ট্যাবলেট
Bpnol 50 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: অ্যাটেনোলল
প্রস্তুতকারক: Delta Pharma Limited
থেরাপিউটিক ক্লাস: Beta-Blocker (Cardioselective)
Bpnol এর কাজ কি?
Bpnol (ট্যাবলেট)-এর উপাদান অ্যাটেনোলল 50 mg, প্রস্তুতকারক Delta Pharma Limited। থেরাপিউটিক ক্লাস: Beta-Blocker (Cardioselective)।
Bpnol কী?
Bpnol 50 mg Tablet-এ আছে atenolol, যা Delta Pharma Limited-এর তৈরি একটি cardioselective beta-blocker। এটি উচ্চ রক্তচাপ ও angina-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এবং কিছু হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাকের পরও চিকিৎসক দিতে পারেন।
Bpnol 50 mg tablet হলো Delta Pharma Limited-এর একটি ওষুধ, যাতে রয়েছে Atenolol — একটি কার্ডিওসিলেকটিভ বিটা-ব্লকার। এটি উচ্চ রক্তচাপ, অ্যানজাইনা (বুকে ব্যথা) ও কিছু অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের চিকিৎসায় এবং হার্ট অ্যাটাকের পরে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
অ্যাটেনোলল মূলত হৃদযন্ত্রের বিটা রিসেপ্টরগুলো ব্লক করে। এতে হৃদস্পন্দনের গতি ও প্রতিটি স্পন্দনের জোর কমে, ফলে হার্টকে কম পরিশ্রম করতে হয় এবং অক্সিজেনের চাহিদা কমে। এর ফলে রক্তচাপ কমে, বুকের ব্যথা কম হয় এবং হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল থাকে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) — এককভাবে বা অন্য ওষুধের সাথে
- অ্যানজাইনা — পরিশ্রমজনিত বুকে ব্যথা প্রতিরোধে
- হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (অ্যারিদমিয়া) — দ্রুত বা অনিয়মিত স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে
- হার্ট অ্যাটাকের পরে — পরবর্তী ঝুঁকি কমাতে
- কখনো কখনো মাইগ্রেন প্রতিরোধে (চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে)
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Bpnol 50 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অ্যাটেনোললের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- নাড়ির গতি কমে যাওয়া (ব্র্যাডিকার্ডিয়া), ক্লান্তি, দুর্বলতা
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা
- মাথা ঘোরা, বিশেষত দাঁড়ালে
- ঘুমের সমস্যা, অদ্ভুত স্বপ্ন, মন খারাপ ভাব
- পেটের অস্বস্তি, বমিভাব
- হাঁপানি/সিওপিডি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
- কিছু পুরুষে যৌন দুর্বলতা
- নাড়ি খুব ধীর হলে, অজ্ঞান হলে, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা পায়ের গোড়ালি ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসক দেখান
সতর্কতা
- নিয়মিত নাড়ি ও রক্তচাপ মাপুন; রেকর্ড রাখুন এবং চিকিৎসককে দেখান।
- হাঁপানি, সিওপিডি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি রোগ বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ডায়াবেটিস রোগীরা সাবধান: অ্যাটেনোলল রক্তে সুগার কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ (বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা) ঢেকে দিতে পারে — সুগার নিয়মিত মাপুন।
- ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা হতে পারে — গাড়ি চালানোর আগে নিজের অবস্থা বুঝে নিন।
- যেকোনো অপারেশন বা অজ্ঞান করার আগে চিকিৎসক/ডেন্টিস্টকে জানান।
- কিডনি রোগে মাত্রা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভেরাপামিল, ডিলটিয়াজেম (ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার): হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে ধীর হতে পারে — একসাথে দিলে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ: চাপ ও নাড়ি বেশি কমে যেতে পারে
- ডিগক্সিন, অ্যামিওডারন: হৃদস্পন্দন আরও ধীর হতে পারে
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ: সুগার কমার লক্ষণ ঢাকা পড়তে পারে
- ব্যথানাশক NSAID (আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক): রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমাতে পারে
- ক্লোনিডিন: যেকোনোটি বন্ধ করার সময় বিশেষ সতর্কতা দরকার
- সালবিউটামল ও হাঁপানির ইনহেলার: বিটা-ব্লকার এদের কার্যকারিতা কমাতে পারে
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- অ্যাটেনোলল বা অন্য বিটা-ব্লকারে অ্যালার্জি
- খুব ধীর হৃদস্পন্দন বা পেসমেকার ছাড়া নির্দিষ্ট হার্ট ব্লক (সেকেন্ড/থার্ড ডিগ্রি)
- কার্ডিওজেনিক শক বা অনিয়ন্ত্রিত মারাত্মক হার্ট ফেইলিউর
- হাত-পায়ের রক্ত চলাচলের মারাত্মক সমস্যা
- চিকিৎসা-না-হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা
- মারাত্মক হাঁপানি বা তীব্র শ্বাসনালি সংকোচনের ইতিহাস (চিকিৎসক অপরিহার্য মনে করলে ভিন্ন কথা)
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় অ্যাটেনোলল সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, বিশেষত শুরুর দিকে, কারণ এতে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসক সাধারণত ল্যাবেটালল বা মিথাইলডোপার মতো নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেবেন।
স্তন্যদান: অ্যাটেনোলল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং শিশুর হৃদস্পন্দন ধীর করতে পারে। দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ট্যাবলেট মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডায়াবেটিস রোগী কি নিরাপদে Bpnol খেতে পারেন?
হ্যাঁ, অনেক ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে Bpnol খান, তবে একটি সতর্কতা জরুরি: বিটা-ব্লকার রক্তে সুগার কমে যাওয়ার আগাম লক্ষণগুলো — যেমন বুক ধড়ফড় ও হাত কাঁপা — ঢেকে দিতে পারে। তবে ঘাম সাধারণত তখনও হয়। ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া ট্যাবলেট খেলে সুগার আরও নিয়মিত মাপুন, ঘামকে সতর্ক সংকেত হিসেবে চিনে রাখুন এবং অকারণ ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি হলে চিকিৎসককে জানান।