ড/থার্ড ডিগ্রি)
- কার্ডিওজেনিক শক বা অনিয়ন্ত্রিত মারাত্মক হার্ট ফেইলিউর
- হাত-পায়ের রক্ত চলাচলের মারাত্মক সমস্যা
- চিকিৎসা-না-হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা
- মারাত্মক হাঁপানি বা তীব্র শ্বাসনালি সংকোচনের ইতিহাস (চিকিৎসক অপরিহার্য মনে করলে ভিন্ন কথা)
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় অ্যাটেনোলল সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, বিশেষত শুরুর দিকে, কারণ এতে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসক সাধারণত ল্যাবেটালল বা মিথাইলডোপার মতো নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেবেন।
স্তন্যদান: অ্যাটেনোলল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং শিশুর হৃদস্পন্দন ধীর করতে পারে। দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ট্যাবলেট মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
অ্যাটেনোলল নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভালো বোধ করলে কি অ্যাটেনোলল বন্ধ করে দিতে পারি?
না — অ্যাটেনোলল-এর ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। ভালো বোধ করছেন মানে ওষুধটি আপনার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখছে। বিটা-ব্লকার হঠাৎ বন্ধ করলে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে: বুক ধড়ফড়, রক্তচাপ লাফিয়ে বাড়া, তীব্র বুকে ব্যথা এমনকি হার্ট অ্যাটাক। বন্ধ করার দরকার হলে চিকিৎসক কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। নিজে থেকে কখনো বন্ধ বা বাদ দেবেন না।
অ্যাটেনোলল খাওয়ার সময় নাড়ি দেখব কেন?
অ্যাটেনোলল ইচ্ছাকৃতভাবে হৃদস্পন্দন ধীর করে কাজ করে, তাই নাড়ি কিছুটা কম থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু নাড়ি খুব বেশি কমে গেলে — মিনিটে প্রায় ৫০–৫৫ বারের নিচে — বা অজ্ঞান-অজ্ঞান ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে মাত্রাটি আপনার জন্য বেশি হতে পারে। বিশ্রামে বসে কবজিতে পুরো এক মিনিট নাড়ি গুনুন, সহজ একটি রেকর্ড রাখুন এবং চিকিৎসককে দেখান, যাতে তিনি নিরাপদে মাত্রা ঠিক করতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগী কি নিরাপদে অ্যাটেনোলল খেতে পারেন?
হ্যাঁ, অনেক ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অ্যাটেনোলল খান, তবে একটি সতর্কতা জরুরি: বিটা-ব্লকার রক্তে সুগার কমে যাওয়ার আগাম লক্ষণগুলো — যেমন বুক ধড়ফড় ও হাত কাঁপা — ঢেকে দিতে পারে। তবে ঘাম সাধারণত তখনও হয়। ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া ট্যাবলেট খেলে সুগার আরও নিয়মিত মাপুন, ঘামকে সতর্ক সংকেত হিসেবে চিনে রাখুন এবং অকারণ ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি হলে চিকিৎসককে জানান।
এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।