ChamberBD Logo ChamberBD
See in English
Amoxguard 500 500 mg Capsule — Amoxicillin

Capsule

Amoxguard 500 500 mg Capsule

জেনেরিক: অ্যামোক্সিসিলিন

প্রস্তুতকারক: Guardian Healthcare Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Penicillin (aminopenicillin) antibiotic

দাম (বাংলাদেশ)

প্যাক মূল্য (টাকা)
প্রতি Capsule ৳ 6.00
Capsule ৳ 6.00

দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

Amoxguard 500 কী?

Amoxguard 500 হলো Guardian Healthcare Ltd.-এর অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল, যা পেনিসিলিন ধরনের অ্যামিনোপেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক। চিকিৎসকের পরামর্শে এটি সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত কান, গলা, সাইনাস, বুক, মূত্রনালি, ত্বক ও দাঁতের সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।

Guardian Healthcare Ltd.-এর তৈরি Amoxguard 500 500 mg capsule-এ রয়েছে Amoxicillin, যা পেনিসিলিন গ্রুপের একটি বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক। গলা, কান, সাইনাস, বুক, মূত্রনালি ও ত্বকের নানা সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয় এবং বড় ও ছোট উভয়ের জন্যই এটি সবচেয়ে বেশি লেখা অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি। Amoxguard 500 একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ এবং অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী খেতে হবে।

Amoxicillin ব্যাকটেরিয়ার চারপাশের সুরক্ষাকারী কোষপ্রাচীর দুর্বল করে দেয়। ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পাওয়ার চেষ্টা করলে এই ক্ষতিগ্রস্ত প্রাচীর ফেটে গিয়ে কোষ মারা যায়। এটি কেবল ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকা একটি গঠনকে লক্ষ্য করে বলে সর্দি, ফ্লু বা সাধারণ কাশি-গলাব্যথার মতো ভাইরাসজনিত রোগে Amoxguard 500 কাজ করে না।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

  • গলা ও টনসিলের সংক্রমণ
  • মধ্যকর্ণের সংক্রমণ
  • সাইনাসের প্রদাহ ও কিছু বুকের সংক্রমণ
  • মূত্রনালির সংক্রমণ
  • ত্বক ও দাঁতের সংক্রমণ
  • পাকস্থলীর H. pylori আলসারের সম্মিলিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে

সেবনবিধি ও মাত্রা

Amoxguard 500-এর মাত্রা সংক্রমণ ও তার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। বড়দের জন্য সাধারণ মাত্রা প্রায় ২৫০–৫০০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার, অথবা ৫০০–৮৭৫ মি.গ্রা. দিনে দুইবার, ৫ থেকে ৭ দিন; কিছু সংক্রমণে চিকিৎসক ভিন্ন মেয়াদের কোর্স দিতে পারেন। Amoxguard 500 খাবারের সঙ্গে বা ছাড়া—দুভাবেই খাওয়া যায়।

শিশুদের মাত্রা ওজনের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং তা অবশ্যই চিকিৎসক ঠিক করবেন — নিজে অনুমান করবেন না। দিনের মধ্যে সমান ব্যবধানে ডোজ নিন এবং পুরো কোর্স শেষ করুন। কোনো ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়া মাত্র খেয়ে নিন, তবে পরের ডোজের সময় প্রায় হয়ে গেলে বাদ দিন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Amoxicillin সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তা সাধারণত মৃদু হয়, যেমন:

  • বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া
  • হালকা চামড়ার র‌্যাশ
  • বদহজম বা পাতলা পায়খানা
  • দীর্ঘ ব্যবহারে মুখ বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ

গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ — ছড়িয়ে পড়া র‌্যাশ বা আমবাত, মুখ-ঠোঁট-গলা ফুলে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন। চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা রক্তযুক্ত ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

সতর্কতা

Amoxguard 500 একটি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক — কখনো নিজে থেকে খাবেন না। শুধু নিবন্ধিত চিকিৎসক লিখে দিলে খান, পরামর্শ ছাড়া কিনবেন না বা কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। সবসময় নির্ধারিত পুরো কোর্স শেষ করুন, ভালো বোধ করতে শুরু করলেও — তাড়াতাড়ি বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্ত ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে সংক্রমণ আরও জেদি হয়ে ফিরে আসে।

Amoxicillin-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অ্যালার্জি: পেনিসিলিন বা কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে কখনো অ্যালার্জি হয়ে থাকলে চিকিৎসককে অবশ্যই জানান। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশে একটি মারাত্মক জাতীয় সংকট, আর এ ধরনের ওষুধের অপ্রয়োজনীয় বা অসম্পূর্ণ ব্যবহার সরাসরি তা বাড়িয়ে তোলে।

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

আপনি যে সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট খান তা চিকিৎসককে জানান। Amoxicillin-এর উল্লেখযোগ্য বিক্রিয়াগুলো হলো:

  • অ্যালোপিউরিনল — চামড়ায় র‌্যাশের ঝুঁকি বাড়ায়
  • মেথোট্রেক্সেট — এর বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে
  • ওয়ারফারিন — রক্তক্ষরণের প্রবণতা বদলে যেতে পারে
  • মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা — কার্যকারিতা কমতে পারে
  • টেট্রাসাইক্লিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এর কাজ কমাতে পারে

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

এই অবস্থাগুলোতে Amoxguard 500 খাবেন না:

  • অ্যামোক্সিসিলিন, পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে কখনো অ্যালার্জি হয়ে থাকলে
  • আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে তীব্র র‌্যাশ, ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকলে

কিডনি রোগ, গ্ল্যান্ডুলার ফিভার বা হাঁপানি ও অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুন ও চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলো Amoxguard 500 উপযুক্ত কিনা তা প্রভাবিত করতে পারে।

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

সত্যিকার প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় Amoxicillin সাধারণত গ্রহণযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে তা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই খাওয়া উচিত। গর্ভবতী হলে বা সন্দেহ থাকলে চিকিৎসককে অবশ্যই জানান।

সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায় এবং তা সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়, যদিও শিশুর মাঝে মাঝে পাতলা পায়খানা বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। স্তন্যদানের কথা চিকিৎসককে জানান, যাতে আপনার ও শিশুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

সংরক্ষণ

Amoxguard 500 মূল প্যাকেটে, ৩০°C-এর নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের জন্য পানি মিশিয়ে তৈরি সিরাপ পরামর্শ অনুযায়ী (প্রায়ই ফ্রিজে) রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট কয়েক দিন পর ফেলে দিতে হবে। সব ধরন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং মেয়াদ শেষে ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমি Amoxguard 500-এ অ্যালার্জিক কিনা কীভাবে বুঝব?

শুরু করার আগে পেনিসিলিন বা কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে কখনো প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান। Amoxguard 500-এ অ্যালার্জির লক্ষণ হলো চুলকানিযুক্ত আমবাত, ঠোঁট-মুখ-গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসে শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট — কখনো ডোজের কয়েক মিনিটের মধ্যেই। তীব্র প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) একটি জরুরি অবস্থা — সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বন্ধ করে সাহায্য নিন। পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে সম্পর্কিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই এটি সবসময় আপনার মেডিকেল রেকর্ডে রাখুন।

দুই দিনেই ভালো লাগছে — বাকি Amoxguard 500 কি পরের বারের জন্য রেখে দিতে পারি?

না। Amoxguard 500 আগেভাগে বন্ধ করা বা অবশিষ্ট ক্যাপসুল রেখে দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম প্রধান কারণ। ভালো লাগা মানে ওষুধ কাজ করছে, কিন্তু ব্যাকটেরিয়া তখনো থাকে; এখন বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্ত ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে বংশবৃদ্ধি করে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে ওঠে। রেখে দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ভবিষ্যতের রোগে প্রায়ই ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা হয়। সবসময় চিকিৎসকের দেওয়া পুরো কোর্স শেষ করুন, কিছু রেখে দেবেন না। বাংলাদেশে এই অভ্যাস চিকিৎসা-অযোগ্য সংক্রমণের জাতীয় উত্থানে ভূমিকা রাখছে।

Amoxguard 500 কি খাবারের সঙ্গে খাব, আর এটা কি আমার সর্দি সারাবে?

Amoxguard 500 খাবারের সঙ্গে বা ছাড়া—দুভাবেই খাওয়া যায়; সামান্য খাবারের সঙ্গে খেলে পেটের অস্বস্তি কমে। তবে সাধারণ সর্দি, ফ্লু বা বেশিরভাগ গলাব্যথা-কাশিতে এটি কাজে আসবে না, কারণ এগুলো ভাইরাসজনিত, ব্যাকটেরিয়াজনিত নয়। ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কোনো উপকার নেই বরং রেজিস্ট্যান্স বাড়ে। চিকিৎসক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিশ্চিত করলে তবেই প্রেসক্রিপশনে লেখা সময় ও মাত্রায় Amoxguard 500 খান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: