See in English

ট্যাবলেট

Depomed 16 mg ট্যাবলেট

জেনেরিক: মিথাইলপ্রেডনিসোলন

প্রস্তুতকারক: Drug International Ltd., Squib Road

থেরাপিউটিক ক্লাস: Oral corticosteroid (glucocorticoid)

Depomed 16 এর কাজ কি?

Depomed 16 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান মিথাইলপ্রেডনিসোলন 16 mg, প্রস্তুতকারক Drug International Ltd., Squib Road। থেরাপিউটিক ক্লাস: Oral corticosteroid (glucocorticoid)।

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি ট্যাবলেট ৳ 20.00
Tablet ৳ 20.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Depomed 16 কী?

Depomed 16 হলো Drug International Ltd., Squib Road-এর ১৬ মি.গ্রা. মিথাইলপ্রেডনিসোলন ট্যাবলেট। এটি মুখে খাওয়ার কর্টিকোস্টেরয়েড, যা অ্যালার্জি, হাঁপানির তীব্রতা, আর্থ্রাইটিস ও কিছু অটোইমিউন রোগে প্রদাহ ও রোগপ্রতিরোধের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Depomed 16 16 mg tablet প্রস্তুত করে Drug International Ltd., Squib Road। এতে রয়েছে Methylprednisolone, মুখে খাওয়ার একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা তীব্র অ্যালার্জি, হাঁপানি বেড়ে যাওয়া, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ ত্বক, কিডনি, অন্ত্র ও অটোইমিউন নানা রোগে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও অতিসক্রিয় রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি শক্তিশালী প্রেসক্রিপশন ওষুধ — ঠিক নির্দেশমতো খেতে হবে এবং কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না।

Methylprednisolone হলো অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে তৈরি হরমোন কর্টিসলের কৃত্রিম রূপ। এটি দেহকোষে ঢুকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক তৈরির জিনগুলো বন্ধ করে দেয় — ফলে ফোলা, লালভাব, ব্যথা এবং শরীরের নিজের টিস্যুর ওপর রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ কমে। অনেকগুলো অঙ্গ-ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে বলে চিকিৎসক আপনার রোগ বুঝে Depomed 16-এর মাত্রা ও মেয়াদ সতর্কভাবে ঠিক করেন।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

প্রদাহজনিত, অ্যালার্জিজনিত ও রোগ-প্রতিরোধ-সংক্রান্ত বহু রোগে চিকিৎসকেরা Depomed 16 দেন, যেমন:

  • তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, মারাত্মক আমবাত বা ওষুধজনিত অ্যালার্জি
  • হাঁপানি ও সিওপিডি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং ফুসফুসের আরও কিছু রোগ
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস (SLE) ও অন্যান্য অস্থিসন্ধি ও কানেকটিভ টিস্যুর রোগ
  • মারাত্মক চর্মরোগ — যেমন বিস্তৃত একজিমা, লাইকেন প্ল্যানাস বা পেমফিগাস
  • নেফ্রোটিক সিনড্রোমসহ কিডনির কিছু রোগ
  • আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোন্স ডিজিজ
  • রক্তের কিছু রোগ — যেমন আইটিপি ও অটোইমিউন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া

রোগ, মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ রোগীভেদে অনেক আলাদা — যে রোগের জন্য দেওয়া হয়েছে Depomed 16 শুধু সেই রোগেই ব্যবহার করুন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Depomed 16 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বল্পমেয়াদি কোর্সে Depomed 16 সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • ক্ষুধা ও ওজন বেড়ে যাওয়া
  • পেট খারাপ, বুক জ্বালা বা বদহজম
  • মেজাজ বদলে যাওয়া, খিটখিটে ভাব, ঘুমে অসুবিধা
  • রক্তের সুগার ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
  • মুখ গোল হয়ে যাওয়া, শরীরে পানি জমা ও ফোলা

দীর্ঘ ব্যবহারে: হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), পেশির দুর্বলতা, ত্বক পাতলা হয়ে সহজে কালশিটে পড়া, ছানি বা গ্লুকোমা, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি, শিশুর বৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি বন্ধ হয়ে যাওয়া। Depomed 16 চলাকালে কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন, সংক্রমণের লক্ষণ বা মেজাজের মারাত্মক পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

  • Depomed 16 কখনোই হঠাৎ বন্ধ করবেন না — কয়েক দিনের বেশি খেলে শরীর নিজের স্টেরয়েড তৈরি কমিয়ে দেয়; হঠাৎ বন্ধে অ্যাড্রিনাল ক্রাইসিস হতে পারে — টেপারের পরিকল্পনা মেনে চলুন
  • খাবারের সঙ্গে খান; আগে পাকস্থলীর আলসার থাকলে চিকিৎসককে জানান
  • সংক্রমণের ঝুঁকি: জলবসন্ত, হাম বা অন্য সংক্রমণ আছে এমন কারও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন; জ্বর বা অসুস্থ লাগলে দ্রুত জানান — স্টেরয়েড সংক্রমণের স্বাভাবিক লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে
  • ডায়াবেটিস: স্টেরয়েড রক্তের সুগার বাড়ায়, তাই ঘন ঘন সুগার মাপুন; ইনসুলিন বা ট্যাবলেটের মাত্রা সমন্বয়ের দরকার হতে পারে
  • দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রক্তচাপ, চোখ ও হাড় পরীক্ষা করাতে হবে; ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দেওয়া হতে পারে
  • আপনি স্টেরয়েড খাচ্ছেন — এ কথা প্রতিটি চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক ও সার্জনকে বলুন; চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া জীবন্ত (লাইভ) টিকা নেবেন না

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

অনেক ওষুধই Depomed 16-এর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। আপনি যা যা খান সব চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে:

  • এনএসএআইডি ব্যথানাশক — অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক: স্টেরয়েডের সঙ্গে মিলে পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন — স্টেরয়েড সুগার বাড়ায়, তাই মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে
  • ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ওষুধ — কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে; ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার
  • ডাইউরেটিক (পানি বের করার ওষুধ) — পটাশিয়াম ক্ষয় বাড়িয়ে দুর্বলতা বা বুক ধড়ফড় ঘটাতে পারে
  • রিফাম্পিসিন, ফিনাইটয়েন, কার্বামাজেপিন — স্টেরয়েড দ্রুত ভেঙে ফেলে কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়
  • কিটোকোনাজল ও কিছু এইচআইভির ওষুধ — স্টেরয়েডের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়
  • জীবন্ত (লাইভ) টিকা — উল্লেখযোগ্য মাত্রার স্টেরয়েড চলাকালে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Depomed 16 খাবেন না:

  • মিথাইলপ্রেডনিসোলন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
  • শরীরজুড়ে ছড়ানো (সিস্টেমিক) ছত্রাক সংক্রমণ থাকলে
  • রোগ-প্রতিরোধ দমনকারী মাত্রার স্টেরয়েড চলাকালে জীবন্ত টিকা নেওয়ার কথা থাকলে — চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া

সক্রিয় বা আগের যক্ষ্মা, চিকিৎসা না হওয়া সংক্রমণ, পাকস্থলীর আলসার, মারাত্মক ডায়াবেটিস, তীব্র উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুকোমা, হাড় ক্ষয় ও গুরুতর মানসিক রোগে Depomed 16 ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা — কখনো আগে বাড়তি চিকিৎসা — দরকার হয়। চিকিৎসক এসব ঝুঁকি বিবেচনা করেই ওষুধটি দেবেন।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থায়: মায়ের উপকার শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি — কেবল এমন বিবেচনায় চিকিৎসক গর্ভাবস্থায় Methylprednisolone দেন; যেমন তীব্র হাঁপানি বা অটোইমিউন রোগে, যেখানে চিকিৎসা না করা রোগটিই বেশি বিপজ্জনক। দীর্ঘ বা উচ্চ মাত্রার ব্যবহারে মা ও শিশুর ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় Depomed 16 শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

স্তন্যদানকালে: সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়। স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত স্তন্যদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধরা হয়; মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে দুধ খাওয়াতে বলতে পারেন। আপনার মাত্রা ও খাওয়ানোর সময়সূচি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

সংরক্ষণ

Depomed 16 ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টার প্যাকেই রাখুন।

  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না
  • ভবিষ্যতের অসুখে নিজে নিজে খাওয়ার জন্য বেঁচে যাওয়া ট্যাবলেট রেখে দেবেন না — স্টেরয়েড সবসময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খেতে হয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →