ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Dexend 30 30 mg Capsule — Dexlansoprazole

Capsule

Dexend 30 30 mg Capsule

জেনেরিক: ডেক্সল্যানসোপ্রাজল

প্রস্তুতকারক: Labaid Pharmaceuticals Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Proton Pump Inhibitor (Dual Delayed-Release)

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Capsule ৳ 11.50
Strip of 10 ৳ 115.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Dexend 30 কী?

ডেক্সেন্ড ৩০ হলো ল্যাবএইড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেক্সল্যানসোপ্রাজল ৩০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল, যা ডুয়াল ডিলেইড-রিলিজ প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর। এটি গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ ও ইরোসিভ ইসোফেজাইটিসের মতো অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Dexend 30 30 mg capsule হলো Labaid Pharmaceuticals Ltd.-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Dexlansoprazole — একটি ডুয়াল ডিলেইড-রিলিজ প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই)। এটি গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি), ক্ষয়জনিত ইসোফেজাইটিস ও বুক জ্বালাপোড়ার মতো অ্যাসিডজনিত সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। Dexend 30-এর একটি সুবিধা হলো এটি সাধারণত খাবারের আগে-পরে যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে খাওয়া যায়।

Dexlansoprazole পাকস্থলীর প্রোটন পাম্প — অর্থাৎ অ্যাসিড তৈরির ক্ষুদ্র ব্যবস্থাগুলো — বন্ধ করে কাজ করে। এর বিশেষ দুই-ধাপের রিলিজ প্রযুক্তি ওষুধটিকে দুই পর্যায়ে রক্তে ছাড়ে, ফলে সাধারণ পিপিআই-এর তুলনায় দিন-রাত জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

Dexlansoprazole সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • জিইআরডি (অ্যাসিড রিফ্লাক্স) — বুক জ্বালাপোড়া ও টক ঢেকুরের উপশমে
  • ক্ষয়জনিত ইসোফেজাইটিস — অ্যাসিডে ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যনালি সারাতে ও সেরে ওঠা ধরে রাখতে
  • নন-ইরোসিভ রিফ্লাক্স ডিজিজ — ক্ষত ছাড়া বুক জ্বালাপোড়ার উপসর্গে
  • রাতের বুক জ্বালাপোড়া — দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতার কারণে রাতের অ্যাসিড উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

দীর্ঘ সময় অ্যাসিড দমন প্রয়োজন এমন অন্যান্য অবস্থাতেও চিকিৎসক এটি দিতে পারেন। কোন রোগে কত দিন খাবেন তা অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে Dexend 30-এর স্বাভাবিক মাত্রা রোগভেদে দিনে একবার ৩০ থেকে ৬০ মি.গ্রা.:

  • ক্ষয়জনিত ইসোফেজাইটিস সারাতে: সাধারণত দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা., সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত
  • জিইআরডি-র উপসর্গ ও রক্ষণাবেক্ষণে: সাধারণত দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা., ৪ সপ্তাহ বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো

Dexend 30 সাধারণত খাবারের আগে বা পরে যেকোনো সময় খাওয়া যায়। ক্যাপসুল গোটা গিলে খেতে হবে; চিবানো বা গুঁড়া করা যাবে না। সঠিক মাত্রা ও মেয়াদ অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ঠিক করবেন। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন ও বয়স অনুযায়ী শুধুমাত্র চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে ব্যবহার করতে হবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Dexlansoprazole সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • সাধারণ: ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমিভাব, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা
  • তুলনামূলক কম: কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চামড়ায় র‍্যাশ
  • দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে: রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাড় ভাঙা ও কিছু অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি সামান্য বাড়া

বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হালকা এবং নিজে থেকেই সেরে যায়। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, অস্বাভাবিক মাংসপেশির খিঁচুনি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

সতর্কতা

Dexlansoprazole খাওয়ার আগে যে সতর্কতাগুলো জানা জরুরি:

  • লিভারের রোগ, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কম, হাড় ক্ষয় বা আগের ফ্র্যাকচারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত; সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ব্যবহার করুন
  • পিপিআই পাকস্থলীর ক্যানসারের লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে — ওজন কমা, রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো বিপদচিহ্ন থাকলে আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি
  • দীর্ঘ কোর্সে সি. ডিফিসিল ডায়রিয়ার ঝুঁকি এবং ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২-এর মাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে
  • নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ বা দীর্ঘায়িত করবেন না; চিকিৎসকের পরিকল্পনা মেনে চলুন

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Dexlansoprazole বেশ কিছু ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে, মূলত পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে বা লিভারের এনজাইমে প্রভাব ফেলে:

  • শোষণে অ্যাসিড প্রয়োজন এমন ওষুধ: কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, আয়রন এবং কিছু এইচআইভি-র ওষুধের (যেমন আটাজানাভির, রিলপিভিরিন) কার্যকারিতা কমতে পারে
  • ক্লোপিডোগ্রেল: রক্ত জমাট-রোধী কার্যকারিতা কমতে পারে; চিকিৎসক ঝুঁকি বিবেচনা করবেন
  • ওয়ারফারিন: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বদলাতে পারে; আইএনআর পরীক্ষা লাগতে পারে
  • মেথোট্রেক্সেট: উচ্চমাত্রার মেথোট্রেক্সেটের রক্তমাত্রা বাড়তে পারে
  • ডিগক্সিন ও ট্যাক্রোলিমাস: রক্তমাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে

আপনি যেসব ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা ভেষজ পণ্য খান, সবকিছু চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের পরিস্থিতিতে Dexlansoprazole ব্যবহার করা উচিত নয়:

  • ডেক্সল্যানসোপ্রাজল, অন্য কোনো পিপিআই বা ওষুধটির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • রিলপিভিরিনযুক্ত এইচআইভি-র ওষুধের সঙ্গে একত্রে — অ্যাসিড কমে যাওয়ায় ওই ওষুধের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়
  • আগে কোনো পিপিআই থেকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া (যেমন কিডনির ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস বা মারাত্মক চর্মরোগ) হয়ে থাকলে

গুরুতর লিভার রোগে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বাড়তি সতর্কতায় ব্যবহার করতে হবে। অ্যাসিড কমানোর কোনো ওষুধে আগে খারাপ প্রতিক্রিয়া হলে শুরুতেই চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ডেক্সল্যানসোপ্রাজল নিয়ে মানুষের ওপর তথ্য সীমিত। প্রাণী-গবেষণায় স্পষ্ট ক্ষতি দেখা যায়নি, তবে সম্ভাব্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে এবং শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকরা সাধারণত দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-রেকর্ডসম্পন্ন ওষুধ পছন্দ করেন।

স্তন্যদান: ডেক্সল্যানসোপ্রাজল মায়ের দুধে যায় কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই; একই গোত্রের পিপিআই অল্প পরিমাণে দুধে যায়। স্তন্যদানকারী মা কেবল তখনই এটি খাবেন, যখন চিকিৎসক মায়ের উপকার ও শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রয়োজন মনে করবেন।

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত capsule মূল ব্লিস্টার বা পাত্রে রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। প্যাকেটে লেখা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না এবং বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Dexend 30 কি খাবারের পরে খাওয়া যায়, নাকি অবশ্যই খাবারের আগে খেতে হবে?

Dexend 30-এ আছে ডেক্সল্যানসোপ্রাজল — একটি ডুয়াল ডিলেইড-রিলিজ পিপিআই, তাই এটি সাধারণত খাবারের আগে বা পরে, দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে খাওয়া যায়। সাধারণ পিপিআই খাবারের ৩০-৬০ মিনিট আগে খেলে ভালো কাজ করে, কিন্তু এটির সে বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতিদিন একই সময়ে খেলে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ ভালো থাকে। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন।

সাধারণ ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজলের সঙ্গে Dexend 30-এর পার্থক্য কী?

Dexend 30-এর ডুয়াল ডিলেইড-রিলিজ প্রযুক্তি ডেক্সল্যানসোপ্রাজলকে দুই ধাপে রক্তে ছাড়ে — একবার শুরুতে, আরেকবার কয়েক ঘণ্টা পরে। ফলে অ্যাসিড দমনের সময়কাল দীর্ঘ হয়, যা রাতের বুক জ্বালাপোড়ায় বিশেষ সহায়ক, আর খাবারের সময়ের ওপরও নির্ভর করতে হয় না। ওমিপ্রাজলের মতো সাধারণ পিপিআই একবারে রিলিজ হয় এবং সাধারণত সকালের নাশতার আগে খেতে হয়। আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।

Dexend 30 কত দিন পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যায়?

চিকিৎসার মেয়াদ রোগের ওপর নির্ভর করে। ক্ষয়জনিত ইসোফেজাইটিস সারানোর কোর্স সাধারণত ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত, আর জিইআরডি-র উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে প্রায়ই ৪ সপ্তাহ লাগে। কারও কারও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসা দরকার হয়, তবে তা অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হতে হবে — তিনি নিয়মিত পর্যালোচনা করে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ঠিক করবেন। নিজে থেকে মাসের পর মাস Dexend 30 চালিয়ে যাবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: