Tablet
Florazol 400 mg Tablet
জেনেরিক: মেট্রোনিডাজল
প্রস্তুতকারক: NIPRO JMI Pharma Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antiprotozoal & Antibacterial (Nitroimidazole)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Tablet | ৳ 1.15 |
| Strip of 10 | ৳ 11.50 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Florazol কী?
Florazol হলো মেট্রোনিডাজল ৪০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটের ব্র্যান্ড নাম। নাইট্রোইমিডাজল ওষুধ হিসেবে মেট্রোনিডাজল অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং অ্যামিবিয়াসিস, জিয়ার্ডিয়াসিস ও ট্রাইকোমোনিয়াসিসের মতো সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।
Florazol 400 mg tablet হলো NIPRO JMI Pharma Limited এর একটি ওষুধ, যাতে অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান Metronidazole রয়েছে। বাংলাদেশে আমাশয় (অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি), জিয়ার্ডিয়া সংক্রমণ এবং অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ — যেমন দাঁত, পেট ও স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সংক্রমণে চিকিৎসকেরা Florazol প্রায়ই প্রেসক্রাইব করেন।
Metronidazole পরজীবী ও অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়ার কোষে ঢুকে তাদের ডিএনএ নষ্ট করে দেয়, ফলে জীবাণু বংশবিস্তার করতে পারে না এবং মারা যায়। অ্যামিবা, জিয়ার্ডিয়া, ট্রাইকোমোনাস ও অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি বিশেষভাবে কার্যকর, এবং মিশ্র সংক্রমণে অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে একত্রে ব্যবহার করা হয়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- আমাশয় (অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি) ও লিভারে অ্যামিবিক ফোড়া
- জিয়ার্ডিয়াসিস (অন্ত্রের জিয়ার্ডিয়া সংক্রমণ)
- ট্রাইকোমোনিয়াসিস ও ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস
- অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (দাঁত, পেট, পেলভিক)
- হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নির্মূল (কম্বিনেশন চিকিৎসার অংশ হিসেবে)
- কিছু অপারেশনের পর সংক্রমণ প্রতিরোধ
সেবনবিধি ও মাত্রা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Florazol সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণভেদে সাধারণত দিনে ২–৩ বার ৪০০–৮০০ মি.গ্রা. করে ৫–১০ দিন দেওয়া হয়। খাবারের সাথে বা পরে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়। শিশুদের ডোজ ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
Florazol একটি অ্যান্টিবায়োটিক — ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কখনো খাবেন না। কোর্স অসম্পূর্ণ রাখলে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মেট্রোনিডাজলের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমিভাব, মুখে ধাতব বা তেতো স্বাদ, ক্ষুধামন্দা, পেটের অস্বস্তি ও মাথাব্যথা। প্রস্রাবের রং সামান্য গাঢ় হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়। কখনো কখনো মাথা ঘোরা বা মুখে ঘা হতে পারে। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে বিরল ক্ষেত্রে হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাব হতে পারে — এমন হলে ওষুধ বন্ধ করে চিকিৎসককে জানান। র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
সতর্কতা
মেট্রোনিডাজল চলাকালীন এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন — একসাথে নিলে মুখ লাল হওয়া, বমি, বুক ধড়ফড় ও তীব্র মাথাব্যথাসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়। লিভারের রোগ, রক্তের সমস্যা, খিঁচুনি বা স্নায়ুর সমস্যার ইতিহাস থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। ১০ দিনের বেশি চিকিৎসা চললে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেন। আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান এবং এই অ্যান্টিবায়োটিক অন্য কারো সাথে ভাগ করবেন না।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মেট্রোনিডাজল অ্যালকোহলের সাথে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া করে (সম্পূর্ণ নিষেধ), ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলাকারী ওষুধের সাথে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, লিথিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এবং ফেনিটয়েন ও ফেনোবারবিটালের সাথে পারস্পরিক প্রভাব ফেলে। ডিসালফিরামের সাথে নিলে মানসিক বিভ্রান্তি হতে পারে। মেট্রোনিডাজল শুরুর আগে আপনার সেবন করা সব ওষুধ, ভেষজ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
মেট্রোনিডাজল বা অন্য নাইট্রোইমিডাজল জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। সাম্প্রতিক অ্যালকোহল সেবন বা গত দুই সপ্তাহে ডিসালফিরাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ। গুরুতর লিভারের রোগ ও সক্রিয় স্নায়ুরোগে চিকিৎসকের বিবেচনা ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: প্রথম তিন মাসে এড়িয়ে চলুন। পরবর্তী সময়ে কেবল চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করা যায়। স্তন্যদান: ওষুধটি বুকের দুধে যায় এবং দুধের স্বাদ তেতো করতে পারে। একক বড় ডোজের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত ১২–২৪ ঘণ্টা স্তন্যদান বন্ধ রাখতে বলেন। গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন। ওষুধ মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না। সাসপেনশন ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Florazol খাওয়ার সময় কি অ্যালকোহল পান করা যাবে?
ডায়রিয়া বা ব্যথা কমে গেলে কি Florazol বন্ধ করা যাবে?
Florazol খাওয়ার পর মুখে ধাতব স্বাদ লাগে কেন?
সর্বশেষ হালনাগাদ: