ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Powder For Suspension

Epozil 250 mg/5 ml Powder For Suspension

জেনেরিক: সেফপ্রোজিল

প্রস্তুতকারক: Globe Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Second-Generation Cephalosporin Antibiotic

Epozil কী?

Epozil 250 mg/5 ml powder for suspension হল Globe Pharmaceuticals Ltd.-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক, যার জেনেরিক Cefprozil। বাংলাদেশে বড়দের ও শিশুদের কান, সাইনাস, গলা, বুক ও ত্বকের সংক্রমণে চিকিৎসকরা এটি লিখে থাকেন। এটি সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়, আর সুস্বাদু সাসপেনশনের কারণে শিশুদের কান ও গলার সংক্রমণে বেশ জনপ্রিয়। Epozil শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনে পাওয়া যায়।

Cefprozil ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরির এনজাইম আটকে দেয়; প্রাচীরে দুর্বল জায়গা তৈরি হয়ে কোষ ফেটে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন হিসেবে এটি প্রথম প্রজন্মের চেয়ে বেশি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ায় কাজ করে, পাশাপাশি স্ট্রেপটোকক্কাসের মতো গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুর বিরুদ্ধেও শক্তিশালী থাকে।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

সেফপ্রোজিল-সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে Epozil ব্যবহৃত হয়:

  • গলার সংক্রমণ: স্ট্রেপটোকক্কাল ফ্যারিনজাইটিস ও টনসিলাইটিস
  • মধ্যকর্ণের তীব্র সংক্রমণ (ওটাইটিস মিডিয়া), বিশেষত শিশুদের
  • তীব্র সাইনোসাইটিস
  • ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের ব্যাকটেরিয়াজনিত অবনতি ও তীব্র ব্রঙ্কাইটিসের সেকেন্ডারি সংক্রমণ
  • জটিলতাহীন ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ: ইমপেটিগো, ক্ষতের সংক্রমণ, সেলুলাইটিস

আপনার সংক্রমণে Epozil উপযুক্ত কি না চিকিৎসকই বিচার করবেন। সর্দি, ফ্লু, ডেঙ্গু বা অধিকাংশ গলাব্যথার মতো ভাইরাসজনিত অসুখে এটি কখনোই ব্যবহার করবেন না।

সেবনবিধি ও মাত্রা

চিকিৎসকের নির্দেশমতোই Epozil খান। Cefprozil-এর সাধারণ মাত্রা:

  • প্রাপ্তবয়স্ক—গলা ও সাইনাসের সংক্রমণ: ২৫০–৫০০ মি.গ্রা. ১২ ঘণ্টা পরপর, বা ৫০০ মি.গ্রা. দিনে একবার, সাধারণত ১০ দিন
  • প্রাপ্তবয়স্ক—ব্রঙ্কাইটিস: ৫০০ মি.গ্রা. ১২ ঘণ্টা পরপর
  • প্রাপ্তবয়স্ক—ত্বকের সংক্রমণ: ২৫০–৫০০ মি.গ্রা. ১২ ঘণ্টা পরপর বা ৫০০ মি.গ্রা. দিনে একবার
  • শিশু: দৈনিক ১৫–৩০ মি.গ্রা./কেজি, দুই ভাগে—অবশ্যই চিকিৎসকের হিসাবে

খাবারের আগে-পরে যেকোনো সময় খাওয়া যায়; পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সাথে নিন। সাসপেনশন প্রতিবার ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে মাপার চামচ বা সিরিঞ্জে খাওয়ান। কিডনি রোগে মাত্রা অর্ধেক করার দরকার হতে পারে। পুরো কোর্স শেষ করুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Epozil সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি বা পেটব্যথা—সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
  • চামড়ায় ফুসকুড়ি বা চুলকানি; শিশুদের ডায়াপার র‍্যাশ
  • মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
  • দীর্ঘ ব্যবহারে মুখে বা যোনিপথে থ্রাশ
  • রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সাময়িক বেড়ে যাওয়া

মুখ-গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা গায়ে চাকা, তীব্র ফোসকাযুক্ত ফুসকুড়ি, অবিরাম পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। হালকা ডায়রিয়ায় পর্যাপ্ত তরল খান; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়ার ওষুধ নয়।

সতর্কতা

Epozil প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নয়। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া আর অর্ধেক কোর্স ছেড়ে দেওয়াই বাংলাদেশের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংকটের চালিকাশক্তি। কেবল চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে Epozil খান এবং উপসর্গ কমে গেলেও কোর্সের প্রতিটি দিন সম্পূর্ণ করুন—ছোট কোর্সে বেঁচে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া আরও শক্তিশালী ও প্রতিরোধী হয়ে ফেরে।

  • প্রথম ডোজের আগে পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জির কথা জানান
  • কিডনি রোগ থাকলে বলুন—মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে
  • আগের কোলাইটিস বা চিকিৎসা চলাকালে/পরে তীব্র ডায়রিয়া হলে জানান
  • পরিবারে ফিনাইলকিটোনিউরিয়া থাকলে সাসপেনশনের লেবেল দেখুন—কিছু ব্র্যান্ডে অ্যাসপারটেম (ফিনাইলঅ্যালানিনের উৎস) থাকে

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Cefprozil-এর বড় ধরনের ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া কম, তবু আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান। খেয়াল রাখুন:

  • প্রোবেনেসিড: কিডনি দিয়ে সেফপ্রোজিল নিষ্কাশন কমিয়ে রক্তে এর মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ করে
  • অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক ও শক্তিশালী ডাইউরেটিক: একসাথে চললে কিডনির ওপর চাপ পড়ে; নজরদারি দরকার
  • ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলাকারী ওষুধ: কার্যকারিতা কখনও বেড়ে যায়—কোর্স চলাকালে আইএনআর পরীক্ষা করানো ভালো
  • মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা: অ্যান্টিবায়োটিকে অকার্যকর হয়; ব্যবধান রাখুন

কিছু প্রস্রাবের গ্লুকোজ পরীক্ষায় সেফপ্রোজিল ভুল পজিটিভ ফল দিতে পারে—ডায়াবেটিস রোগীরা মনে রাখবেন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Epozil খাবেন না:

  • সেফপ্রোজিল বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে
  • পেনিসিলিনে আগে তীব্র ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস, গলা ফুলে যাওয়া, জ্ঞান হারানো, সারা গায়ে চাকা) হয়ে থাকলে—ক্রস-রিঅ্যাকশনের আশঙ্কা আছে
  • কোনো বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে গুরুতর চর্মপ্রতিক্রিয়া (স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম বা অনুরূপ) হয়ে থাকলে

উল্লেখযোগ্য কিডনি দুর্বলতা ও অ্যান্টিবায়োটিকজনিত কোলাইটিসের ইতিহাসে বাড়তি সতর্কতা ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার। Epozil শুরুর আগে শৈশবের প্রতিক্রিয়াসহ সব অ্যালার্জির পূর্ণ তালিকা চিকিৎসককে দিন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: প্রাণী-গবেষণায় Cefprozil-এ ভ্রূণের ক্ষতি দেখা যায়নি, যদিও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত গবেষণা সীমিত। সেফালোস্পোরিন পরিবার গর্ভাবস্থায় তুলনামূলক নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে স্বীকৃত। তবু গর্ভাবস্থায় Epozil তখনই খান, যখন গর্ভাবস্থার কথা জানা চিকিৎসক একে সত্যিই প্রয়োজনীয় মনে করেন।

স্তন্যদান: ডোজের ০.৩ শতাংশেরও কম Cefprozil বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসা চলাকালে স্তন্যদান সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়। শিশুর পাতলা পায়খানা, ফুসকুড়ি বা মুখে থ্রাশ হলে চিকিৎসককে জানান। স্তন্যদানকালে শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সংরক্ষণ

Epozil ট্যাবলেট ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। বর্ষাপ্রধান বাংলাদেশে বাথরুমের ক্যাবিনেট বা রান্নাঘরের তাকে নয়—ঠান্ডা, শুকনো আলমারিতে রাখুন। ওষুধ মূল প্যাকে ভালোভাবে বন্ধ অবস্থায়, শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।

  • পানি মেশানোর পর Cefprozil সাসপেনশন অবশ্যই ফ্রিজে (২–৮° সে., কখনও ডিপ ফ্রিজে নয়) রাখুন, প্রতিবার ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে খাওয়ান এবং ১৪ দিন পর ফেলে দিন
  • মেয়াদ পেরোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না
  • অব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ড্রেনে না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শিশুর কানের সংক্রমণে কি Epozil সাসপেনশন দেওয়া যাবে?

<p>শিশুদের মধ্যকর্ণ ও গলার সংক্রমণে সেফপ্রোজিল সাসপেনশন বহুল ব্যবহৃত, আর স্বাদ ভালো বলে শিশুরা সহজে খায়। ডোজ কড়াভাবে শিশুর ওজন অনুযায়ী হিসাব হয় (দৈনিক ১৫–৩০ মি.গ্রা./কেজি, দুই ভাগে), তাই নিজে অনুমান করবেন না বা ভাই-বোনের প্রেসক্রিপশন আবার ব্যবহার করবেন না। প্রতিবার বোতল ভালোভাবে ঝাঁকান, সিরিঞ্জ বা মাপার চামচে মেপে দিন, মেশানো বোতল ফ্রিজে রাখুন এবং Epozil-এর সব কটি নির্ধারিত দিন শিশুকে খাওয়ান।</p>

উপসর্গ চলে গেলেই কি Epozil বন্ধ করা যাবে?

<p>না। বেশির ভাগ ব্যাকটেরিয়া মরলে উপসর্গ কমে যায়, কিন্তু সব মরেনি। সবচেয়ে কঠিনগুলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে; আগে Epozil বন্ধ করলে সেগুলো আবার বেড়ে ওঠে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা অর্ধেক কোর্স থেকেই বাংলাদেশের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংকট এত বড় হয়েছে। তৃতীয় দিনে পুরো সুস্থ লাগলেও কোর্স শেষ করুন—গলা ও কানের সংক্রমণে সাধারণত ১০ দিন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।</p>

সর্দি বা ফ্লু হলে কি Epozil খেলে সেরে যাবে?

<p>না। সর্দি, ফ্লু ও অধিকাংশ গলাব্যথার কারণ ভাইরাস, আর Epozilসহ সব অ্যান্টিবায়োটিক কেবল ব্যাকটেরিয়া মারে। ভাইরাসজনিত অসুখে এটি খেলে রোগ এক দিনও আগে সারবে না; বরং অকারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়বে—যা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিপদ। চিকিৎসক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ নিশ্চিত করলেই কেবল অ্যান্টিবায়োটিক খান। সর্দিতে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও জ্বরে প্যারাসিটামলই সাধারণত যথেষ্ট।</p>

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: