Capsule
Fozifol 150 mg + 500 mcg + 22.5 mg Capsule
জেনেরিক: ফেরাস সালফেট + ফলিক অ্যাসিড + জিংক
প্রস্তুতকারক: Euro Pharma Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Iron, folic acid and zinc supplement (anti-anaemic combination)
Fozifol কী?
ফোজিফল হলো ক্যাপসুল আকারে উপস্থাপিত ফেরাস সালফেট ১৫০ মিগ্রা, ফলিক অ্যাসিড ৫০০ মাইক্রোগ্রাম ও জিঙ্ক ২২.৫ মিগ্রার একটি সংমিশ্রণ। রক্তস্বল্পতা-বিরোধী সাপ্লিমেন্ট হিসেবে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
Fozifol 150 mg + 500 mcg + 22.5 mg capsule হলো Euro Pharma Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Ferrous Sulphate + Folic Acid + Zinc — এমন তিনটি পুষ্টি উপাদান, যেগুলোর ঘাটতি বাংলাদেশে খুবই প্রচলিত, বিশেষত গর্ভবতী নারী, কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে। পুষ্টিজনিত রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এবং সুস্থ গর্ভাবস্থার সহায়তায় এটি বহুল ব্যবহৃত; আয়রন-ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট বাংলাদেশের জাতীয় মাতৃপুষ্টি কর্মসূচিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিটি উপাদানের কাজ আলাদা। আয়রন হিমোগ্লোবিনের মূল উপাদান, যা রক্তে অক্সিজেন বহন করে — এর ঘাটতি পূরণে রক্তশূন্যতা সারে। ফলিক অ্যাসিড একটি বি-ভিটামিন, যা নতুন কোষ ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এবং গর্ভের শুরুতে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড গঠনে অপরিহার্য। জিংক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, বৃদ্ধি, ক্ষুধা ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তিনটি মিলে Fozifol সুস্থ রক্ত পুনর্গঠনে এবং মা ও শিশুর সুরক্ষায় কাজ করে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Fozifol যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- গর্ভাবস্থার রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় — এবং গর্ভের শিশুর জন্য বাড়তি আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও জিংকের চাহিদা পূরণে
- কিশোরী, অতিরিক্ত মাসিকের সমস্যায় ভোগা নারী ও অপুষ্টিতে আক্রান্তদের আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তশূন্যতায়
- ফলিক অ্যাসিডের জোগান — পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভধারণের আগে বা শুরুতে নিলে শিশুর নিউরাল টিউব ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়ক
- জিংকের ঘাটতিতে — ক্ষুধামন্দা, ঘন ঘন সংক্রমণ, ক্ষত শুকাতে দেরি
- সন্তান জন্ম বা রক্তক্ষরণের পর পুনরুদ্ধারে, চিকিৎসকের পরামর্শমতো
সেবনবিধি ও মাত্রা
গর্ভবতী নারীসহ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: Fozifol-এর স্বাভাবিক মাত্রা দিনে একটি ট্যাবলেট/ক্যাপসুল, বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো; রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসক মাত্রা বাড়াতে পারেন। গর্ভাবস্থায় সাধারণত পুরো গর্ভকাল এবং প্রসবের পর কয়েক মাস পর্যন্ত এটি চালিয়ে যাওয়া হয় — প্রসবপূর্ব সেবার পরামর্শ অনুযায়ী।
- ভালো শোষণের জন্য খালি পেটে খান; পেটে অস্বস্তি হলে হালকা খাবারের পরে — অনেকের জন্য রাতে শোবার আগে খাওয়াই সুবিধাজনক।
- চা, কফি, দুধ, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টাসিড থেকে ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন; ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
- শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে: কেবল চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রায়।
- বাড়তি ডোজ বা একসঙ্গে একাধিক আয়রনজাতীয় ওষুধ খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Fozifol সাধারণত ভালো সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- কালো পায়খানা — আয়রনের কারণে স্বাভাবিক ও নিরীহ
- বমিভাব, হালকা পেট খারাপ বা বুক জ্বালা
- কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনো পাতলা পায়খানা
- মুখে ধাতব স্বাদ; খালি পেটে জিংকে কখনো বমিভাব হতে পারে
- বিরল ক্ষেত্রে র্যাশের মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
খাবারের পরে খেলে, প্রচুর পানি পান ও আঁশযুক্ত খাবারে পেটের সমস্যা সাধারণত কমে যায়। একটানা বমি, তীব্র পেটব্যথা বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- শিশুদের থেকে কঠোরভাবে দূরে রাখুন — ভুল করে আয়রন খেয়ে ফেলা ছোট শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক; খেয়ে ফেললে জরুরি অবস্থা হিসেবে হাসপাতালে নিন।
- ঘাটতি নিশ্চিত না করে দীর্ঘদিন খাওয়া ঠিক নয়; অন্য কারণের রক্তশূন্যতায় (থ্যালাসেমিয়া, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বি১২ ঘাটতি) ভিন্ন চিকিৎসা দরকার।
- ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি আড়াল করতে পারে — হাত-পা অবশ, ঝিনঝিন বা ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- আলসার, অন্ত্রের রোগ, থ্যালাসেমিয়া, বারবার রক্ত গ্রহণ বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- চা, কফি, দুধ, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টাসিড থেকে ২ ঘণ্টার ব্যবধান বজায় রাখুন।
- গর্ভাবস্থায় নিয়মিত প্রসবপূর্ব চেকআপে যান, যাতে হিমোগ্লোবিন নজরে রাখা যায়।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Ferrous Sulphate + Folic Acid + Zinc-এর উল্লেখযোগ্য মিথস্ক্রিয়া:
- চা, কফি, দুধ, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টাসিড — আয়রন ও জিংকের শোষণ অনেক কমায়; ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
- টেট্রাসাইক্লিন ও কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন) — আয়রন ও জিংক উভয়েই এদের শোষণ আটকে দেয়; ২–৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
- লিভোথাইরক্সিন — শোষণ কমে; অন্তত ৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
- পেনিসিলামিন — আয়রন ও জিংকে শোষণ কমে।
- মৃগীর ওষুধ (ফেনিটয়েন) — ফলিক অ্যাসিড এদের মাত্রা বদলাতে পারে; চিকিৎসককে জানান।
- অন্য মাল্টিভিটামিন/মিনারেল — অপরিকল্পিতভাবে আয়রন বা জিংক দ্বিগুণ করবেন না।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, জিংক বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
- শরীরে আয়রন জমার রোগ — হিমোক্রোমাটোসিস, হিমোসাইডেরোসিস
- আয়রন বা ফোলেটের ঘাটতি ছাড়া অন্য কারণের রক্তশূন্যতায় — চিকিৎসক প্রয়োজন নিশ্চিত না করলে নয়
- চিকিৎসাবিহীন ভিটামিন বি১২ ঘাটতি (পার্নিশাস অ্যানিমিয়া) — শুধু ফলিক অ্যাসিড তা আড়াল করতে পারে; আগে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার
- বারবার রক্ত গ্রহণকারী রোগী — বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আবশ্যক
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
Fozifol মূলত গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্যই: আয়রন মায়ের রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করে, ফলিক অ্যাসিড শিশুকে নিউরাল টিউব ত্রুটি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, আর জিংক বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধে সহায়তা করে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পরে আয়রন-ফলিক অ্যাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মাত্রায় স্তন্যদানকালেও এটি নিরাপদ বলে বিবেচিত। নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবার অংশ হিসেবে, চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শমতো মাত্রায় খান এবং অন্য ওষুধ থেকে বাড়তি আয়রন নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
সংরক্ষণ
Fozifol ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। পাত্রটি ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন — শিশু আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে তা বিপজ্জনক। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গর্ভাবস্থায় Fozifol নিয়মিত দেওয়া হয় কেন?
গর্ভাবস্থায় আয়রনের (মা ও শিশুর জন্য বাড়তি রক্ত তৈরিতে), ফলিক অ্যাসিডের (শিশুর মস্তিষ্ক-মেরুদণ্ড গঠন ও নিউরাল টিউব ত্রুটি প্রতিরোধে) এবং জিংকের (বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধে) চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশে এসব ঘাটতি খুব প্রচলিত, তাই জাতীয় মাতৃপুষ্টি কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রসবপূর্ব সেবায় প্রতিদিন আয়রন-ফলিক অ্যাসিড খাওয়ানো হয়। Fozifol এই তিনটি পুষ্টি একটি ট্যাবলেটেই সহজে জোগায়।
Fozifol কখন খাওয়া সবচেয়ে ভালো, আর কী কী এড়িয়ে চলব?
খালি পেটে আয়রন সবচেয়ে ভালো শোষিত হয়, তবে বমিভাব হলে — গর্ভাবস্থায় যা সাধারণ — Fozifol হালকা খাবারের পরে বা রাতে শোবার আগে খান। চা, কফি, দুধ, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ও অ্যান্টাসিড থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা দূরত্ব রাখুন — এগুলো শোষণ আটকে দেয়। সঙ্গে লেবু, পেয়ারা বা আমলকীর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে বরং আয়রন শোষণ বাড়ে।
Fozifol খেয়ে পায়খানা কালো হচ্ছে ও কোষ্ঠকাঠিন্য লাগছে — ওষুধ বন্ধ করব কি?
না — কালো পায়খানা আয়রনের স্বাভাবিক ও নিরীহ প্রভাব, আর শুরুতে হালকা কোষ্ঠকাঠিন্য বা বমিভাব সাধারণ ব্যাপার। বেশি পানি পান করুন, আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফল, লাল চাল-আটা) খান এবং ট্যাবলেটটি খাবারের পরে নিন; কয়েক দিনেই সমস্যা সাধারণত কমে যায়। নিজে থেকে বন্ধ করবেন না — গর্ভাবস্থার রক্তশূন্যতা মা ও শিশুর দুজনেরই ক্ষতি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য তীব্র হলে বা পেটব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: