Tablet
Dezert 6 mg Tablet
জেনেরিক: ডেফলাজাকর্ট
প্রস্তুতকারক: Globe Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Corticosteroid (glucocorticoid)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Tablet | ৳ 8.00 |
| Tablet | ৳ 8.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Dezert কী?
Dezert 6 mg Tablet-এ deflazacort আছে, যা একটি glucocorticoid corticosteroid ওষুধ। অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, অ্যাজমা, আর্থ্রাইটিস, ত্বকের রোগ এবং কিছু autoimmune অসুস্থতায় প্রদাহ কমাতে ও অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়।
Dezert 6 mg tablet হলো Globe Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Deflazacort — প্রেডনিসোলন থেকে উদ্ভূত একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। তীব্র হাঁপানি ও অ্যালার্জি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ অটোইমিউন রোগ, নেফ্রোটিক সিনড্রোম, ত্বক ও রক্তের কিছু রোগ এবং ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফিতে প্রদাহ ও অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু গবেষণা বলছে, সমতুল্য মাত্রায় পুরনো স্টেরয়েডের তুলনায় এটি রক্তের চিনি ও হাড়ের ওপর কিছুটা কম প্রভাব ফেলতে পারে — তবে সতর্কতাগুলো একই রকম প্রযোজ্য।
Deflazacort শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের মতো কাজ করে। এটি কোষে ঢুকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকের উৎপাদন বন্ধ করে — ফলে ফোলা, ব্যথা, লালচেভাব এবং নিজ দেহকোষের ওপর অ্যালার্জি বা ইমিউন আক্রমণ কমে। চিকিৎসা চলাকালে শরীর নিজের হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয়, তাই দীর্ঘদিন খাওয়ার পর Dezert কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না — চিকিৎসকের নির্দেশনায় মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
চিকিৎসকেরা যেসব রোগে Dezert দিয়ে থাকেন:
- তীব্র হাঁপানি ও গুরুতর অ্যালার্জিজনিত রোগ
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগ
- নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও কিডনির নির্দিষ্ট কিছু রোগ
- প্রদাহজনিত চর্মরোগ ও রক্তের কিছু রোগ (যেমন আইটিপি)
- ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি — পেশিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করতে
- বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় স্টেরয়েড প্রয়োজন এমন অন্যান্য প্রদাহ বা ইমিউন রোগ
সেবনবিধি ও মাত্রা
Dezert-এর মাত্রা সম্পূর্ণ রোগ ও রোগীর ওপর নির্ভর করে — প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত শুরুতে দিনে ৬ থেকে ৯০ মি.গ্রা., পরে ধাপে ধাপে কমিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে এমন সর্বনিম্ন মাত্রায় আনা হয়। মাত্রা নির্ধারণ ও সমন্বয় কেবল চিকিৎসকই করবেন।
- পাকস্থলী রক্ষায় ও শরীরের হরমোন-ছন্দের সঙ্গে মেলাতে সকালে খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে খান।
- প্রায় ২–৩ সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে; হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
- শিশুদের ক্ষেত্রে (ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফিসহ) ওজন অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করে বিশেষজ্ঞের কঠোর তত্ত্বাবধানে চালাতে হয়।
- সুস্থ বোধ করলেও নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত ভালো সহনীয়। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে Dezert-এ হতে পারে:
- ক্ষুধা ও ওজন বৃদ্ধি, মুখ গোল হয়ে যাওয়া
- পাকস্থলীতে জ্বালা, অম্বল বা আলসার
- রক্তে চিনি ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
- মেজাজ পরিবর্তন, খিটখিটে ভাব ও ঘুমের ব্যাঘাত
- সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি ও ক্ষত শুকাতে দেরি
- দীর্ঘমেয়াদে: হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), ছানি ও চোখের চাপ বৃদ্ধি, পেশি দুর্বলতা, ত্বক পাতলা হওয়া; শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া
Dezert চলাকালে কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, চোখের সমস্যা, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ, কিংবা মেজাজের বড় পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
- দীর্ঘদিন খাওয়ার পর Dezert কখনো হঠাৎ বন্ধ করবেন না — হঠাৎ বন্ধে অ্যাড্রিনাল সংকট (চরম দুর্বলতা, বমি, রক্তচাপ কমা) ও রোগ ফিরে আসতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশমতোই ধাপে ধাপে কমান।
- পাকস্থলীর জ্বালা কমাতে সকালে খাবারের সঙ্গে খান।
- সংক্রমণ: স্টেরয়েড সংক্রমণ আড়াল করে ও বাড়ায় — জলবসন্ত, হাম বা যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং জ্বর হলে দ্রুত জানান। আগের যক্ষ্মার ইতিহাস চিকিৎসককে বলুন।
- ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ: ঘন ঘন মাপুন; ওষুধের মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
- হাড় ও চোখ: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, হাড়ের ঘনত্ব ও চোখের নিয়মিত পরীক্ষা দরকার হতে পারে।
- সার্জারি, অসুস্থতা বা টিকার আগে প্রতিটি চিকিৎসক-দন্তচিকিৎসককে স্টেরয়েড খাওয়ার কথা জানান; বেশি মাত্রার চিকিৎসায় জীবন্ত টিকা সাধারণত এড়ানো হয়।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। Deflazacort-এর মিথস্ক্রিয়া:
- এনএসএআইডি ব্যথানাশক (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) — পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন — স্টেরয়েডে চিনি বাড়ে; মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
- রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটাল — স্টেরয়েড দ্রুত ভেঙে কার্যকারিতা কমায়।
- কিটোকোনাজল ও কিছু CYP3A4 বাধাদানকারী — ডেফলাজাকর্টের মাত্রা বাড়ায়; চিকিৎসক ডোজ কমাতে পারেন।
- ডাইউরেটিক — পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়ায়।
- ওয়ারফারিন — রক্ত পাতলা করার প্রভাব বদলাতে পারে; আইএনআর পরীক্ষায় রাখুন।
- জীবন্ত টিকা — উল্লেখযোগ্য মাত্রার চিকিৎসা চলাকালে সাধারণত দেওয়া হয় না।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- Deflazacort বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না
- চিকিৎসাবিহীন ব্যাপক (সিস্টেমিক) সংক্রমণে — সিস্টেমিক ছত্রাক সংক্রমণসহ
- বেশি মাত্রার (ইমিউনোসাপ্রেসিভ) চিকিৎসা চলাকালে জীবন্ত টিকা
- সক্রিয় যক্ষ্মা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মারাত্মক পেপটিক আলসার বা গুরুতর মানসিক রোগে কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
মায়ের রোগের কারণে প্রয়োজন হলে কেবল তখনই, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় গর্ভাবস্থায় Deflazacort ব্যবহৃত হয় — চিকিৎসা না করানো রোগই প্রায়শ বড় ঝুঁকি। দীর্ঘ ও বেশি মাত্রার ব্যবহারে শিশুর বৃদ্ধি নজরে রাখতে হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণ মাত্রায় স্তন্যদান প্রায়ই সম্ভব, বেশি মাত্রায় চিকিৎসক ডোজ থেকে দূরত্ব রেখে দুধ খাওয়াতে বলতে পারেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Dezert কখনো ব্যবহার করবেন না।
সংরক্ষণ
Dezert ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ওষুধটি মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রেডনিসোলনের চেয়ে কি Dezert নিরাপদ?
ডেফলাজাকর্ট প্রেডনিসোলন থেকেই তৈরি এবং একইভাবে কাজ করে। কিছু গবেষণা বলছে, সমতুল্য মাত্রায় এটি রক্তের চিনি, ওজন ও হাড়ের ওপর কিছুটা কম প্রভাব ফেলতে পারে — তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় চিকিৎসকেরা কখনো কখনো এটি বেছে নেন। তবে এটিও একটি স্টেরয়েড: খাবারের সঙ্গে খাওয়া, হঠাৎ বন্ধ না করা, সংক্রমণ ও হাড়ের যত্ন — স্টেরয়েডের সব সতর্কতাই Dezert-এর ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য।
Dezert হঠাৎ বন্ধ করলে কী হয়?
কয়েক সপ্তাহের বেশি স্টেরয়েড খেলে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিজের কর্টিসল তৈরি কমিয়ে দেয়। Dezert হঠাৎ বন্ধ করলে শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের ঘাটতি হয় — চরম দুর্বলতা, বমিভাব, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, এমনকি প্রাণঘাতী অ্যাড্রিনাল সংকট হতে পারে — আর মূল রোগও ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসকের নির্ধারিত নিয়মে মাত্রা সবসময় ধাপে ধাপে কমান।
আমার শিশু দীর্ঘদিন Dezert খেলে কী কী খেয়াল রাখব?
দীর্ঘমেয়াদে Dezert খাওয়া শিশুর ক্ষেত্রে — যেমন ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি বা নেফ্রোটিক সিনড্রোমে — বৃদ্ধি ও ওজন, ক্ষুধা, মেজাজ ও ঘুম খেয়াল রাখুন; জ্বর হলে বা জলবসন্ত-হামের রোগীর সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে জানান। ফলোআপে চিকিৎসক উচ্চতা, রক্তের চিনি, রক্তচাপ, হাড় ও চোখ পরীক্ষা করবেন। ওষুধ সকালে খাবারের সঙ্গে দিন এবং বিশেষজ্ঞের নির্দেশ ছাড়া কখনো বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।
সর্বশেষ হালনাগাদ: