ChamberBD Logo ChamberBD

জেনেরিক

আলপ্রাজোলাম

বাংলাদেশে আলপ্রাজোলাম জেনেরিকের ব্র্যান্ড ওষুধসমূহ — দাম, শক্তি ও প্রস্তুতকারক তুলনা করুন।

45টি ওষুধের মধ্যে 1–24 দেখানো হচ্ছে

Alaxen .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

United Chemicals & Pharmaceuticals Ltd.

৳1.00 প্রতি ইউনিট

Alpam .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Asiatic Laboratories Ltd.

৳1.00 প্রতি ইউনিট

Alpam .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Asiatic Laboratories Ltd.

৳2.00 প্রতি ইউনিট

Alpoz .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sharif Pharmaceuticals Ltd.

Alprax .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Opsonin Pharma Limited

৳1.50 প্রতি ইউনিট

Alprax .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Opsonin Pharma Limited

৳3.00 প্রতি ইউনিট

Alprazol 0.25 .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Albion Laboratories Ltd.

Alprazole 0.5 .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Albion Laboratories Ltd.

Alproz 0.25 .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sharif Pharmaceuticals Ltd.

Alzolam .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.

৳1.50 প্রতি ইউনিট

Alzolam .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.

৳3.00 প্রতি ইউনিট

Alzolam 0.25 .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sun Pharmaceuticals (EZ) Ltd., Narayanganj

৳1.50 প্রতি ইউনিট

Alzolam 0.50 .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sun Pharmaceuticals (EZ) Ltd., Narayanganj

Alzolam SR 1 mg Xr Tablet

আলপ্রাজোলাম

Sun Pharmaceutical (Bangladesh) Ltd.

৳4.02 প্রতি ইউনিট

Anax .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Ziska Pharmaceuticals Ltd.

Anax .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Ziska Pharmaceuticals Ltd.

Anex .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.

Anex .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Unimed Unihealth Pharmaceuticals Ltd.

Antonil .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Healthcare Pharmaceuticals Ltd.

Antonil .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Healthcare Pharmaceuticals Ltd.

Aprolam 0.25 .25 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Pacific Pharmaceuticals Ltd.

Aprolam 0.5 .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Pacific Pharmaceuticals Ltd.

Aprolam XR 1 1 mg Xr Tablet

আলপ্রাজোলাম

Pacific Pharmaceuticals Ltd.

Benax .5 mg Tablet

আলপ্রাজোলাম

Benham Pharmaceuticals Ltd.

আলপ্রাজোলাম কী?

আলপ্রাজোলাম বাংলাদেশে বহু ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় এমন একটি Benzodiazepine Anxiolytic ওষুধ। নিচে এর ব্যবহার, সেবনমাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা এবং সব ব্র্যান্ডের বর্তমান দাম দেওয়া হলো।

আলপ্রাজোলাম কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

চিকিৎসকেরা কেবল স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য আলপ্রাজোলাম দেন:

  • তীব্র দুশ্চিন্তায় — যখন তা স্বাভাবিক জীবন অচল করে দেয় এবং দ্রুত, সাময়িক উপশম দরকার
  • প্যানিক ডিসঅর্ডারে — হঠাৎ বুক ধড়ফড়, ঘাম, শ্বাসকষ্টসহ তীব্র ভয়ের আক্রমণ — সাধারণত এসএসআরআই-জাতীয় দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত
  • দুশ্চিন্তাজনিত ঘুমের সমস্যায় — অল্প সময়ের জন্য, শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে

আলপ্রাজোলাম নিয়মিত খাওয়ার ঘুমের ওষুধ নয়, দুশ্চিন্তার স্থায়ী সমাধানও নয়। নিজে নিজে এটি খাওয়া বিপজ্জনক। স্থায়ী সুস্থতার পথ হলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তায় মূল রোগের চিকিৎসা।

সেবনবিধি ও মাত্রা

আলপ্রাজোলাম সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাওয়া নিষেধ; সম্ভব হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে খাওয়া উচিত। নিচের তথ্য কেবল ধারণার জন্য — মাত্রা ও মেয়াদ চিকিৎসকই ঠিক করবেন:

  • দুশ্চিন্তা (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ০.২৫–০.৫ মি.গ্রা. করে দিনে দুই-তিনবার; চিকিৎসক প্রয়োজনমতো ঠিক করবেন।
  • প্যানিক ডিসঅর্ডার: নিবিড় ফলো-আপে চিকিৎসক ধাপে ধাপে বেশি মাত্রা ব্যবহার করতে পারেন।
  • বয়স্ক: ঝিমুনি ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কারণে কম মাত্রা।
  • মেয়াদ: যত কম সম্ভব — মাত্রা কমানোর সময়সহ সাধারণত ২–৪ সপ্তাহের বেশি নয়।

নিয়মিত খাওয়ার পর আলপ্রাজোলাম কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না। হঠাৎ ছাড়লে তীব্র দুশ্চিন্তা ফিরে আসা, হাত কাঁপা, অনিদ্রা, এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আলপ্রাজোলাম-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • ঝিমুনি ও দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব
  • মাথা ঘোরা, হালকা লাগা, হাঁটায় টলমল ভাব — বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
  • স্মৃতি ও মনোযোগ কমে যাওয়া
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া, পেশি দুর্বলতা
  • মন খারাপ ভাব; কখনো উল্টো অস্থিরতা বা খিটখিটে মেজাজ

সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি আসক্তি ও উইথড্রয়াল: ওষুধের প্রতি টান, ক্রমে বেশি মাত্রার প্রয়োজন, আর হঠাৎ ছাড়লে তীব্র দুশ্চিন্তা, কাঁপুনি বা খিঁচুনি। অতিরিক্ত মাত্রা — বিশেষত মদ বা ওপিওয়েডের সঙ্গে — শ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে। অতিরিক্ত ঝিমুনি, বিভ্রান্তি, ধীর বা অগভীর শ্বাস, কিংবা প্রেসক্রিপশনের বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

সতর্কতা

আলপ্রাজোলাম নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • আসক্তির সতর্কবার্তা — মন দিয়ে পড়ুন: বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ওষুধের মধ্যে আলপ্রাজোলামই সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত হয়। নিয়মিত খেলে কয়েক সপ্তাহেই নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। কেবল বৈধ প্রেসক্রিপশনে, নির্ধারিত মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খান; চিকিৎসককে না দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে কিনে খাবেন না।
  • হঠাৎ বন্ধ করবেন না — উইথড্রয়ালে খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে কমান।
  • মদ একেবারে নিষেধ; চিকিৎসকের অজান্তে ওপিওয়েড বা অন্য ঘুমের ওষুধের সঙ্গে মেশাবেন না — এসব সংমিশ্রণ প্রাণঘাতী হতে পারে।
  • আলপ্রাজোলাম চলাকালীন গাড়ি চালাবেন না
  • শ্বাসকষ্ট, লিভার-কিডনির রোগ, বিষণ্নতা বা মদ-মাদকের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • ওষুধ তালাবদ্ধ জায়গায় রাখুন — কাউকে দেবেন না।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

যা যা খান সব চিকিৎসককে জানান। আলপ্রাজোলাম-এর বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‍্যাকশন:

  • মদ — শ্বাস-প্রশ্বাস প্রাণঘাতীভাবে দমিয়ে দিতে পারে; সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • ওপিওয়েড (ট্রামাডল, কোডেইন, মরফিন) — মিলিত অবসাদ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
  • অন্যান্য ঘুম-আনা ওষুধ — ঘুমের বড়ি, ঘুম-আনা অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট।
  • কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক — রক্তে আলপ্রাজোলাম-এর মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়; একসঙ্গে ব্যবহার পরিহার্য।
  • এরিথ্রোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, কিছু এইচআইভি ওষুধ ও জাম্বুরার রস — মাত্রা ও প্রভাব বাড়ায়।
  • কার্বামাজেপিন, রিফাম্পিসিন — কার্যকারিতা কমায়।

প্রতিনির্দেশনা

নিচের ক্ষেত্রে আলপ্রাজোলাম ব্যবহার করা যাবে না:

  • আলপ্রাজোলাম বা অন্য বেনজোডায়াজেপিনে অ্যালার্জি
  • গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের অকার্যকারিতা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া
  • মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস
  • গুরুতর লিভার ফেইলিউর
  • কিটোকোনাজল বা ইট্রাকোনাজলের সঙ্গে একত্রে
  • চলমান, চিকিৎসাহীন মদ বা মাদকাসক্তি — তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা কর্মসূচির বাইরে

শিশু-কিশোরদের জন্য এটি নয়, এবং কোনো বয়সেই যখন-তখন ঘুমের টোটকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: একান্ত অপরিহার্য না হলে গর্ভাবস্থায় আলপ্রাজোলাম এড়িয়ে চলুন। গর্ভের শেষ দিকে বেনজোডায়াজেপিন খেলে নবজাতক নিস্তেজ, ঘুমঘুম ও দুধ টানতে দুর্বল হতে পারে; মা নিয়মিত খেলে শিশুর উইথড্রয়াল উপসর্গও দেখা দিতে পারে। ওষুধ চলাকালীন গর্ভধারণ হলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না — নিরাপদে কমানোর জন্য দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

স্তন্যদান: আলপ্রাজোলাম মায়ের দুধে যায় এবং শিশুকে ঝিমিয়ে দিতে পারে। চিকিৎসা চলাকালীন স্তন্যদান সাধারণত নিরুৎসাহিত; নিরাপদ বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

আলপ্রাজোলাম ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। আলপ্রাজোলাম ব্যাপকভাবে অপব্যবহৃত হয় বলে এটি তালাবদ্ধ জায়গায়, শিশু এবং যাঁর জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়নি এমন সবার নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না। বাড়তি ট্যাবলেট ফার্মেসিতে ফেরত দিন — ঘরে জমিয়ে রাখবেন না, আত্মীয়-বন্ধুকেও দেবেন না।

আলপ্রাজোলাম নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

আলপ্রাজোলাম কি নেশার ওষুধ? কত দ্রুত আসক্তি হয়?

হ্যাঁ — আলপ্রাজোলাম প্রবলভাবে অভ্যাস-গঠনকারী, আর এটিই এর সবচেয়ে বড় বিপদ। প্রতিদিন খেলে মাত্র ২–৪ সপ্তাহেই সহনশীলতা ও নির্ভরশীলতা শুরু হতে পারে: স্বাভাবিক মাত্রায় কাজ কম মনে হয়, ডোজের ফাঁকে দুশ্চিন্তা বেড়ে ফিরে আসে, আর ছাড়তে গেলে কাঁপুনি, আতঙ্ক ও অনিদ্রা হয়। এ কারণেই এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, স্বল্পমেয়াদি ওষুধ। দীর্ঘদিন নিয়মিত খেয়ে থাকলে — প্রেসক্রিপশন ছাড়া খেলেও — হঠাৎ বন্ধ করবেন না; নিরাপদে ধীরে ধীরে কমানোর জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। বেনজোডায়াজেপিন-নির্ভরতার জন্য সাহায্য চাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার, লজ্জার কিছু নয়।

ঘুমের জন্য কি প্রতি রাতে আলপ্রাজোলাম খাওয়া যাবে?

না। ঘুমের জন্য প্রতি রাতে আলপ্রাজোলাম খাওয়াই বাংলাদেশে বেনজোডায়াজেপিন-আসক্তির সবচেয়ে সাধারণ পথ। কয়েক সপ্তাহেই ঘুমের উপকার কমে যায়, মাত্রা বাড়তে থাকে, আর ট্যাবলেট ছাড়া ঘুমই আসে না। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে কারণ খুঁজে চিকিৎসা করান — দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, ঘুমের অভ্যাস বা অন্য কোনো শারীরিক রোগ থাকতে পারে। ঘুমের অভ্যাস সংশোধনসহ নিরাপদ ও কার্যকর, নেশাহীন বিকল্প চিকিৎসা আছে।

হঠাৎ আলপ্রাজোলাম বন্ধ করে দিলে কী হয়?

নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ আলপ্রাজোলাম বন্ধ করলে উইথড্রয়াল দেখা দিতে পারে: আগের চেয়েও তীব্র দুশ্চিন্তা ও প্যানিক, কাঁপুনি, ঘাম, বুক ধড়ফড়, অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজ — আর দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি পর্যন্ত, যা বিপজ্জনক। যত বেশি দিন ও বেশি মাত্রায় খাওয়া হয়েছে, হঠাৎ ছাড়ার ঝুঁকি তত বেশি। নিরাপদ উপায় হলো চিকিৎসকের পরিকল্পনায় ধীরে, ধাপে ধাপে কমানো; প্রয়োজনে আগে দীর্ঘমেয়াদি-কার্যকর কোনো ওষুধে বদলে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন খাওয়ার পর কখনো একা একা বেনজোডায়াজেপিন ছাড়ার চেষ্টা করবেন না।

এটি সাধারণ ওষুধ-তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয় — সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলুন।