See in English

সাসপেনশন পাউডার

Binoclar 125 mg/5 ml সাসপেনশন পাউডার

জেনেরিক: ক্লারিথ্রোমাইসিন

প্রস্তুতকারক: Nevian Lifescience PLC

থেরাপিউটিক ক্লাস: Macrolide Antibiotic

Binoclar এর কাজ কি?

Binoclar (সাসপেনশন পাউডার)-এর উপাদান ক্লারিথ্রোমাইসিন 125 mg/5 ml, প্রস্তুতকারক Nevian Lifescience PLC। থেরাপিউটিক ক্লাস: Macrolide Antibiotic।

Binoclar কী?

Binoclar 125 mg/5 ml Powder For Suspension-এ আছে clarithromycin, যা একটি macrolide antibiotic। এটি শ্বাসনালি, কান, গলা ও ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহৃত হয় এবং Helicobacter pylori সংক্রমণে অন্য ওষুধের সাথে ব্যবহার হতে পারে।

Binoclar 125 mg/5 ml powder for suspension হল Nevian Lifescience PLC-এর একটি ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক, যার জেনেরিক উপাদান Clarithromycin। বাংলাদেশে চিকিৎসকরা সাধারণত বুকের সংক্রমণ, গলা ও সাইনাসের সংক্রমণ, কিছু ত্বকের সংক্রমণ এবং কম্বিনেশন থেরাপির অংশ হিসেবে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরিজনিত পাকস্থলীর আলসারে এটি লিখে থাকেন। এটি শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনে বিক্রয়যোগ্য; সাধারণ সর্দি-কাশিতে নিজে নিজে কিনে খাবেন না।

Clarithromycin ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরির যন্ত্র (রাইবোজোম) আটকে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে ও ছড়াতে পারে না এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণ দূর করে ফেলে। এটি কেবল ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে—সর্দি, ফ্লু বা ডেঙ্গুর মতো ভাইরাসজনিত রোগে Binoclar কোনো কাজ করে না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

যেসব সংক্রমণে ক্লারিথ্রোমাইসিন-সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া দায়ী, সেখানে Binoclar ব্যবহৃত হয়:

  • শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ: গলাব্যথা/টনসিলাইটিস, সাইনোসাইটিস, মধ্যকর্ণের সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া
  • ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ
  • পেপটিক আলসারে এইচ. পাইলোরি নির্মূলে—অ্যামোক্সিসিলিন ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের সাথে কম্বিনেশন থেরাপি হিসেবে
  • বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কিছু অ্যাটিপিক্যাল মাইকোব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ

ভাইরাসজনিত গলাব্যথা, সর্দি বা সাধারণ ডায়রিয়ায় এটি ব্যবহার করবেন না; Binoclar আপনার জন্য উপযুক্ত কি না তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Binoclar 125 mg/5 ml সাসপেনশন পাউডার-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অধিকাংশ মানুষ Binoclar ভালোভাবে সহ্য করেন, তবে হতে পারে:

  • মুখে ধাতব বা তেতো স্বাদ—খুবই সাধারণ ও ক্ষতিকর নয়; কোর্স শেষে চলে যায়
  • বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, বদহজম বা ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ঘুমের সমস্যা
  • দীর্ঘ ব্যবহারে মুখে বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ (থ্রাশ)

বিরল কিন্তু গুরুতর: তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, চোখ-চামড়া হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, তীব্র চর্মফুসকুড়ি। এমন হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

সতর্কতা

Binoclar শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনে ব্যবহারযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিক। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেনা ও মাঝপথে কোর্স বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংকটে। দুই-তিন দিনে ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন—আগে বন্ধ করলে শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে প্রতিরোধী সংক্রমণ হয়ে ফিরে আসে।

  • হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, ধীর হৃদগতি বা রক্তে কম পটাশিয়াম থাকলে আগেই জানান (কিউটি ইন্টারভ্যাল দীর্ঘ হওয়ার ঝুঁকি)
  • লিভার, কিডনি রোগ বা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে সতর্কভাবে ব্যবহার করুন
  • চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র ডায়রিয়া হলে দেরি না করে চিকিৎসককে জানান

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

ক্লারিথ্রোমাইসিন লিভারের একটি এনজাইম (CYP3A4) বন্ধ করে বলে বহু ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে। আপনি যা যা খান সব চিকিৎসককে জানান, বিশেষত:

  • কোলেস্টেরলের ওষুধ (স্ট্যাটিন): সিমভাস্ট্যাটিন ও লোভাস্ট্যাটিন Binoclar-এর সাথে একেবারেই চলবে না—মারাত্মক মাংসপেশি ক্ষতির ঝুঁকি; অ্যাটরভাস্ট্যাটিনে সতর্কতা দরকার
  • ডমপেরিডনসহ হৃদস্পন্দন প্রভাবিতকারী ওষুধ—বিপজ্জনক হার্ট রিদমের ঝুঁকি
  • ওয়ারফারিন, ডিগক্সিন, থিওফাইলিন, কার্বামাজেপিন, কলচিসিন ও আর্গট-জাতীয় ওষুধ
  • কিছু ডায়াবেটিস, ঘুম ও মানসিক রোগের ওষুধ

কোর্স চলাকালে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে না জিজ্ঞেস করে নতুন কোনো ওষুধ বা হারবাল পণ্য শুরু করবেন না।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিচের ক্ষেত্রে Binoclar খাবেন না:

  • ক্লারিথ্রোমাইসিন, এরিথ্রোমাইসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন বা অন্য কোনো ম্যাক্রোলাইডে অ্যালার্জি থাকলে
  • কিউটি দীর্ঘায়ন বা ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়ার ইতিহাস, কিংবা অসংশোধিত কম পটাশিয়াম/ম্যাগনেসিয়াম থাকলে
  • সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, আর্গটামিন, টিকাগ্রেলর, রেনোলাজিন বা মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম চলমান থাকলে
  • কিডনি সমস্যাসহ গুরুতর লিভার অকার্যকারিতা থাকলে
  • কলচিসিন সেবনের পাশাপাশি কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে

Binoclar শুরুর আগে আপনার সব ওষুধের তালিকা ও অ্যালার্জির ইতিহাস চিকিৎসককে দেখান।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে ক্লারিথ্রোমাইসিন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; প্রাণী-গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা গেছে। নিরাপদ বিকল্প না থাকলে কেবল চিকিৎসকের বিবেচনায় এটি ব্যবহারযোগ্য। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে Binoclar শুরুর আগে অবশ্যই জানান।

স্তন্যদান: অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়। স্বল্পমেয়াদি কোর্স সাধারণত স্তন্যদানে গ্রহণযোগ্য, তবে শিশুর পাতলা পায়খানা, মুখে ঘা (থ্রাশ) বা খাওয়ায় অনীহা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

সংরক্ষণ

Binoclar ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন—বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় বাথরুমের তাক বা গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখবেন না। ওষুধ মূল প্যাকেট বা বোতলে, ভালোভাবে বন্ধ অবস্থায়, শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।

  • পানি মেশানো সাসপেনশন ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন—ফ্রিজে রাখবেন না (ঠান্ডায় তেতো ও ঘন হয়ে যেতে পারে); ১৪ দিন পর অবশিষ্টটুকু ফেলে দিন
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কখনও ব্যবহার করবেন না
  • অব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ড্রেনে না ফেলে সম্ভব হলে ফার্মেসিতে ফেরত দিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভালো বোধ করলে কি Binoclar মাঝপথে বন্ধ করা যাবে?

না। ভালো লাগা মানে দুর্বল ব্যাকটেরিয়া মরেছে, কিন্তু শক্তিশালীগুলো তখনও বেঁচে আছে। মাঝপথে Binoclar বন্ধ করলে সেগুলো আবার বেড়ে ওঠে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে যায়—বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংকটের এটিই বড় কারণ। চিকিৎসক যত দিন বলেছেন, উপসর্গ চলে গেলেও ঠিক তত দিনই খান। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কষ্ট হলে নিজে বন্ধ না করে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

👨‍⚕️ ডাক্তার দেখাবেন? বাংলাদেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন →